চাকরি

আক্তার বানু আলপনা

– তোর বর কী তোর বাড়ির কাজের মেয়ের নাম জানে?

বান্ধবী তুলির এমন অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে মীরা কিছুটা অবাক। কাজের মেয়ের নাম জানার সাথে খায়রুলের সাথে তার সমস্যার সম্পর্ক কী?

কলেজে ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। এখন দু’জনেই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আলাদা ডিপার্টমেন্টে। বান্ধবীর কাছে সমস্যার কথা বলতে সঙ্কোচ হওয়া উচিত নয়। তবু মীরার অস্বস্তি হচ্ছিল খুব। অনেক চিন্তাভাবনার পর আজ সে এসেছে। নিতান্ত বাধ্য হয়ে। তুলি যেমন ভালো শিক্ষক, তেমনি ভালো লেখকও। মীরা নিয়মিত ওর লেখা পড়ে। তাছাড়া তুলির সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে ভীষণ সাহসী এবং দূরদর্শী।

– না। একেকবার একেক নামে ডাকে। আমার কাজের মেয়েটার নাম জরিনা। খায়রুল ওকে কখনো সকিনা, কখনো রুকিনা বলে ডাকে।
– লোকের নাম, চেহারা মনে রাখতে পারে?
– না। প্রায়ই ভুলে যায়।
– কখনো আগ বাড়িয়ে কারো সাথে আলাপ করে?
– একদম না। সবসময় সে ভাব নিয়ে বসে থাকে।
– কোন সমস্যা নিয়ে তোর সাথে আলাপ করে? মানে তোর পরামর্শ চায়?
– না। একা একা সিদ্ধান্ত নেয়। নিজে যা ভাল বোঝে, তাই করে।
– কোন রিলেটিভ বা তোর বা তোর মেয়ের অসুখ করলে নিজে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়? নাকি তোকে একা পাঠায়?
– বেশিরভাগ সময় আমাকেই পাঠায়।
– বুঝেছি। তোর বর খুবই অহংকারী এবং খুব সেলফিস টাইপের একটা মানুষ। এরা আত্মপ্রেমি হয়। এরা নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই গুরুত্ব দেয়না। এরা অন্যের অনুভূতির বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেনা। এসব লোকের সাথে থাকা খুউব কষ্টকর।

একটু থেমে তুলিকা গম্ভীর চোখে মীরার দিকে তাকালো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়া খুব ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে প্রিয় কোন কাছের মানুষকে। কারণ একটা ভুল পরামর্শের উপরে ঐ মানুষটার পুরো জীবনের ভালোমন্দ নির্ভর করে।

– সমস্যাটা কী জানিস বান্ধবী? যতক্ষণ না তুই চাকরি ছাড়বি, ততক্ষণ তুই বুঝতেই পারবি না, চাকরি না থাকলে তোর আসলে ঠিক কেমন লাগবে বা তখন তোর কী কী অসুবিধা হবে। এখন বেশিরভাগ স্বামীরাই চায়, বৌ আয় করুক। যারা চায়না, তারা বৌকে দাসী মনে করে।

মীরার এখন ভীষণ কষ্টে দিন কাটছে। তার কোনকিছুই ভালো লাগছে না। খায়রুলের অযথা জেদ মেনে নিয়ে তার সারাজীবনের স্বপ্নকে শেষ করে দিতে তার মন সায় দিচ্ছে না।

– কেন চাকরি ছাড়তে বলছ?
– কারণ আমি চাই তুমি বাড়িতে থেকে সংসার সামলাবে। মেয়েকে দেখবে।
– চাকরি করেও কি আমি সেটা করছি না?
– করছ। কিন্তু ভালোমত করছ না। তুমি যখন থাকোনা, তখন জুনির কষ্ট হয়। ওর কষ্ট হোক, আমি সেটা চাই না।
– মেয়ে তো বড় হয়ে যাবে। তাছাড়া সারা দুনিয়ার চাকরি করা মেয়েরা কি বাচ্চা মানুষ করেনা? তোমার অফিসে যেসব মেয়েরা চাকরি করে, তাদের বাচ্চা নেই?
– তাদের বাচ্চাও কষ্টেই মানুষ হয়।
– বেশ। তাহলে মাকে বা আম্মাকে এনে রাখি।
– মায়ের বয়স হয়েছে। নিজেই অসুস্থ। বাচ্চা দেখবে কীভাবে? আর তোমার আম্মা সংসার ফেলে এসে কতদিন থাকবে?
– মাকে তো তেমন কিছু করতে হবে না। আমি অফিস থেকে না ফেরা পর্যন্ত জরিনা থাকবে। জরিনাই সব করবে। মা শুধু চোখ দিয়ে দেখবে। আর আমি তো প্রায় সব কাজ করে রেখেই ক্লাসে যাই। ক্লাস শেষ হলে আর একটা মিনিটও অফিসে থাকিনা।
– আর যেদিন মিটিং থাকে? অন্য কাজ থাকে?
– দু’একদিন একটু অসুবিধা তো হবেই। মেনে নিতে হবে। আর আমাকে চাকরি করতে দেবে না, একথা তো তুমি বিয়ের আগে বলনি।
– তুমি যে পরে চাকরি করবে, সেটাও তো তুমি তখন বলনি।
– চাকরি করবনা, তাও তো বলিনি।
– তা বলনি। কিন্তু আমি চাকুরীজীবি বৌ নেবনা জন্যই তো তোমাকে বিয়ে করলাম। নাহলে তো চাকরি করা কোন মেয়েকেই বিয়ে করতে পারতাম।
– তাহলে অল্পশিক্ষিত খারাপ রেজাল্টধারী কোন মেয়েকে করতে। তাছাড়া ধর যদি তুমি না থাকো, তখন আমাদের কী হবে?
– তোমাদের চলার মত সম্পদ আমি রেখে যাব।
– যদি না পার? আর তোমার কথামত চাকরি ছাড়ার পর সবসময় আমার মন খারাপ থাকবে। কষ্ট হবে। সেটা দেখে তোমার খারাপ লাগবে না?
– না। কারণ প্রতিমাসে তোমার চলার মত টাকা আমি তোমাকে দেব।
– কত টাকা দেবে? আমার বেতনের সমান?
– অত টাকা কীভাবে দেব? আমি বড়জোর হাজার দশেক দিতে পারি।
– একই কথা যদি আমি তোমাকে বলি, তুমি চাকরি ছাড়বে?

একবার খায়রুলের অফিসের পিকনিকে গেছিল মীরা। তখন সবে সে জয়েন করেছে। ওর কলিগদের সবাই, এমন কী, খায়রুলের বসও যেচে মীরার সাথে আলাপ করেছিল।

– আপনিই তো বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করেছেন, তাইনা?
– জ্বি।
– গুড! ভেরি গুড! আমার মেয়ে সামনে বছর এ্যাডমিশন টেস্ট দেবে। একটু দেখবেন।

শুনেই খায়রুলের মুখটা অন্ধকার হয়ে গেছিল। সে জানে, মীরার স্টেটাস তারচেয়ে বেশি। তাছাড়া মীরার যত প্রমোশন হবে, তত ওর আয় বাড়বে। বেতন ছাড়াও খাতা দেখা, পরীক্ষার হলে ডিউটি – এরকম আরও অনেক বাড়তি টাকা মীরা পায়। ভবিষ্যতে হয়তো মীরা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ যাবে। ওর নাম হবে। তখন সে খায়রুলের একান্ত বাধ্যগত নাও থাকতে পারে। মীরার উন্নতি ও স্বাবলম্বিতাকে খায়রুল ঈর্ষা করে, ভয় করে। তাই সে মীরাকে অথর্ব করে বাড়িতে ফেলে রেখে নিজের বশে রাখতে চায়। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, মীরার চাকরি না থাকলে সে কখনোই খায়রুলকে ছেড়ে যাবার সাহস পাবেনা।

সামনে মাসে মীরার ম্যাটারনিটি লিভ শেষ হবে। তারপর মীরা যাতে জয়েন না করে এবং চাকরি ছেড়ে দেয়, সেজন্য সে ক্রমাগত মীরাকে চাপ দিচ্ছে।

– সংসারের সব খরচ আমি করব। তোমার চাকরির টাকার আমার দরকার নেই।
– আমার আছে। তোমার একার টাকায় চলতে আমার কষ্ট হবে। আমি কেন কষ্ট করব? আমার অপরাধটা কী? তাছাড়া শুধু টাকার জন্য তো আমি চাকরি করিনা। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্ট করার পর আমি এই চাকরিটা পেয়েছি। এটা আমার সারাজীবনের কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমার মর্যাদা, সম্মান, ভালোলাগা।
– মেয়েদের সবকিছু হলো তার স্বামী। স্বামী থাকলে তার আর কিছুই লাগেনা।

মীরা লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছে। সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। সে তার মাকে ফোন করেছিল। সেই চিরাচরিত কথা – সংসারের শান্তির জন্য মেয়েদেরকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। মীরার বাবা এবং ভাইবোনেরা অবশ্য তার চাকরি ছাড়ার পক্ষে না। কিন্তু তার সংসার ভেঙ্গে যাক, তারা আবার এটাও চায়না।

– ভাত দিয়েছি। খেতে এসো।
– আসছি। সালমা জরুরি একটা মেসেজ দিয়েছে। রিপ্লাই দিয়ে আসছি।

সালমা খায়রুলের কলিগ। সেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর। মেয়েটা বেশ সুন্দরী। খায়রুলের সাথে মাঝে মাঝেই কথা বলে। ফেসবুকে তার আরও কিছু বান্ধবী আছে, যারা নিয়মিত খায়রুলের পোস্টে লাইক দেয়, কমেন্ট করে। নিশ্চয়ই ইনবক্সে কথাও বলে। মীরা তা নিয়ে কখনো কোন আপত্তি বা সন্দেহ করেনি। তবে সে খেয়াল করেছে, সালমার মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার জন্য খায়রুল খুব ব্যস্ত হয়ে যায়। খাবার পর মীরা সালমা প্রসঙ্গটা আজ তুললো।

– সালমার মেসেজটা আমাকে একটু দেখাতে পারবে? যদি গোপনীয় কোন মেসেজ না হয়, তাহলে।
– গোপনীয় হবে কেন? অফিসিয়াল কাজের মেসেজ। তা দেখে তুমি কী করবে?
– কিছু করব না। শুধু দেখব।
– তুমি কি আমাকে সন্দেহ করছ?
– না। আমি শুধু তোমাকে বোঝাতে চাইছি যে, সব মানুষের মত তোমারও এমন কিছু ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা বিষয় থাকতে পারে, যেখানে কারো প্রবেশাধিকার চলেনা। নিজের বউয়েরও না। তেমন আমারও থাকতে পারে। চাকরি।
– আমার মোটেও এমন কোন বিষয় নেই যা তোমাকে দেখাতে পারব না।
– বেশ। দেখাও।
– বলছি তো অফিসিয়াল কাজের মেসেজ। তবু তোমার দেখতে হবে?
– তুমি তোমার বান্ধবীদের সাথে কথা বলার পর মেসেজ ডিলিট কর। আজও করেছ। তাই সালমার মেসেজটা দেখাতে পারছ না। তারমানে তোমরা এমন কিছু কথা বল, যেটা আমাকে জানতে দিতে চাওনা। বা আমি জানলে তোমাদের সমস্যা হবে। আমি জানি, তুমি মাঝে মাঝেই লুকিয়ে আমার ফোন চেক কর। কারণ চোরের মন পুলিশ পুলিশ।

রাতে শুয়ে মীরা শেষবার খায়রুলকে বোঝানোর চেষ্টা করল।

– প্রতিমাসে আমার কিছু খরচ আছে। সেগুলোর টাকা আমি তোমার কাছ থেকে নিতে চাইনা। তোমারও দিতে হয়তো বিরক্ত লাগবে।
– লাগবে না। তুমি যা চাইবে, আমি দিব।
– তোমার আয় তো সীমিত। আমার বাড়তি খরচের টাকা তুমি পাবে কোথায়?
– আমার যা আয়, তার মধ্যেই চলতে হবে।
– সেটাই তো চাইছি না। আমার কোন উপায় না থাকলে বাধ্য হয়ে তুমি যেভাবে রাখতে, আমি সেভাবেই থাকতাম।
– এখনও তাই থাকবে। তুমি চাকরি করতে বাড়ির বাইরে যাবে, সেটা আমার পছন্দ নয়।
– কেন? গেলে সমস্যা কী?
– সমস্যা আছে। তুমি বাইরের লোকের সাথে মেশো, আমি চাইনা।
– তুমি মেশো না? তাছাড়া আমি মিশতে চাইলে তো বাসায় বসে থেকেও মিশতে পারি।
– অত কথা জানিনা। আমার সাথে থাকতে হলে আমার কথা তোমাকে শুনতে হবে, ব্যস। নাহলে..।
– নাহলে কী?

মীরা হাল ছেড়ে দিল। বাঙালি মেয়েরা অত সহজে স্বামী ছাড়তে পারেনা। মেয়েদের সারাজীবন একা থাকার নানান সমস্যা। তাছাড়া জুনি বাবা ছাড়া বড় হবে। ওর কষ্ট হবে।

– রেজিগনেশন লেটারটা টাইপ করে দাও। কাল সকালে জমা দেব।

খুশিতে খায়রুলের চোখ চকচক করে উঠলো। মুখে তার বিজয়ীর হাসি। খুব তাড়াতাড়ি টাইপ করে প্রিন্ট দিয়ে এনে কাগজটা সে মীরার হাতে দিল। এর আগে এত আগ্রহ নিয়ে খায়রুলকে কোন কাজ করতে মীরা কখনো দেখেনি। পরেরদিন সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ তুলির ফোন। খায়রুল তখন অফিসের কাজে ব্যস্ত।

– আপনি ওকে একটু বোঝাতে পারলেন না? এত ভালো একটা চাকরি। এভাবে কেউ ছাড়ে?
– আমি আসলে ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাইনা।
– কেন চাকরিটা ছাড়ছে, আপনি জানেন কি?
– না। ওর ইচ্ছা।
– আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। আমাকে বলল, মেয়ের দেখাশোনার সমস্যা হচ্ছে। আমার তো তিনটা বাচ্চা। আমি তো চাকরি ছাড়ছি না।
– সবাই তো একরকম হয়না।
– তাও ঠিক। তবে ছাড়ার আগে আমাকে একটু বললে আমি ওকে বোঝাতাম। যাহোক, এখন আর কিছু করার নেই। ভালো থাকবেন ভাই। আল্লাহ হাফেজ।

সংসারের অনেক খরচ মীরা করতো। বাচ্চার ডায়াপার থেকে শুরু করে জামাকাপড়, খাবার, ফল, মাছ-মাংস সব কিনতো মীরা। খায়রুলের প্রিয় সব খাবারগুলো, যেমন – খাসির মাংস, ইলিশ মাছ, গলদা চিংড়ি, ট্যাংরা মাছ – এসব কিনতো মীরা। এখন আর পারবে না। কোথাও বেড়াতে গেলে খরচের অর্ধেক টাকা দিতো মীরা। এখন বেড়ানো বন্ধ হয়ে যাবে। সংসারে টানাটানি হবে। খায়রুল ওর বাড়িতে আর আগের মত টাকা পাঠাতে পারবে না। প্রতিমাসে ওর মায়ের শুধু ইনসুলিন কিনতেই আট হাজার টাকা লাগে।

সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা মীরার হবে, সেটা হলো, মীরা প্রতি মাসে তার গরীব কিছু আত্মীয়স্বজনকে টাকা দেয়। সেটা আর দিতে পারবে না। তার দূর সম্পর্কের এক বিধবা চাচী আছে। তার দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বাবদ মীরা প্রতি মাসে তাকে পাঁচ হাজার টাকা দিত৷ এক অসুস্থ দাদিকেও দিত হাজার দুয়েক। এক মামাতো ভাই হলে থেকে পড়ে। ওকেও মাঝে মাঝে টাকা পাঠাতো।

খায়রুলের বড়বোন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি মীরাকে খুব পছন্দ করেন। বিয়ের পর খায়রুল এক বিঘা জমি বিক্রি করতে চেয়েছিল। তাই শুনে খুব রাগারাগি করেছিলেন আলো আপা। তারপর থেকে খায়রুলের সাথে কথা কম বলতেন। মীরার চাকরি ছাড়ার খবর শুনে আপা ফোন করলেন।

– চাকরি ছাড়ার আগে আমাকে একবার বললে না?
– কী লাভ আপা? আপনার ভাই তো শুনবে না।
– তোমার দুলাভাইও আমাকে বলেছিল চাকরি ছাড়তে। আমি শুনিনি। কেন শুনব? ওর কথায় কি আমার চাকরি হয়েছে, যে ওর কথায় ছাড়ব? তুমি ছাড়লে কেন?
– রোজ রোজ অত অশান্তি করে সংসার করা যায়না আপা।

প্রথম মাস শেষে খায়রুল মীরাকে দশ হাজার টাকাই দিল। তবে মাসের তিন তারিখে। পরের মাসে দিল সাত হাজার। তৃতীয় মাসে কোন টাকাই দিল না। টাকার কথা মুখে পর্যন্ত আনলো না। যেন, সে তাকে খাওয়ায়-পরায়, এই ঢেড়। আবার টাকা কীসের? পরের মাসে মীরার মায়ের কিডনিতে পাথর ধরা পড়লো। অপারেশন করতে হবে। মীরা মাকে দেখতে যাওয়ার সময় টাকা চাইলো। খায়রুল তাকে মোটে তিন হাজার টাকা দিল।

এখন প্রায়ই ওদের টাকা টাকা করে ঝগড়া হয়। মাসের শেষদিকে আর চলতে পারেনা। প্রায়ই খেতে বসে খায়রুলের খাবার পছন্দ হয়না। আগে খায়রুলের আত্মীয়রা বেড়াতে এলে সে তাদেরকে প্রচুর বাজার করে খাওয়াতো। জামাকাপড় দিত। এখন পারেনা। মীরা নিজের জন্য কেনাকাটা একেবারে ছেড়েই দিয়েছে।

মীরা ভেবেছিল, চাকরি ছাড়লে তার প্রতি খায়রুলের ভালোবাসা, সহমর্মিতা বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে সে দেখলো, এখন তার প্রতি খায়রুলের তুচ্ছতাচ্ছিল্য অনেক গুণ বেড়েছে।
তুলির পরামর্শে মীরা উইদাউট পে তে ছয় মাসের ছুটি নিয়েছিল। মীরা আবার চাকরিতে জয়েন করেছে শুনে খায়রুল ভীষণ রেগে গেল।

– তুমি আমাকে মিথ্যে বলেছিলে? তোমার এতবড় সাহস?

মীরা মনস্থির করেছে। যে স্বামী স্ত্রীর ভালো লাগার ধার ধারেনা, তার সাথে থাকার কোন মানে হয়না। খায়রুলকে ছেড়ে যাবার আগে মীরা ফোন করে বড় ননদকে সব জানালো।
শুনে আলো খায়রুলকে ফোন করলেন।

– শোন খায়রুল, তোদের পুরুষ মানুষদের স্পর্ধা দেখে আমি অবাক হয়ে যাই! তোরা নিজেদেরকে কী ভাবিস বল তো? মীরা কি তোর কেনা গোলাম, যে যেভাবে রাখবি, সে সেভাবেই থাকবে? আবার যদি কোনদিন শুনি, তুই ওকে চাকরি ছাড়তে বলেছিস, তাহলে আমি নিজে এসে তোদের তালাক করিয়ে দেব। তারপর মীরা আর জুনিকে আলাদা বাসায় তুলে দেব। আর তোর সাথে আমাদের কারো কোন সম্পর্ক থাকবে না। কথাটা মনে রাখিস। পুরুষ হয়েছে পুরুষ! যত্তোসব! একটা মেয়ের কাছে চাকরি যে কী, সেটা যাদের নেই, তারা বোঝে। তুইও বুঝবি। যেদিন তোর চাকরি থাকবে না।

লেখক আক্তার বানু আলপনা

লেখকঃ সাহিত্যিক ও অধ্যাপক, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

আরও পড়ুন