একজন কানাডা প্রবাসীর মাতৃভূমিতে হিজরত

তৌহিদ নোমান

বাংলাদেশী কানাডিয়ান প্রবাসীর বার্ষিক ২০২১ হিজরতের যাত্রা বা আল্লাহর পথে ৪০ দিনের প্রথম ১০ দিনের অভিজ্ঞতা।

আস সালামুয়ালাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।ইসলামের ৫ রোকনের পর আরো ৩টি উত্তম কাজ হচ্ছে: আমর বিন মারুফ, নাহি আনিল মুনকার ও হিজরতের মাধ্যমে দাওয়াত এর কাজ।

হিজরত হচ্ছে ৯ প্রকার, তার মধ্যে এক প্রকার হলো মাতৃভূমি ও জীবিত ও মৃত আত্মীয়স্বজনদের হিজরতে সাক্ষাত ও কবর জিয়ারতসহ দাওয়াত এর কাজ করা ।

আল্লাহ হিজরত সম্পর্কে বলেন,সূরা আল বাক্বারাহ:১৯৫ “*আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে*
তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না।
আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর।আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।”

সূরা আল ইমরান:১৯৫
“………সে সমস্ত লোক যারা হিজরত করেছে, তাদেরকে নিজেদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতি উৎপীড়ন করা হয়েছে আমার পথে এবং যারা লড়াই করেছে ও মৃত্যুবরণ করেছে, অবশ্যই আমি তাদের উপর থেকে অকল্যাণকে অপসারিত করব।
এবং তাদেরকে প্রবিষ্ট করব জান্নাতে যার তলদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত। এই হলো বিনিময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম বিনিময়।”

১৪ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২ দিনে ২০০০০ কিলোমিটার সফর ও এক সপ্তাহ দেশের হোটেলে কোয়ারানটাইন লকডাউন ও করোনা পরীক্ষা রেজাল্ট ২ বার কানাডা ও বাংলাদেশে নেগেটিভ পাশ করে ২৩শে ফেব্রুয়ারী কাকরাইল মার্কাজ এ আল্লাহ পৌছান আলহামদুলিলাহ।

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা লকডাউন চলাকালীন বা দাওয়াহ তাবলীগ সদর দফতর বাংলাদেশের কাকরাইল মার্কাজ থেকে সারা দেশে দাওয়াহ তবলীগে কাজ চলছে আলহামদুলিল্লাহ।

দাওয়াহর কারণে করোনার পরিস্থিতি আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশে অনেক ভালো। আল্লাহ বিশ্বব্যাপী মহামারী নির্মূল করুন, আমীন।

কানাডা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা উভয় দেশে আমরা কালেমা সহ ১.৬ কোটি মুসলমান, তবে খুব কম মুমিন এবং মুত্তাকিন মানে ইমান এবং ইয়াকিন বা দৃঢ়বিশ্বাস। সুতরাং আমি প্রতি বছর আমার জন্মভূমিতে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি ঘুরে দেখি যেখানে আমাদের দাওয়াহ কাজ করার জন্য দুই আমেরিকা মহাদেশের ১০ গুন ১৬+ কোটি মুসলমানের মধ্যে কালেমা সহ মুসলমানদের মুমিন ও মুত্তাকিন হিসাবে গড়ে তোলা দরকার মানে শক্তিশালী ইমান এবং ইয়াকিনসহ আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী বানানোর কাজ করার বিরাট ময়দান বাংলাদেশে।

কাকরাইল মার্কাজ থেকে বুধবার ২৪শে ফেব্রুয়ারী মারকাজের দৈনিক মাশোআরা বা কাজের পরামর্শ:

দাওয়াত তাবলীগ ঢাকা শহরের উলামায়ে কেরাম, তালিব ও আবেদদের মধ্যে ৫০০ জন ঢাকায় এই মার্কাজী মাসওয়ারায় বা পরামর্শে যোগদান করেছেন।

আপাতত প্রতি দিন ১৫ জনের ৫০ দল মুসলমান দাওয়াহ ও জামাতে জেলা ভিত্তিক দেশের ৫ লক্ষ মসজিদ ভিত্তিক এবং ২৫ হাজার মাদ্রাসা ভিত্তিক ৬৪টি জেলায় মোবাইল মাদ্রাসার মত জামাত তৈরি করে ধর্ম প্রচার, শিক্ষা ও দাওয়াত এর কাজ করে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

ঢাকা শহর তাবলিগ মাসওয়ারা বা দিনের পরামর্শের পরে ২৫০ জন ঢাকা সিটি শীর্ষ দেওবন্ড কারিকুলাম মাদ্রাসা বাংলাদেশী ওলামারা এক ঘন্টা বৈঠক করেছেন।

২০২১ সালের করোনার কারনে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত রয়েছে।ঢাকা শহরে ৭টি শবগুজারি মসজিদ পয়েন্ট রয়েছে এবং প্রতি দিন ইজতেমায় গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি তিন দিন, ১০ দিন, ৪০দিন ও চার মাসের জামাত প্রস্তুত হয়ে হিজরতে বের হয়।

ঢাকা জেলায় ২০০০ টি মোট কাওমী মাদ্রাসা রয়েছে এবং ২০০ টি মাস্টার্স লেভেল দাওরা হাদিস মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতি বছর রমজানেথ ছুটিতে জামাতে বের হয়।

সারা বিশ্বে, আমাদের দেশে ও ঢাকা শহরে মুসলিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ৩ দিন, ১০ দিন, ৪০ দিন এবং ৪ মাসের জামাতের ও কওমী মাদ্রাসার পাশ করা নুতন উলেমারা ১ বছরের জন্য প্রস্তুত হয়ে তবলীগ জামাতের হিজরতে বের হন।

জাতীয় চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার এবং শিক্ষকদের বাৎসরিক জমায়েত কাকরাইল বা টঙ্গীতে হয় প্রতি ২ থেকে ৩ মাস পরপর নতুন চিল্লা তৈরি করতে, মুসলিম শিক্ষার্থী ও প্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা ৩ চিল্লা বা ৪ মাসের জামাত এবং কাওমী মাদ্রাসার উলামাদের বা নবীন স্নাতকদের দ্বারা ১ বছরের জামাত প্রস্তুত করা হয়।

২০২১ সালের জানুয়ারী থেকে জাতীয়ভাবে গড়ে দেশে ১৫০০টি চার মাসের জামাত বর্তমানে বাংলাদেশে চলছে। এই গত বছরের জানুয়ারী ১০,১১,১২, ২০২০ ইজতেমার সময় ছিলো ৫০০০ করোনার পরে এর কাজটা ধীর গতিতে চলে। গত বছর বিশ্ব ইজতমায় মোট ৭৫ লক্ষ লোক ৩ দিনের জন্য ট্ন্গীর ময়দানে সমবেত হয়েছিল আলহামদুলিলাহ।

উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের সাথে বাংলাদেশী ৪ কোটি মুসলিম শিক্ষার্থী এবং যুবক রয়েছে যাদের ভ্রাম্যমান দাওয়াহ তাবলিগ মিশন ও মসজিদ, মাদ্রাসার মাধ্যমে তাদের মাতৃভাষার সাক্ষরতার পাশাপাশি বেসরকারী ইসলামিক পাঠ্যক্রম শিখতে এবং প্রাথমিক শিক্ষা ২০১৫ সালের মিলেনিয়ামের উন্নয়ন লক্ষ্যের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার উন্নয়নে দাওয়াহ তবলীগ আমাদের দেশে ও বিদেশে কাজ করে যাচ্ছে বিগত ১৯২৭ সাল থেকে।

আল্লাহ আমার / আমাদের স্থানীয় এবং বিশ্বব্যাপী দাওয়াহ তাবলিগ মিশনারি প্রচেষ্টাকে ক্ষমা ও কবুল করুন, আমিন। জাজাকাল্লাহ খায়রান কাসিরান।

লেখক: তৌহিদ নোমান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ইসলামিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারী শিক্ষক, টরন্টো শিক্ষা বোর্ড, কানাডা

আরও পড়ুন