আসুন গরিব অসহায়দের পাশে দাঁড়াই

ইমরান আজিম

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের দুয়ারে এসেছে মাহে রমজান। সাম্য, মৈত্রী, সমবেদনা আর সহমর্মিতা সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখে এই মাস। তাই হাদীস শরীফে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন, ‘রমজান হলো সমবেদনা ও সহমর্মিতার মাস।’ এ মাসে আমরা উপলব্ধি করতে পারি ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু সবাই সমান। রমজান মাসে একজন হতদরিদ্র মানুষ যেমন সারাদিন না খেয়ে কাটায় তেমনি বিত্তবান মানুষেরাও সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার খাদ্য ও পানাহার থেকে বিরত থাকে। উদ্দেশ্য, ধনীরা যেন গরিব-দুখীদের কষ্টগুলো অনুভব করতে পারে, যারা দু’বেলা ভালো মতো খেতে পারে না তাদের ক্ষুধার জঠর জ্বালা যে কতটা তীব্র তা এই মাসে বিত্তবানরা যেন কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পারে।

দু’মুঠো অন্নের জন্য গরিব অসহায়রা কেন মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাতে, ফুটপাতে ফেলে রাখা ময়লার স্তুপ থেকে পঁচা বাসি খাবার কুড়িয়ে কেন ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করে, কেন প্রসূতি মা তার নাড়িছেঁড়া বুকের মানিককে কয়েকটি টাকার বিনিময়ে অচেনা কারো হাতে তুলে দেয়, রমজান মাস যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ক্ষুধার জ্বালা কতটা ভয়ংকর।

বর্তমান বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব এক সংকাটকালীন মুহুর্ত অতিক্রম করছে। এতে গোটা বিশ্বে চরমভাবে অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চিত যাত্রায় আমরা কেউই নিরাপদ নই। আমরা জানি না আমাদের গন্তব্য কোথায় গিয়ে থামবে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমাতে ইতোমধ্যে সরকার দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে। আর এই অবস্থায় সবচেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে সমাজের গরিব দুস্থ অসহায় শ্রেণীর মানুষ।

নিম্ন আয়ের এই মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অধিকাংশের ঘরেই খাদ্য সামগ্রীর সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ‘দিন এনে দিন খায়’ এমন মানুষগুলোর ঘর বাজারসদাই শুন্য। লকডাউনে তাদের আয়ের উৎস বন্ধ। ফলে তারা কী খাবে, কোথা থেকে খাবার সংগ্রহ করবে তা নিজেরাও জানে না। তাই পরিবার নিয়ে তারা অনেকটা অভুক্তই থাকছে বলা চলে।

সরকার থেকে গরিব দুখীদের জন্য ত্রান বরাদ্দ থাকলেও হচ্ছে না তার সুষম বণ্টন। ফলে গরিবদের যেন আজ দেখার কেউ নেই। তারা যেন এই জগতের সবচেয়ে অবহেলিত জীব। এমতাবস্থায় গবিরদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে নিম্ন আয়ের এই মানুষগুলোর কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। পবিত্র কুরআন মাজীদের অসংখ্য জায়গায় মহান আল্লাহ তায়ালা গরিব দুখী মিসকিনদের দান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কষ্টের দিনে তারা কিছু চাইতে আসলে তাদেরকে খালি হাতে ফেরত দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

অভুক্ত ব্যক্তিকে খাবার দেয়ার ফজিলত জানাতে গিয়ে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেন, ‘মানুষের মধ্যে কল্যাণকর যতগুলো কাজ আছে, তন্মেধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম কাজ হচ্ছে দরিদ্র ও ক্ষুধার্তকে খাবার দান করা।’

তাই আসুন গরিব অসহায়দের পাশে দাঁড়াই, তাদের তরে সাধ্যমতো সাহায্যের হাতটি বাড়িয়ে দেই। তাদের হক্ব আদায় করে আমাদের ইহকালীন কল্যান ও পরকালীন মুক্তির পথ প্রশস্ত করি, গড়ে তুলি শান্তি ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ একটি সুন্দর সমাজ। এটাই হোক রমজানে আমাদের শিক্ষা।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন