প্রযুক্তির মাধ্যমে যেভাবে শিক্ষা দিবেন আপনার সন্তানকে!

মোসাঃ নাসরিন সুলতান

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ! এইযুগে এসেও যদি আপনি আপনার সন্তানকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখাতে না পারেন একটা সময় হয়তো এর জন্য দুঃখ করতে হবে!! আমার, আপনার হাতের কাছেই আছে মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি, কম্পিউটার, ট্যাপ ইত্যাদি! আমরা শুধু বলি এগুলোর জন্য আমাদের বাচ্চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! মোবাইল দেওয়া যাবে না, ল্যাপটপ দেওয়া যাবেনা, টিভি দেখতে দেওয়া যাবে না ইত্যাদির, ইত্যাদি !!!! কিন্তু পেরেছেন কি এগুলো থেকে দূরে রাখতে??????

আমি বলতে চাই এগুলোকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার সন্তান কে শিক্ষা দিতে পারেন!

১। মোবাইল
আমাদের চোখে সবচেয়ে ক্ষতিকর জিনিস হচ্ছে এই মোবাইলটা! এটা ছাড়া বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন না অনেক মারা! বাচ্চার হাত থেকে নিতেও পারেন না কান্নাকাটি শুরু করে দেয়! কেউ আবার নিজে সিরিয়াল দেখার জন্য বাচ্চার হাতে মোবাইলটা দিয়ে রাখেন! আবার কেউ নিজে কাজ করার জন্য দেন কিন্তুএ সময়ে আপনার বাচ্চা মোবাইলে কি দেখছে সেটাকি আপনি দেখেন? বেশির ভাগ উত্তর আসবে না! তাই আপনাকে আগে সতর্ক হতে হবে! মোবাইল এর ভাল দিক ও খারাপ দিক সম্পর্কে আপনার বাচ্চাকে বুঝাতে হবে! বলবেন বাচ্চা কি বুঝবে? আজ হয়ত বুঝবেনা কিন্তু একদিন ঠিক বুঝতে পারবে! আপনি প্রথম চিন্তা করবেন কতটুকু সময় আপনার বাচ্চা মোবাইল দেখবে সেটা যেন এক ঘন্টার বেশি না হয়! তার পর এসময় সে কি কি দেখতে পারবে? বাচ্চার বয়স অনুযায়ী আপনি বিষয় নির্বাচন করে দিবেন এখন YouTube এ অনেক কবিতা, গল্প, ছবি আকাঁ, বাচ্চাদের গান আছে আপনি আপনার মোবাইলে সেগুলোই সেট করে রাখবেন কোন কাটন বা গেমস যেন সে না পায়, এর পর ও আপনার লক্ষ্য রাখতে হবে সে কি দেখছে! একটু বড় হলে তাকে গল্প শুনতে, ধাঁধা শুনতে দিতে পারেন, গনিতের অনেক মজার মজার গেমস আছে সে গুলো দেখতে দিতে পারেন, ছবি আকাঁ শিখাতে পারেন, খুব সহজে কিভাবে শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, শাপলা ফুল, আম, কাঠাল আকেঁ সেগুলো শিখাতে পারেন! এটা যে কোন খেলনা না এটা বুঝাতে হবে এবং এটা বেশি দেখলে কি কি ক্ষতি হবে সেটাও জানাতে হবে! যেমন তার চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে তখন মাকে দেখতে পাবেনা! মাথা ব্যাথা হতে পারে তখন খেতে পারবে না ঘুমাতে পারবেনা ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি তাকে বুঝাতে পারেন ! এছাড়াও তাকে কিছু সুন্দর সুন্দর জিনিস বানানো দেখিয়ে সেটা তাকে বানাতে দিতে পারেন! তাই আপনি আপনার বাচ্চাকে একেবারে মোবাইল থেকে যদি দুরে রাখতে পারেন ভাল আর না পারলে এভাবে রুটিন করে নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে দিতে পারেন!

২। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ

আপনার বাচ্চা একটু বড় হলে এগুলো ব্যবহার আপনি শিখাতে পারেন! কিভাবে একটা স্কুলের কাজ রেডি করা যায়, এ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা যায়! গুগল এর মাধ্যেমে কি ভাবে সে তার পড়ার বিষয় গুলো খুজে পাবে এবং কিভাবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা যায়! এছাড়া বৃটিশ কাউন্সিল এর কিছু লিংক দিয়ে দিতে পারেন ইংরেজি শিখার জন্য, ধর্মীয় শিক্ষার জন্য কিছু বিষয় লিংক দিতে পারেন, আপনার বাচ্চার যে বিষয়ে আগ্রহ আছে যেমন গান, কবিতা, ছবি আকাঁ এগুলো যে এখান থেকে শিখা যায় তা দেখাতে পারেন! আপনি যদি আপনার বাচ্চাকে এগুলোর প্রয়োজনীয়তা ভাল করে বুঝাতে পারেন তা হলে এর সঠিক ব্যবহার করবে আশাকরি!

৩। টিভি
অনেক বাচ্চা আছে সারাদিন টিভি দেখতে চায় শুধু কাটন ছবি! কিন্তু টিভিতে ও যে অনেক কিছু শিখার আছে সেটা আপনাকেই জানাতে হবে যেমন CN অনেক সুন্দর সুন্দর ইংলিশ কাটন বাচ্চাদের ছবি দেয় এগুলো থেকে যে ইংরেজী শিখতে পারে! দুরন্ত একটা চ্যানেল আছে যেখানে বাচ্চাদের অনেক মজার মজার জিনিস শিখায়, Natural Geography চ্যানেল এ জীবজগৎ এর অনেক বর্ণনা শিখতে পারে। আপনি যদি এগুলোতে তাকে মজা পাইয়ে দিতে পারেন তা হলে সে এগুলিই দেখবে!

৪। মাল্টিমিডিয়া

এটা ব্যবহার করে থাকেন শিক্ষকরা এখন বেশির ভাগ শিক্ষকই মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যেমে ক্লাস নিতে হয়! কিন্তু এটা অনেকেই দায় সারা টাইপের মতো নেন আবার অনেক অসাধারণ ভাবে উপস্থাপন করেন! কিন্তু যদি আপনি চিন্তা করেন যে এখানে খুব ভাল ভাবে ক্লাস নিবেন তা হলে আপনার জন্যই ভাল কারণ আপনি বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক আপনি যদি একটা বছর কষ্ট করে আপনার প্রতিটি পাঠ তৈরি করে নিতে পারেন তাহলে সবসময় সেটাই ব্যবহার করতে পারবেন আর সাথে যদি চোখ কান খুলা রাখেন যখন যেখানে আপনার পাঠ রিলেটেড তথ্য পান তাহলে ওর সাথে এড করবেন। প্রতিদিন পত্রিকায়, টিভি বা মোবাইলে অনেক নিউজ আছে যেটা হয়ত আপনার কোন না কোন শ্রেণির পাঠ এর সাথে সম্পর্কিত আপনি যদি এই সাম্প্রতিক বিষয়গুলো যোগ করে আপনার শ্রেণির কার্যক্রম পরিচালনা করেন তা হলে শুধু শিক্ষার্থীরা খুশিই হবে তা না আপনি হবেন Best Teacher.

৫। Zoom cloud meetings

বর্তমানে অনেক শিক্ষক এই এপস এর মাধ্যেমে ক্লাস নিচ্ছেন যা প্রসংশার দাবি রাখে সরকার ও চাচ্ছে যেন বাচ্চারা একেবারে পড়াশোনা থেকে দুরে চলে না যায়! তাই এর মাধ্যামে যেন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যায়! কিন্তু অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখেছি প্লে থেকে শুরু করেন এটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত???? কারণ প্লে, নার্সারি কেজি এগুলো কোন ফর্মাল ক্লাস না আর ৪-৬ বছরের বাচ্চারা এগুলো তো বুঝতেই পারে না আরো মোবাইল নিয়ে টানাটানি!!!! আমরা এদের ভাল করতে গিয়ে আরো খারাপ করছিনা তো? তাছাড়া কি এমন প্রয়োজন এদের কে প্রেশার দেওয়া!!? আমার ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করতে পারি! এটার মাধ্যেমে আপনি ঘরে বসে ৪০ মিনিটের একটা সুন্দর ক্লাস নিতে পারেন এখানে আপনার presentation টা খুব গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনার উপস্থাপনাটা তথ্য ভিত্তিক হয় student রা খুব আগ্রহ নিয়ে অংশ গ্রহণ করবে!!

অনেকেই আছেন সময় সুযোগ এর অভাবে আপনার বাচ্চাদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারেন না তাই এখনি সময় আপনিই নির্বাচন করুন আপনার বাচ্চাকে কী শিখাবেন? কীভাবে শিখাবেন!!!!!!??????

লেখকঃ কলামিস্ট এবং থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

আরও পড়ুন