ননদ-ভাবীর সম্পর্ক খারাপের জন্য কে দায়ী? ভাবী নাকি ননদ?

মোহাম্মাদ জামাল উদ্দীন

আমাদের সমাজের মুসলিম পরিবারে ননদ-ভাবীর সম্পর্ক খুব একটা ভাল নয়। বেশীর ভাগ পরিবারে ননদ-ভাবীর ঝগড়া লেগেই থাকে। একজন আরেকজনকে দোষারোপ করে। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না। এর কারন কি? কার দোষ বেশী? ননদের নাকি ভাবীর?

একজন মেয়েকে বধু হয়ে স্বামীর ঘরে এসে যাবতীয় কাজ-কর্ম করতে হয়। স্বামী-সন্তানের সেবা, শাশুর-শাশুড়ীর সেবা, সবার জন্য রান্না করা, চা-নাস্তা তৈরী করা, ঘর গোছানো, আত্বীয়-স্বজন এলে তাদের আপ্যায়ন করা ইত্যাদি কাজ গুলো ঘরের বউদেরকেই করতে হয়। এত সব কাজে বেশীর ভাগ পরিবারের ননদেরা তাদের ভাবীকে খুব একটা সহযোগিতা করে না। তারা পড়াশুনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। ননদ বিবাহিত হলে শাশুর-বাড়ী থেকে বাপের বাড়ীতে এসেই অলস সময় কাটায়। নিজ সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সারাক্ষন মায়ের রুমে বসে ভাবীর বিরুদ্ধে উল্টাপাল্টা কথা বলে। আদর-যত্নের একটু ঘাটতি দেখা দিলে ভাবীর সাথে ঝগড়া শুরু করে।

সংসারের কাজ করতে করতে ক্লান্ত বউরা অফিস ফেরত স্বামীকে কষ্টের কথা শেয়ার করে। স্বামী সব কিছু বুঝেও স্ত্রীকে শান্তনা দেয়। মা-বোনদের মনে কষ্ট না দেবার জন্য স্ত্রীকে অনুরোধ করে। তাই স্ত্রীকে স্বামীর মন রক্ষা করে চলতে হয়। দিন দিন কাজের চাপ বৃদ্ধি ও ননদের অত্যাচারে কোন এক সময় সম্পর্কের অবনতি হয়। স্বামীর সাথে রাগ করে কোন এক সময় বাড়ীতে চলে যায়।

ননদ-ভাবীর সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য ভাবীদের যেমন কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যদিকে ননদদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। যেমন-

ননদের করণীয়ঃ

১. রান্নার কাজে ভাবীকে সহযোগিতা করা।
২. ভাবীর রুম পরিস্কার না করলেও নিজের ও মায়ের রুম পরিস্কার করা।
৩. মা-বাবার সেবা যত্ন করা।
৪. আত্বীয়-স্বজন বেড়াতে এলে তাদের সেবা করা।
৫. ভাবীর সন্তান থাকলে তাদেরকে বেশী বেশী আদর করা, পড়ালেখায় সাহায্য করা।
৬. ভাবীর সাথে ব্যক্তিগত কোন জটিল বিষয় থাকলে শেয়ার করা। ভাবীর পরামর্শ নেয়া।
৭. মায়ের সাথে ভাবীর বিরুদ্ধে কথা না বলে ভাবীর কাজের প্রশংসা করা।
৮. শাশুর বাড়ী থেকে বাপের বাড়ীতে এলে বিভিন্ন কাজে ভাবীকে সাহায্য করা।
৯. নিজে নামায-রোযা-কুরআন তেলোয়াত-হাদিস পড়া। ভাবীকেও পড়তে উৎসাহ দেয়া। ইত্যাদি ইত্যাদি।

ভাবীদের করণীয়ঃ

১. রান্নার কাজে ননদের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে ডাকা। (ননদের উপর রাগ করে সকল কাজ একা করা উচিত নয়)
২. নিজের রুম নিজেই পরিস্কার-পরিছন্ন রাখা। মাঝে মধ্যে ননদের রুমে গিয়ে তাদের কাপড়-চোপড় সুন্দর করে সাজিয়ে রাখলে তারা খুশি হবে। ভাবীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে।
৩. ননদ পড়াশুনা ঠিকমত করছে কি না তদারকি করা। বিবাহিত ননদ বাপের বাড়ীতে এলে হাসি-মুখে বরণ করে নেয়া। সাধ্যমত সার্ভিস দেয়া।
৪. সঠিক পথে চলতে নিদের্শ দেয়া। ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলতে উৎসাহ দেয়া।
৫. ননদের ব্যক্তিগত কোন সমস্যা দেখা দিলে সুন্দর সমাধান করা।
৬. ননদকে নিয়ে শপিং করা। তাদেরকে মাঝে মধ্যে উপহার দেয়া।
৭. স্বামীকে ননদের প্রশংসা করা।
৮. ননদের ছোট ছোট ভুল-ক্রটিগুলো ক্ষমা করা।

ননদের বুঝা উচিত যে, এক সময় তাকেও শাশুর বাড়ীতে যেতে হবে। স্বামীর সংসারের কাজ করতে হবে। ননদের হাতে নাজেহাল হতে হবে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভাবীর সাথে ঝগড়া না করে সংসারের প্রতিটি কাজে ভাবীকে সহযোগিতা করলেই সংসারে শান্তি আর শান্তি। ভাবীর সাথে ঝগড়া করলে ভাইকে হারানোর সম্ভাবনা বেশী থাকে। ননদকে মনে রাখতে হবে, যে কোন প্রয়োজনে তাকে বাপের বাড়ীতে আসতেই হবে। তাই ভাবীর সাথে ঝগড়া করা ভাল নয়।

আর ভাবীকেও ননদের ছোট ছোট ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা উচিত।

লেখকঃ সাহিত্যিক, কলামিস্ট 

 

আরও পড়ুন