কিংবদন্তি কবি

আব্দুল মতিনঃ

মঞ্জিলা শরীফ, পিতা মরহুম মোতাল্লেব শরীফ, মাতা মরহুমা হোসনেয়ারা বেগম। বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ২১শে আগস্ট জন্মগ্রহন করেন। কবি নন্দীগ্রাম গার্লস হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এস এস সি ও নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। জীবনের প্রথম থেকেই মানব সেবার প্রতি কি যেন এক দ্বায়বদ্ধতা কাজ করতো ভিতর থেকে, ফলে সেবামূলক কাজকেই করেছেন আরাধনা।যদিও ছোট বেলা থেকে মাতা হোসনে আরা বেগমকে শিক্ষক রুপে দেখে নিজেও একজন মহান পেশার শিক্ষক হবার স্বপ্ন দেখতেন, ছোট্ট মনের ভাবনায় সব সময় মনে করতেন মা গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষক আর আমি হবো কলেজের শিক্ষক। যদিও ভাগ্য বিরম্বনায় সে আশাটা ক্ষিন হয়ে আসে কবির মায়ের অকাল মৃত্যুতে তার পরেও থেমে থাকেনি তার যুদ্ধ। তিনি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। মানব সেবা মানে নার্সিং পেশাকে তিনি আদর্শ পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাঁর বাবার ইচ্ছেয়। যদিও তাঁর বাবাও একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন তাই তিনি নার্সিং পেশাকে খুবই সম্মানের সাথে দেখতেন, এবং মেয়েকে একজন আদর্শ নার্স হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কবি তার বাবার ইচ্ছাকে পুরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রথমে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ও ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াফারী কোর্স কমপ্লিট করেন, পরবর্তিতে বি এস সি ইন নার্সিং ও পাবলিক হেল্থ বিষয়ে লাভ করেছেন মাস্টার্স ডিগ্রী। ১৯৮৯ সালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে সরকারী চাকুরিতে যোগ দেন, ১৯৯৩ সাল হতে ২০১০ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দক্ষতা ও সুনামের সহিত চাকুরী করেন। পেশাগত দক্ষতার কারণে ২০১০ সাল হতে ২০১৫ সালে মার্চ মাস অবধি পাঁচ বছর সরকারী ভাবে কর্নেল গাদ্দাফির তেল আর সোনার দেশ লিবিয়ার আল- বাইদা মেডিক্যাল এডুকেশন সেন্টার এ্যান্ড হসপিটালে দক্ষতার সহিত কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে পাঁচ বছর কাজ করে বাড়িয়েছেন পেশাগত দক্ষতা। পরবর্তীতে দেশে ফিরে যোগ দিয়েছেন পাবনা নার্সিং ইনস্টিটিউটে, বর্তমানে পাবনা নার্সিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসাবে কর্তব্যরত আছেন। শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন নিজের পরিসর ঘেরা সকলের মাঝে। ইতোমধ্যে ছাত্রীদের কাছে একজন ভালো শিক্ষক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। মানব সেবামুলক যে কোন কল্যানমুখী কাজ তাকে আকৃষ্ট করে। তার লেখার মাঝে সব সময় উঠে এসেছে মানবপ্রেম, প্রকৃতি আর নৈতিকতার ছাপ মহান একুশে বইমেলা ২০১৮ তে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ “দুধেলা ভোর ” প্রকাশিত হয়েছে, এ ছাড়া ” একুশের আলো ” চাঁদের হাট” “একান্নবর্তী ” ফুল ঝুড়ির মত বেশ কয়েকটা যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কবি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জাতীয় পত্র পত্রিকা ও ছোট কাগজে লিখে যাচ্ছেন।
“অপরাহ্নের মায়া” কবির ২য় কাব্যগ্রন্থ। মঞ্জিলা শরীফ কর্মজীবনের শত ব্যস্ততায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রবল ঝোক সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। তার কবিতায় আধুনিক কবিদের কালচার ও শব্দ – বাক্য প্রয়োগ আমাদের মুগ্ধ করে। পরিবেশ, শিক্ষা, সভ্যতা,ইতিহাস, জীবনচরিত,প্রকৃতি নিয়ে লেখা কবিতা যে কোন পাঠকের মন কাড়বেই।

লেখকঃ কবি, সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক, মহীয়সী।

আরও পড়ুন