Ads

মুসাফির বেশে মুসা নবীর দেশে ।। ১ম পর্ব

।। জিয়াউল হক ।।

কায়রো এয়ারপোর্ট। রাত তিনটে। দুই ঘন্টা বিলম্বে এসে ল্যান্ড করেছে ইজিপ্ট এয়ারের বোয়িংটা। পুরো এয়ারপোর্ট জুড়েই কেমন যেন এক ধরনের শুনশান নীরবতা। গুটিকতক কর্মচারীর আনাগোনা। মাঝে মাঝে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা নজরে পড়ছে। কেউবা টেবিলে মাথা রেখে ঝিমুচ্ছে। ডিউটিতে প্রফেশনালিজমের কোনো ছোঁয়া নেই। বিমান হতে নেমে আসা প্যাসেঞ্জাররা কেউবা ছুটছেন ট্রান্জিট লাউন্জের দিকে আর কেউবা এক্সিট দরজার দিকে। আমিও ট্রলিটা টেনে নিয়ে এসে দাঁড়ালাম ইমিগ্রেশন কাউন্টারে।

চমৎকারভাবে হিজাব পরিধান করে মধ্যবয়স্কা এক নারীর হাতে পাসপোর্টটা এগিয়ে দিলে তিনি পরখ করে তা কিছুক্ষণ দেখলেন, সযতনে তা স্ক্যানও করলেন আর তাতে তিরিশ দিনের অন এ্যরাইভাল ভিসার একটি সিল মেরে দিয়ে পাসপোর্টটা ফেরত দিলেন আমার হাতে।

খুব সহজে, কোনোরকম প্রশ্নোত্তরের ঝামেলায় ছাড়াই সব চুকে গেল দেখে মনে মনে খুশিই হলাম। এবার ছুটতে হবে লাগেজ নিতে। সেটা আবার নীচ তলায়। ইমিগ্রেশন দরজা দিয়ে বের হবার আগেই দেখি সেখানে সিভিল পোশাকে দুই মিশরীয় পুরুষ নিজেদের মধ্যে আলাপে ব্যস্ত ।

ওদের দিকে নজর না দিয়ে যেই না তাদের পাশ দিয়ে চলে যেতে লেগেছি, ওমনি একজন সামনে এসে দাঁড়ালেন। সালাম দিয়ে জানতে চাইলেন, কোথা হতে আসছো। বললাম বাংলাদেশ থেকে। অমনি সে হাত বাড়িয়ে দিল, পাসপোর্টটা চাইলো। হাতে দিলে তা একবার চেয়ে দেখে আবার আমার দিকেই তাকালো। কারণ, হিসেব মিলছে না যেন।

জানতে চাইলো; কোনো ড্রাগস আছে কী না? বুঝলাম সে কী বলতে চাইছে। আসলে জানতে চাইলো কোনে মাদক আছে কি নেই, সেটা। বললাম; আছে তো।

আরও পড়ুন-

যে দেশের গলিতে গলিতে হাফেজ

 

চমকে উঠলো যেন। ল্যাপটপ ব্যাগের দিকে চাইলে আমি সেটা কাঁধ থেকে নামাতে নামাতে বললাম, আমার ব্লাড কলেস্টোরোল বেশি, সে কারণে নিয়মিত ডাগ্রস নিতে হয়। ট্যাবলেটগুলো ব্যাগের মধ্যেই আছে। দেখাচ্ছি দাঁড়াও।

সিভিল পোশাকে পুলিশ ব্যাটা হেসে উঠলো। তার সাথে যোগ দিল তার অপর সাথীও। বলে উঠলো; না, না, আমি জানতে চাইছি, তোমার কাছে কোনো মাদক আছে কি না।

কপট রাগের চেহারা নিয়ে ওর দিকে চেয়ে নিখাঁদ মিশরীয় আরবি টানে বলে উঠলাম; মা লাক ইয়া আখি ! তায়েজু মুখাদ্দারাত? হারাম আলেক!! (তোমার ব্যাপার কিরে ভাই, নেশার মাদক চাইছো? এটা কিন্তু মহ্যা অন্যায়!)

আরও পড়ুন-

যে যুবক শৃংখল ভাংতে চায়

পুলিশ ব্যাটা বোধ হয় একজন নাদান বাংলাদেশির মুখে মিশরীয় টানে আরবি আশা করেনি। রাগ করতে দেখে হেসে উঠলো দুজনেই। প্রথমজন এগিয়ে এসে কাঁধের উপরে আলতো করে হাত রেখে বলে উঠলো’ মেশি ইয়া পাশা, আলহামদুলিল্লাহ সালামা (ঠিক আছে ভাই, তোমার আগমনটা প্রশাান্তিময় হোক), এর পরে সামনে থেকে সরে যেতে যেতে চলন্ত সিঁড়ির দিকে ইশারা করলে আমি হাঁটা দিলাম সম্মুখ পানে—–

চলবে…

লেখকঃ ইংল‍্যান্ডের বেসরকারী মানসিক হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ও লেখক, ইংল‍্যান্ড

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে  লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ  লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

ফেসবুকে লেখক জিয়াউল হক 

আরও পড়ুন