Ads

মুসাফির বেশে মুসা নবীর দেশে ।। ৪র্থ পর্ব

।। জিয়াউল হক ।।

দিনটা ছিল রৌদ্রোজ্জল। মরুভূমীর মতো গরম না হলেও নিছক কম ছিল না তার উত্তাপ। পূর্ব পরিকল্পনা মতোই বেরিয়েছি সকালে। মিশরের অন্যতম আকর্ষণ, প্রাচীন রহস্যময় কীর্তি সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম একটি, পিরামিড দেখবো বলে।

আগের রাতে আল আজহারে অধ্যায়নরত এক বাংলাদেশী ছাত্র হঠাৎ করেই ফোন করলেন। সোস্যাল মিডিয়ার এ যুগে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের খবর রাখছেন অনেকেই।

আমরা তাদের কাউকে চিনি, আবার অনেকেই আমাদের অপরিচিতি, অজানা। তেমনই এক বাংলাদেশী ছাত্র সোশ্যাল মিডিয়া ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি দেখা করতে চান, কথা বলতে চান।

স্বল্প সময়ের জন্য মিশরে, মুসা নবীর দেশে, আল্লাহর সম্মানিত নবী মুসা আ: এর স্মৃতি বিজড়ত এ দেশটিতে এসেছি। পরিকল্পনার বাইরে সময় ব্যায় করার মতো সময় আমার হাতে নেই। এই আস্তবতা মানুষকে বুঝানো যায় না। বুঝতেও চান না।

‘না’ বললে হয়তো অহংকারী, দাম্ভিক ভাববেন, এ ভয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে আমার স্থানীয় হোস্টের নাম্বার দিলে তিনি ফোন করেছিলেন কায়রোস্থ ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি ইন ইজিপ্টের (BUE) ডেপুটি এ্যসিস্ট্যান্ট রেজিষ্ট্রারার ড: মাহবুবের নম্বরে। ঠিকানা নিয়ে তিনি সেদিনই তার পরীক্ষার পরে বিকেলই চলে আসেন প্রায় ৬০ কিলোমিটার দুরে নিউ কায়রোর শুরুকিয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে।

আগের পর্ব-

মুসাফির বেশে মুসা নবীর দেশে ।। ৩য় পর্ব

এসেই তিনি যা শুরু করলেন, তা নিছক পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাকে কাছে পেয়ে তার প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজে তিনি আবেগের প্রকাশ ঘটাতে লাগলেন বার বার বিব্রতই হচ্ছিলাম। ড: মাহবুব তো হেসেই কুটি কুটি হচ্ছিলেন। কথার এক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভোলা জেলা হতে্ আল আজহারে পড়তে আসা ছাত্র তানভির বেলায়েত প্রস্তাব দিয়ে বসলেন, যদিও তার পরীক্ষা চলছে, তারপরেও তিনি আমাকে সঙ্গ দিতে চান। তিনিই পিরামিড ঘুরিয়ে দেখাবেন।

যদিও আগে থেকেই ইউনিভার্সিটিরই মিশরীয় ড্রাইভার আহমেদ উরানিকে ঠিক করে রাখা হয়েছে আমাকে সারাদিন সময় দেবার জন্য, তারপরেও বাংলাদেশী একজন ভক্ত ছাত্র পেয়ে তার সান্নিধ্য লুফে নিলাম। বললাম, কালকে চলে আসুন। কথা মতো তিনি সকালে এসে হাজির। কায়রো শহরের পূর্বনির্ধারিত একটি পয়েন্ট থেকে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়া হলো।

শহর দেখতে দেখতে আমরা এক সময় টিকিট কেটে পিারমিডে ঢুকলাম। আমি বিষ্ময়কর এই সৃষ্টি , যা এতোদিন পত্র পত্রিকা আর মিডিয়ার পর্দাতেই দেখেছি কেবল, তার সামনে স্বশরীরে হাজির হয়ে আবেগাপ্লুত। আল্লাহর শুকরিয়া করছি, ঠোঁট নড়ছে নিজের অজান্তেই।

ঠিক এমন সময়ে তানভির তার ব্যাগ হতে দু’টো বই বের করে নিয়ে গাড়ি হতে বেরিয়ে এসে সামনে দাঁড়ালেন। অবাক বিষ্ময়ে লক্ষ্য করলাম, তার হাতে আমারই লেখা বই । গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স কর্তৃক প্রকাশিত আমার লেখা “ইসলাম সভ্যতার শেষ ঠিকানা”“ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার সংঘাত’ বই দুটো। বললেন আমার সকল বই তিনি সংগ্রহ করেছেন, কয়েকটা বই সুদূর বাংলাদেশ থেকে মিশরেও আনিয়েছেন।

এগুলো তারই অংশ। তিনি বইদু’টো সামনে মেলে ধরে অনুরোধ করলেন অটোগ্রাফ দিতে। বাংলাদেশ হতে প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার দূরে পিরামিডের পাদদেশে বইগুলোতে অটোগ্রাফ দিলে তিনি ড্রাইভার আহমদেকে অনুরোধ করলেন মহুর্তটি তার ক্যামেরায় বন্দী করে রাখতে। ছবিটি সে কথারই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

চলবে…

লেখকঃ ইংল‍্যান্ডের বেসরকারী মানসিক হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ও লেখক, ইংল‍্যান্ড

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে  লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ  লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

ফেসবুকে লেখক জিয়াউল হক 

আরও পড়ুন