তারুণ্যেই বিয়েঃ আমাদের ভাবনা 

ইমতিয়াজ বুরহান

ছেলে : বাবা ! আমি বিয়ে করতে চাই।
বাবা : এই শোন ! বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কি ? আর এখনই বিয়ে বিয়ে করে মাথা নস্ট করবি না ।
ছেলে : আব্বু ! আজ রাতে না বন্ধুদের সাথে একটা পার্টি আছে সজিব ভাইয়ার ফ্লাটে। কিছু টাকা হবে?
বাবা : তোর মার কাছ থেকে যত টাকা লাগে নিয়ে যা। লাইফটা ইনজয় কর বাবা। এটাই তো সময়।
—————-
ছেলে : আব্বু আমি দ্বীনদার মেয়ে দেখে বিয়ে করবো।
বাবা : কি যে সব পাইছিস না, এরকম সেকেলে আর ভূত মার্কা মেয়ে ঘরে এনে সমাজে আমাদের স্ট্যাটাসটা নষ্ট করবি নাকি?
ছেলে :বাবা! আজ আমি সুমাইয়ার (জিএফ) সাথে একটু লংড্রাইভে যাবো ! তুমি একদম করবে না কিন্তু !
বাবা : ঠিক আছে বাবা, যাহ ! নিজের খেয়াল রাখিস। তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস কিন্তু। বেশি রাত করিস না। নাহলে তোর মা চিন্তা করবে।
——————
মক্কা মুকাররমায় আমার এক সহপাঠী তার বাবার সাথে যাচ্ছিলো হেরা পাহাড়ে উদ্দেশ্যে। আলজেরিয়ান ড্রাইভার তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো : ভাই ! মাশাআল্লাহ ছেলে তো অনেক বড় হয়ে গেছে ! ওকে বিয়ে দিয়েছেন? সম্মানিত আঙ্কেল বললেন : ভাই! কি যে বলেন না! ছেলের মাত্র ২৩ বছর হলো। ও তো এখনো বাচ্চা । এখনই ওকে বিয়ে দেই কি করে ?
—————
★ বাবা ! তোমার অমুক ভাইয়াকে দেখেছো। তোমার চেয়ে কত বড়। ওই তো এখনো বিয়ে করেনি। তোমার এত ফুরফুরানি হচ্ছে কেন?
★ এই যে বিয়ে করার এত শখ কেন এখনি শুনি?
★ ভাইজান ! এখনই ওকে বিয়ে দিলে ওর পড়ালেখার সমস্যা হবে। আর একটু বড় হোক না ছেলেটা !
★ ভাই ! ছেলের লেখাপড়া শেষ হোক! একটা জব করুক ! নিজের পায়ে দাঁড়াক ! তারপরে না হয় সুন্দর একটা মেয়ে দেখে বিয়ে দিয়ে দেবো।

এরকম মনোমুগ্ধকর কথা শুনতে শুনতেই হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের যৌবনের সুন্দর দিনগুলো। জিএফ কে নিয়ে লংড্রাইভে যাও। পার্টি করো। মাস্তি করো। পার্কে কোনায় বসে থাকো! নো প্রবলেম !! এগুলো আধুনিকতা ও গৌরবের বিষয়।
বিয়ে করে নিজেকে পবিত্র রাখতে চাও? নিজের চরিত্র নির্মল করতে চাও? তোমাকে শুনতে হবে হাজারটা অভিযোগ! তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে পুরো পরিবার!

★সক্রেটিস বিয়ে করেছিল ১৮ বছর বয়সে।
★অ্যরিস্টটল বিয়ে করেছিল ১৭ বছর বয়সে।
★শেক্সপিয়ার বিয়ে করেছিল ১৬ বছর বয়সে।
★ মহাত্না-গান্ধী বিয়ে করেছিলেন ১৩ বছর বয়সে।
★ শেখ মুজিবুর রহমান বিয়ে করেছিলেন ১৮ বছর বয়সে।
★ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিয়ে করেছিলেন ১১ বছর বয়সে।

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী, মুজাদ্দিদে আলফে সানী, মুহাম্মদ বিন কাসেম ( রহ:) সহ অসংখ্য মনীষী বিয়ে করেছিলেন নিজেদের বয়স ২০ বছর হওয়ার আগেই। তারা সকলেই নিজেদের যৌবনের প্রারম্ভে বিয়ে করেছিলেন। নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে বা স্ত্রীকে সময় দিতে তাদের বেগ পেতে হয়নি। আমরা আজও তাদের নাম গর্বের সাথে উচ্চারণ করি কিন্তু তাদের জীবনের সুন্দর দিকগুলিকে যত্নের সাথে এড়িয়ে যাই নিজেদের চরিত্রের সাথে মিলেনা বলে । আবার নিজেদেরকে ভাবি অনেক সচেতন, আপডেট প্রজন্ম !

নিজের চাচা যদি আমাকে বলেন : বাবা ! যাও তুমি কক্সবাজার থেকে ঘুরে এসো ! তোমার যা কিছু দরকার আমি ব্যবস্থা করে দিবো। সেটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে কোন রকম চিন্তা ভাবনা ছাড়াই কক্সবাজার চলে যাই ! বিপরীতে যখন আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

و انکحوا ایاما منکم و الصالحین من عبادکم و امائکم ۔ان یکونوا فقراء یغنهم الله من فضله ۔
তোমরা তোমাদের বিপত্নীক ও বিবাহের যোগ্য দাসীদের বিয়ে দিয়ে দাও। যদি তারা দরিদ্র হয় তাহলে তিনি তাদেরকে ধনী করে দিবেন । (1) তখন সেটার প্রতি আমরা ভ্রুক্ষেপ করি না।

লক্ষ লক্ষ টাকা মোহর ধার্য করে, জমকালো অনুষ্ঠান করে ও সামাজিক হাজার রকমের কুসংস্কারের ফাঁদে পড়ে আমরা সন্তানের বিয়েকে কলুষিত করি । সেটাতে কোন সমস্যা হয়না। বিপরীতে মসজিদে সবার মাঝে সুন্নত অনুযায়ী বিয়ে দেয়াকে মোটেও নিজেদের জন্য আদর্শ মনে করি না।

আমরা যারা নিজেদের সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাওয়ার পরও তাদেরকে উপযুক্ত দ্বীনদার মানুষ দেখে বিয়ে দিতে দেরি করছি তাদেরকে একটি হাদিস স্মরণ করিয়ে দিতে চাচ্ছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেছেন :
من ولد له ولد فلیحسن اسمه و ادبه فاذا بلغ فلیزوجه فان بلغ و لم یزوجه فاصاب اثما فانما اثمه علی ابیه ۔
কারো যদি সন্তান জন্মগ্রহণ করে তাহলে সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে, তাকে উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়, যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হবে তখন যেন তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় । সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও যদি পিতা তাকে বিয়ে না দেয় এবং সন্তান কোন গুনাহ লিপ্ত হয় তাহলে সে গুনাহের ভার তার পিতার উপরই বর্তাবে। (2)

(1) সূরা নূর : আয়াত ৩২
(2) বায়হাকী : হাদীস নং ৮৬৬৫

লেখকঃ কলামিস্ট 

আরও পড়ুন