যে কারণে ডির্ভোস এড়িয়ে চলা উচিৎ

তানিয়া আনজু

কতো একাকিত্ব কতো ডিস্টার্ব সহ্য করে রবের অপার মহিমায় একজনের হয়ে যেতে হয়। পান থেকে চুন খসলেই সমাজ হায় হায় করে ওঠে, বলে ওঠে, ছাইড়া দাও, ছাড়ি দে, বাদ দে আরো কতো হাজার হাজার শব্দ!
তাতে সমাজের দুশ্চিরিত্রদেরই লাভ! কেন লাভ সে কথা বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
মাঝে থেকে টুকটুকে মুখগুলো চিরদিনের জন্য একটা স্বাভাবিক পরিবেশ হারায়। সন্তান নামের জীবটা কতোটা অসহায় হয়ে পড়ে সেটা বাস্তব চোখে দেখে হৃদয়ে অনুধাবন না করলে বোঝানো মুশকিল।
কেউ বাবাকে কেউ মাকে হারায়। পশুরও একটা আশ্রয় থাকে একটা প্রাপ্তি থাকে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব সন্তানদের সেটাও থাকে না। সারাজীবন সমাজে নিচু হয়ে চলতে হয়। শত শত গঞ্জনা সহ্য করতে হয়।
দুই পরিবারের, দুই সমাজের,দুইজনের বিশেষ বিশেষ প্রীতিভাজনদের তৃতীয় পক্ষ হয়ে প্রবেশই অনেক ক্ষেত্রে কলহের কারণ হয়ে দ্বারায়।
এই প্রবাশাধিকার দুজন বা দুজনের একজন দিয়ে থাকে। কষ্টের কথা শেয়ার করতে গিয়ে যে মহানজনকে প্রবেশ করানো হয় সেই মহানজনই সর্বনাশ ডেকে আনে সেটা নিজের মা- বাবাও হতে পারে।
কলহ বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ভেঙ্গে যায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত মানুষটার সাথে বন্ধন ।
অনেকক্ষেত্রে দুজনের আচরণের বৈপরিত্যও কারণ হয়ে দ্বারায়। দুজন দুজনের দোষগুলোর অবিরত অনুসন্ধান, খোটা দেওয়া, অবজ্ঞা ইত্যাদি থেকেও ভাঙ্গন শুরু হয়।
রাগ, জেদ, অভিমান সম্পর্কের দৃঢ়তার জন্য যেমন প্রয়োজন তেমন অত্যধিক আবার প্রচন্ড ক্ষতির কারণ এটা একই সাথে নিজেদের ইমেজ নষ্ট করে সাথে সাথে নিজের এবং সন্তানদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ করে মারাত্মকভাবে।

অভাবও একটা মূল কারণ তবে শুধুমাত্র এই কারণে বন্ধন ভেঙ্গে যায় না। সামন্যতে পরিতুষ্টি খোজা অনেক সুখী পরিবার দেখা যায় যাদের একবেলা খাবার জোটাতে দুজনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয় কিন্তু দিন শেষে পরিতৃপ্তির হাসি হাসে দুজনই।

অভ্যন্তরিণ কারণের মধ্য শারীরিক অক্ষমতাও একটা কারণ যে জন্য কলহ হয় কিন্তু লজ্জ্বার জন্য বাইরে বলার ক্ষেত্রে অন্য কোনো কারণকে সামনে আনা হয়।
দুজন দুজনের প্রতি অবহেলা বা একজনের অবহেলা থেকেও দুরুত্ব বাড়ে একসময় দুরুত্বটা এতোটাই প্রকট হয় সেটা আর নৈকট্য পায় না। দুজন দুই প্রান্তে থেকেই সংসার করে নয়তো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আমি শ্রেষ্ঠ আমিই সব এই যুক্তি অফিসের বস, রাজনৈতিক নেতা, মালিক ইত্যাদি হিসেবে কর্মচারীর উপর কর্তৃক চলতে পারে কিন্তু এই মানসিকতা যখন সঙ্গী বা সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় তখন তাতে শান্তির চেয়ে অশান্তিই হয় বেশী। আর শান্তি পেলেও সেটা বাহ্যিক অভ্যন্তরিণ ভাবে সবার কাছে ঘৃণিতই থাকে।
আবেগের প্রয়োজন ঠুনকো হয়ে পড়ে সংসারের বাস্তবতার জালে কিন্তু একদম নিরাবেগ থাকাটাও উচিত নয়।
সারাদিন ঝগড়া শেষেও যদি ঘুমন্ত প্রিয়জনের মুখটা দেখে মায়া বাড়ে, রাগটা থেমে যায় তাতে খারাপ কিসে! পরিশ্রমে ক্লান্ত ঘামে ভেজা শরীরটা দেখে যদি মনে হয় নাহ সে সত্যি আমার জন্য আমার পরিবারের জন্যই কষ্ট করে তাতে মহব্বতই বাড়বে কমবে না।
বরং আলাদা হয়ে সুখী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আলাদা থাকতে গিয়ে বুকটা হাহাকার করবেই, দিন বা রাতে হঠাৎ মনে হবে তার অন্তত একটা কথা যদি শুনতে পেতাম তখন যে কারণগুলোর জন্য বিচ্ছিন্ন হতে হয়েছে সেটা অনেক ঠুনকো মনে হবে কিন্তু তখন কিছুই করার থাকবে না।
কলিজার টুকরা সন্তানদের জন্য থেকে থেকে কষ্টে বুকটা ফেটে যাবে কিন্তু কিছুই করার থাকবে না।
পূনরায়  বিবাহ,বহুবিবাহ শান্তি আনতে পারে তবে যেখানে একটু পরির্বতনে শান্তির দিশা পাওয়া যেতে পারে সেখানে ডির্ভোস বা বহুবিবাহ শান্তি নয় বরং অশান্তিরই কারণ। আজীবন আগুনে নিজেকে দ্বগ্ধ করার উপাদান।

আমার চোখের সামনে আর কোনো সংসার না ভাঙ্গুক, কোনো সঙ্গী পরকিয়ায় জড়িয়ে না যাক, পারস্পারিক সম্পর্ক দৃঢ়তা পাক, কোনো সন্তান হতাশায় না পড়ুক, দাম্পত্যের সমস্যা নিজেদের মধ্যই ফিসফিসে আলোচনায় সমাধান পাক সেটা অন্য কেউ না জানুক।
সন্তানরা জানুক তারা সুখী পরিবারের অংশ। তারাও এমন সুখের স্বপ্ন বুনুক।
গড়ে উঠুক একটা সুন্দর পরিবার যা গড়ে তুলবে পরবর্তী সুস্থ পৃথিবী।

(০৮,০৭,২০২০)

লেখক : কলামিস্ট

আরও পড়ুন