বিদেশে নারীর উচ্চশিক্ষা [পর্ব -৩]

শেখ সাফওয়ানা জেরিন

মেয়েরা দেশের বাইরে পড়তে গেলে একটা বড় ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হন। অবিবাহিত অবস্থায় দেশের বাইরে গেলে দেশে ক্যারিয়ার স্যাটেল হওয়া যে কোনো ছেলের সাথে বিয়ে হলে দেখা যায় মেয়েটারই ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে মাঝপথে সব থামিয়ে দিয়ে দেশে চলে আসতে হয়। এই সমাজ এখনো এটা শুনতে অভ্যস্ত না যে মেয়ে বিদেশ পড়ালেখা করে তাই স্বামী তার সব ছেড়ে বউয়ের সাথে সাথে বিদেশে সংসার পাতবে। এক্ষেত্রে সমাজের বাস্তবতায় মেয়েদেরই পড়ালেখা সেক্রিফাইস করে সংসার করতে হয়। ব্যতিক্রম নেই তা বলবো না। কিন্তু ব্যতিক্রম হাতে গোনা ।

যারা ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাথে বাইরে আছেন তাদের জন্য বাইরে হায়ার স্টাডিজ অনেক সহজ, আর বাংলাদেশী মেয়ে বাইরে পড়ালেখা যারা করছেন তাদের মধ্যে আগে থেকে বাইরে থাকাদের সংখ্যাটাই বেশি। সাপোর্টিং লাইফ পার্টনার নারীর উচ্চশিক্ষার জন্য আবশ্যক। তারপরেও শেষ পর্যন্ত দেশে সমমানসিকতার কাউকে না পাওয়া গেলে মেয়েদের অবশ্যই প্রায়োরিটি সেট করতে হবে। যদি উচ্চশিক্ষাই নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি হয় তাহলে সময় সুযোগ পেলে অবিবাহিত অবস্থায়ও বিদেশ যেতে পারেন, এরপর পড়ার ফাঁকে ফাঁকে জীবনসঙ্গী খোঁজার প্রক্রিয়াটাও অব্যাহ্যত থাকতেই পারে।

আর যদি এমনটা মনে হয় যে, বাইরে একবার গেলে আর সংসার করাই হবে না, সেক্ষেত্রে বিদেশ বা হায়ার স্টাডিজ আপনার প্রায়োরিটি নয় । প্রায়োরিটিকে বেইজ করে সংসার শুরু করে এরপর চেষ্টা করতে পারেন দুজনে মিলে। যারা মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী বিদেশে খুব সম্প্রতি যান বা না যান, কখনো যদি উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা থেকে থাকে, তাহলে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একাডেমিকে আছে এমন মানুষকে তালিকায় শীর্ষে রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার চিন্তা এমন হওয়া উচিৎ যে সেই ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা বা বাহ্যিক অবয়ব যেমনই হোক না কেন আপনার স্বপ্নকে আপনি বড় করতে আপনার চাহিদার লম্বা লিস্টের সবকিছুর আগে হায়ার স্টাডিজের সপ্নটাকে প্রায়োরিটি দিয়ে সমমনা, সমমেধা সম্পন্ন কাউকেই বিয়েটা করবেন। এমন সিধান্ত নিতে পারলে টিপিক্যাল সংসার জীবনের গন্ডি পার হয়ে জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করা সহজ হবে।

মানুষের জীবনে যেটার প্রাধান্য যতো বেশি তার জন্য সেক্রিফাইসটাও ততো বেশিই হয়। মনে রাখতে হবে বিদেশে উচ্চশিক্ষা কোনও ১০০ ভাগ আনন্দের বিষয় নয়। নিরবিচ্ছিন্ন একাকীত্ব, ডিপ্রেশন, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা বিদেশ জীবনের সঙ্গী। এর মাঝেও নিজের আগ্রহ, ইচ্ছা ও স্বপ্নকে লালন করার মতো সৎ সাহস যার থাকবে, উচ্চশিক্ষা তাদের জন্যই ভালো অপশন। নিজের চাওয়াকে না জেনে দেশের বাইরে যাওয়া যে কোনো মেয়ের জন্যই সাঁতার না জেনে সাগরে নামার মতো ব্যাপার হয়ে যেতেই পারে।

(চলবে)

আগের পর্ব –বিদেশে নারীর উচ্চশিক্ষা [পর্ব -২]

লেখকঃ কলামিস্ট, মহীয়সীর সহ-সম্পাদক  ও  পিএইচডি গবেষক, হ্যাসেটটাইপ বিশ্ববিদ্যালয়, তুরস্ক 

আরও পড়ুন