Ads

মুসাফির বেশে মুসা নবীর দেশে ।। ২য় পর্ব

।। জিয়াউল হক ।।

গিয়েছিলাম কায়রো হতে তানতা, ওখান থেকে আলেকজান্দ্রিয়া। কায়রো শহর হতে বের হতেই আগ্রহ ভরে রাস্তার আশে পাশে নজর দিলাম। জীবনে প্রথমবারের মতো মিশরে এসেছি। যতোটা স্বল্প সময়ে যতো বেশি দেখে ও বুঝে নিতে পারি সে জন্য চোখ কান আর হৃদয় খোলা রাখার চেস্টা করছি।

হঠাৎ এক সময় লক্ষ্য করলাম রাস্তার পাশে, দুরে মাঠের ভেতরে মাঝে মাঝে উঁচু উুঁচ টাওয়ারের মতো। অনেকটা আমাদের দেশে ইটের ভাটায় যেমন টাওয়ার থাকে তেমনই। তবে উচ্চতায় সম্ভবত তার সিকিভাগ, তথা, মাটি হতে পচিশ বা তিরিশ ফুট হবে।তানতা থেকে আলেক্সান্দ্রিয়া যাবার পথে সোয়াশত কিলোমিটার কিংবা আলেকসান্দ্রিয়া থেকে দুইশত কুড়ি কিলোমিটার দূরে কায়রো ফেরার পথে দীর্ঘ পথে গাড়ি থেকেই দেখলাম।কৌতুহল বাড়লে ড্রাইভার আহমেদ উরানির কাছে জানতে চাইলাম, “এগুলো কী?”

আহমেদ গাড়ীর গতি কমাতে বাধ্য হলো। এর পরে দেখে নিলো আমি কোন বিষয়ে জানতে চাইছি। যখন সে বুঝতে পারলো আমার আগ্রহের বিষয়টা, তখন খুব স্বাভাবিক কন্ঠে জবাব দিলো; “ওহ, এটা পাখির বাসা। কবুতর’সহ নানা ধরনের পাখীরা প্রচন্ড গরমে কিংবা ঝড়ের সময় যেন কষ্ট না পায়, সে জন্য বানিয়ে রেখেছে।”

আরও পড়ুন-

মুসাফির বেশে মুসা নবীর দেশে ।। ১ম পর্ব

 

আহমেদের কথা শুনে আমি অবাক। বিষ্ময়ভরা কন্ঠে জানতে চাইলাম ;

‌- কারা বানায়? সরকার?

– না, সরকার বানায় না। সাধারণ জনগণই এগুলো বানায়। চাষীরা নিজ নিজ জমির কোনো একটি কোণে এগুলো বানিয়ে রাখে পাখিদের জন্য।

– ওহ, ওরা বুঝি এভাবে পাখি শিকার করে? খায় বা বিক্রি করে! আমি মন্তব্য করলাম। আবার একইসাথে সেটা জানারও জন্য বটে।

– লা। হারাম আলেক ইয়া সায়্যেদি, হুমা ইয়মাুলুনা ফি সাবিলিল্লাহ। ( না, এমন ভাবাটা তোমার অন্যায়। ওরা এটা করে থাকে কেবল আল্লাহরই জন্য)’

আহমেদের সরল জবাব। ওর কথা শুনে আমার অবাক হবার পালা। বলে কী? আমাদের দেশ হলে তো এভাবে পাখি ধরে তা জবাই করে খাওয়া হতো মহাসমারোহে। আবার হাটে বাজারেও বিক্রি করা হতো টু-পাইস কামানোর জন্য।

কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকতে দেখে আহমেদ নিজ থেকেই আবারও বলে উঠলো, জানালো আজ কাল গ্রামের দিকে অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে এই দোভোকোত বানিয়ে রাখে। কবুতর পালে, বুনো কবুতর এসে জড়ো হয়, সেগুলোও এক সময় পোষা হয়ে যায়। মাংশের দূর্মূল্যের বাজারে অনেকেই জবাই করে খায়।

এরকমই একটা খুবই জনপ্রিয় মিশরীয় খাবার হলো ‘হামাম মাহাশি’। জবাই করা কবুতরের শরিরের মধ্যে চাল ও মশলা ঢুকিয়ে দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তা স্বেদ্ধ করা হয়। খুবই সুস্বাদু সে খাবার। মিশরীয়দের কাছে জনপ্রিয়ও বটে। তবে, অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি কেবলমাত্র পশুসেবার প্রেরণায় মাঠের আনাচে কানাচে কিংবা রাস্তার পাশে এরকম টাওয়ার বানিয়ে দেন। আল্লাহর কাছে বিনিময় পাবার জন্য। ওদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।

আরও পড়ুন-

কুরআন বুঝতে চাইলে আগে অন্তত এটুকু বুঝুন

কবুতরসহ অন্যান্য পাখীর আবাসন ও গরম কিংবা ঝড় হতে নিরাপদে বাঁচার জন্য প্রায় দুই হাজার বছরের ঐতিহ্য হলো কাদা মাটির ইট দিয়ে টাওয়ারের মতো করে উুঁচু মিনার বানানো হয়। এর গায়ে থাকে খোপ খোপ ছোট্ট ঘর।যেমনটা ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন। দিগন্তজুড়ে মাঠের বিভিন্ন স্তরে বানানো হয় এইসব টাওয়ার। ল্যাটিন নাম হিসেবে বলা হয় Dovecotes ডিভোকোট। হেলেনিক কালচারের সুত্র ধরে মিশরীয়রাও একে বলে ‘দেবোকো / দেবকো’।

কথা বলতে বলতে আবার নজর ফেরালো রাস্তার বুকে বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে চলা গাড়ির দিকে। তার নিজেরও গতি তখন একশত কুড়ি কিলোমিটার। শন শন করে গাড়ী ছুটে চলেছে। আমিও সম্ভবত তারও চেয়ে দ্রুত গতিতে ফিরে যাচ্ছি শত শত বছর পেছনে। অতিতের মিশরীয় সমাজে। এ সমাজ, সমাজবাসীর মনোজগত বুঝার চেষ্টা করছি। কতোটা মানবিক হলে পশুপ্রেম তাদের ভেতরে এতোটা উচ্চকিত হতে পারে? সেটা বুঝার চেষ্টা করছি।

আধুনিক মিশরবাসী সম্বন্ধে আমার যে ধারণা তা বদলে যাচ্ছে যেন ! আমার চোখে ভাঁসছে ঢাকাসহ বাংলােদেশর আনাচে কানাচে হাস-মুরগী-পাখি-কবুতর বিক্রি করা ব্যাবসায়ীদের চিত্র । তারা কতোটা অমানবিকভাবে এইসব পশুপাখিকে রাস্তায় টেনে হেঁচড়ে নিয়ে বেড়ান সে দৃশ্য!

চলবে…

লেখকঃ ইংল‍্যান্ডের বেসরকারী মানসিক হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ও লেখক, ইংল‍্যান্ড

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে  লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ  লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

ফেসবুকে লেখক জিয়াউল হক 

আরও পড়ুন