সিদ্ধান্ত আপনার জীবনও আপনার

ডাঃ জোবায়ের আহমেদঃ

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আগামীকাল থেকে সীমিত পরিসরে দোকান পাট ও শপিংমল বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
-মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ
লকডাউনের মেয়াদ বাড়লো ১৬ মে পর্যন্ত।
রাস্তায় জ্যাম।
গার্মেন্টস খোলা, পোশাক শ্রমিকরা ঝুঁকিতে।
কোভিড ১৯ এ দেশ আজ ১০ হাজারের ক্লাবে প্রবেশ করলো।

শপিং মল যখন খোলা যায়,তবে মসজিদ মন্দির কেন নয়?
মানুষের কাছে রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস। তারাবী পড়েন মানুষ আবেগ ও আনন্দ নিয়ে।
কেন তারা বঞ্চিত হবেন?

ভাইরাস কি এমন কথা দিয়েছে যে আমরা বিকেল ৫ টার পর মানুষ কে আক্রান্ত করবো?
এমন কোন গোপন চুক্তি কি হয়েছে করোনা ভাইরাস অথোরিটির সাথে?

আর লকডাউন আসলে কি এই দেশে?

জিলাপি খাওয়ার লম্বা লাইন কে লকডাউন বলে। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের সমাগমকে লকডাউন বলে? রাস্তায় গাড়ির সারি কে লকডাউন বলে? বাজারে উপচে পড়া ভীড় কে লকডাউন বলে?

আপনাদের কি জামা কাপড় নেই?
এই ঈদে জামা না কিনলে,পার্লারে না গেলে কি রুহ কবজ করে ফেলবে আজরাঈল এমন কোন হুমকি পেয়েছেন কি??
গাদোয়াল শাড়ি কি এই ঈদেই কিনতে হবে?
ভাইয়ারা আপনাদের পাঞ্জাবি, পায়জামা কিনতেই হবে?

আপনি আপনাকে ভালবাসেন না?
আপনার সন্তান,স্ত্রী,পরিজন,মা বাবা কে ভালবাসেন না?
আপনি তাদের মৃত্যুর দায় নিতে এত মুখিয়ে আছেন কেন?
আপনি অন্য মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে এত অস্থির কেন?

উনারা দোকান খুলছে ভালো কথা। আপনি যদি না যান,উনারা কি ঘর থেকে কোলে করে নিয়ে যাবে আপনাকে?

এত অবুঝ কিভাবে হতে পারেন আপনি?
এত মায়াহীন, নির্দয়, অমানবিক হতে পারবেন আপনি?

যদি উত্তর না হয়,তবে ঘর থেকে বের হবেন না। প্লিজ আমার কথাটা রাখুন। আপনার প্রতি কারো কোন দায় নেই।  নিজের দায় নিজে নিন।।নিজেকে এত তুচ্ছ ভাবছেন কেন?

বেঁচে থাকতেই ঘরে থাকুন। অন্য মানুষ যা ইচ্ছা করুক।
আপনি নিজে ঘরে থাকুন,আপনার ফ্যামিলি ও সন্তানদের বুকে আগলে মাটি কামড়ে ঘরে পড়ে থাকুন। আমার সবিনয় অনুরোধ আপনাকে।

Life is like an ECG
It will go up,then go Down then up Again
When It’s a flat line you are just no more
You are just dead when ECG shows flat lines

ইসিজির লাইনগুলো আঁকাবাঁকা রাখতে একটু সচেতন, একটু সতর্ক হউন।।

বেঁচে থাকলে সব ক্রাইসিস কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
বেঁচে থাকাই আজকে বড় সফলতা।

২,৪৭,৫৩১ জন মানুষ আপনার মতই ছিলো।

তাদের পরিবার ছিলো, আপনজন ছিলো। প্রেয়সী ছিলো।
প্রিয়তম ছিলো। তাদের ও কবিতা শুনতে ভালো লাগতো।গান ও গজলে তারাও মাতোয়ারা হতেন। সবুজ দেখে তারাও আপ্লুত হতেন। অনেকেরই মায়াবী বিকেলে নীল আকাশে উড়ে যাওয়া সাদা বকের পাল দেখা শখ ছিলো।।
কফিতে চুমুকর‍ত থেকে ভালবাসার মানুষের চোখের গভীরে হারিয়ে হৃদয়ের অলিগলিতে হাঁটতে তারাও ভালবাসতেন। তাদেরও ঘর ছিলো। ঠিকানা ছিলো।
শহর ছিলো তাদেরও। তাদের শরীরেও উষ্ণ রক্তের প্রবাহ ছিলো শিরা উপশিরা ও ধমণীতে। তাদেরও হৃদয় ছিলো।।

আজ তারা নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ, নিথর, শীতল। তারা আজ হারিয়ে গেছেন দূরের অজানায় যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায়না কোনদিন। তাদের পরিবার আজ অভিভাবকহীন। সন্তানরা এতিম।

আপনার সন্তানের দিকে একটাবার তাকান। আপনার মা, বাবা, স্ত্রীর দিকে তাকান। প্রিয় মানুষটার দিকে তাকান।
আপনার প্রস্থানে তারা যদি খুশি হউন,আনন্দে থাকবেন ভাবেন,তারা সুখী হবেন, নিরাপদ থাকবেন ভাবেন, তবে আমার এই পোস্ট আপনার জন্য নয়।।

সুতরাং সিদ্ধান্ত আপনার।
জীবন ও আপনার।
আপনার যা ইচ্ছা হয় তাই করুন।

করোনা ভাইরাস দেশে বুলেট ট্রেনের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
এই মাসে বাংলাদেশে মরণঘাতী এই ভাইরাসটি তার চূড়ান্ত ভয়াবহতা দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠবে নিশ্চিত।

জীবন ও মৃত্যুর মাঝে সীমারেখা টেনে দিতে আপনার করণীয় ভুলবেন না এই অনুরোধ ও মিনতি আপনার কাছে।।

লেখকঃ চিকিৎসক ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন