বেকার তৈরীর বিশ্ববিদ্যালয়

শরীফ হোসাইন
ছোট্ট এই দেশের জনসংখ্যায় পরিপূর্ন। দেশের বেকারত্বের হার কত তা সরকারী হিসেবে শুনলে আপনার কাছে মনে হবে আমেরিকার চাইতে কম কিসে বাপু। আমেরিকার বেকারত্বের হার ৫.২% আর সরকারী মতে আমাদের বেকারত্বের হার ৫.৩% আর সৌদি আরবে ৬.৫%। যাক পরিসংখ্যানকে দুরে রেখে প্রকৃত জরিপে ILO তথ্য অনুসারে দেশে বেকারের সংখ্যা তিন কোটি। এতে প্রতি তিনজনে একজন বেকার। শিক্ষিত ২ জনে ১জন।
লন্ডনের Economic Intelligence Unit (EIU) এর তথ্য মতে দেশে ১০০ জন স্নাতকের ৪৭ জন বেকার। বাংলাদেশে (২০২০ সাল) বর্তমানে বেকার ৩ কোটি যা দ্রুত ৬ কোটি পরিনত হবে এবং বেকারত্বের হার দাড়াবে ৩৯.৪০ শতাংশ।
প্রত্যেক দেশের বিভিন্ন পেশার জনশক্তির একটি চাহিদা থাকে। যেমন তার ১০০ পদার্থ বিজ্ঞানী, ১০০ রসায়নবিদ, ১০০ কৃষিবিজ্ঞানী, ১০০ জন ইঞ্জিনিয়ার, ১০০ ডাক্তার দরকার। এবার রাষ্ট্র এমন লক্ষ্যমাত্রা সামনে নিয়ে তার চাইতে ১০বা ১৫ শতাংশ বেশি ছাত্র পড়ার সুযোগ তৈরী করে।
মজার ব্যাপার আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজায় না এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট হয় বহু শিক্ষক নিয়োগের জন্য বা কেউ ডিপার্টমেন্ট প্রধান হয়ে সে বাজেট চুরি করবেন এ জন্য। এমন সাবজেক্ট রয়েছে যা পোস্ট গ্রাজুয়েশনের সার্টিফিকেট কোর্স হওয়া দরকার তা হয়েছে অনার্স কোর্স। কান্না আসলে তা দমন করে পড়ে যান। এর বাইরে দেশের অতিরিক্ত ১০ বা ১৫ শতাংশ যারা পড়লো তাদের দেশ হতে বিদেশে যাতে যেতে পারে এজন্য বিভিন্ন দুতাবাসে শিক্ষা কর্মকর্তা এটাসমেন্ট দেওয়া হয়। তিনি সে দেশে শিক্ষার সুযোগ নিয়ে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়কে জানাবেন বা সেদেশের বিশ্ববিদ্যালয়কে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে জানাবেন। হুম, তিনি তার শালা, শালি আর সন্তানকে নিতে এত সময় ব্যায় করেন আর রাষ্ট্র নিয়ে কখন ভাববেন!
স্নাতক একটি সম্মানজনক পড়াশুনা। প্রত্যেক দেশ তার ছাত্রদের গ্রাজুয়েশনে তার বাবা মাকে সাথে নিয়ে সম্মানিত করেন। কিন্ত আমাদের দেশে এ এক গ্লানির অনুষ্ঠান রাজনীতির মহান চেতনায় ৪ বছরের কোর্স ৭ বছরে যখন সমাপ্ত করেন তখন তিনি দেখেন তার চাকুরির বাজার শূন্য কারণ দেশে এত রসায়নবিদ, বাংলা সাহিত্য, ভুগোল এর লোক আদৌ দরকার নেই। কায়দা করে যে একাডেমিক বাদ দিয়ে বিসিএস পড়েছে শেষ হাসিটা তারই। তবে বিসিএসের সিলেবাস আরো হাস্যকর যার সাথে ৬ বছরের পড়ার কোন ন্যূনতম সম্পর্ক নেই।
দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬ টি। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় বলতে BUET, BAU,DU,CU,RU,JU বোঝাতো এবং মান সম্পন্ন ছাত্র বের হতো। তার মানে এ নয় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই মানহীন। এত ছাত্রকে পড়িয়ে বেকার বানাচ্ছেন চাকরি দিবেন কোথায় সে খবর আছে? সরকরী মেডিকেল ৩৭ টি, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ১০৭ টি, বেসরকারী মেডিকেল ৭০ টি। এর বাইরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিপুল ছাত্র বের হয়। দেশে টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেব জানেন? ৫ টি ইঞ্জিনিয়ারিং, ৭ টি কৃষি, ১ টি ভেটেরিনারী, ৬ টি টেক্সটাইল।
এ হিসেবে দেশে প্রতি জেলায় গড়ে ৪ এর অধিক বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজ রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তো বাদ। সব জেলা তো বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে এখন নাকি ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপন শুরু হবে৷ বিপুল যুবশক্তি ১৮-৩০ বছর এক ধোয়াশায় চলে। জীবনটা শেষ করে ১০,০০০ বেতনে চাকুরী নেয় যা একজন রিক্সা চালক বা অশিক্ষিত গার্মেন্টস কর্মীর চাইতে কম।
বিআইডিএস এর সাম্প্রতিক (২০২১) সনের গবেষনায় উঠে এসেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাশ করা ৬৬ ছাত্র বেকার।
দেশে বর্তমানে ১ লক্ষ ডাক্তার। এখানকার বেসরকারী দৃষ্টিনন্দন হাসপাতাল হয়েছে, বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তির মেডিকেল যন্ত্রপাতি হয়েছে কিন্ত পেশাদারিত্ব শূন্য কোঠায়। ১০ বছরে ডাক্তারের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় বেড়ে যাবে। দেশে ৭০ টি বে – সরকারী মেডিকেলের অবস্থা এমন যে আমি ২০ বছর ধরে ফার্মেসি ব্যবসা করি আমারে যদি একটা মেডিকেল দিতেন, তিনি পেয়েছেনও। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় নিয়ে আমাদের এক কলিগ বলে আমার বিশ্ববিদ্যালয় চিনলেন না ঐ যে কাবাব ঘরের দো- তলায়।
রাষ্ট্রে আমার মত বেকুবের বসবাস নয় এখানে রয়েছে একঝাঁক জ্ঞানী ব্যক্তি। তারা কি চিন্তা করেন বিষয়টা নিয়ে।
শরীফ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
পশ্চিম ধানমন্ডি
আরও পড়ুন