নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বলছি

মনিরুল ইসলাম

কিছুদিন আগেও ‘নিম্নমধ্যবিত্ত’ শব্দটির অর্থ ভালভাবে বুঝতাম না। কিন্তু এখন এর বাস্তবতা অনেকটাই বুঝে ফেলেছি। এর বাস্তবতার সম্মুখে সবাই দাড়িয়ে থাকতে পারে না। “পকেটে ১০টাকা আর বুকে হাজারটা স্বপ্ন নিয়ে পথচলা ছেলেটার নামই হয়তো নিম্নমধ্যবিত্ত” এই অসহায় ছেলেদের মনের ব্যাথা যেন কেউ বুঝতে চায়না। সেই সব ছেলেরা হাজারটা স্বপ্ন ঘাঁ বানিয়ে অন্তরে পুষে রাখে। তবুও জীবনের হাল ছাড়েনা তারা। অতি সহজেই না পারে জীবনের লক্ষ্যে পৌছতে আর না পারে হাল ছেরে দিতে। এত কষ্টের মাঝেও কাটা গাঁয়ে নুনের ছিটা দেয় মোনাফেক শ্রেণীর কিছু মানুষ। কি যন্ত্রনা এই নিম্ন মধ্যবিত্তদের। এত কষ্টের মাঝেও হাসি দিয়ে ঢেকে রাখে কষ্টে আশ্রিত মুখটি। পরিশেষে বলি, “মহান আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন” আর কষ্ট কখনো বিফলে যায়না। তাই আপনারা এগিয়ে চলুন আপনাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে।

নিম্ন মধ্যবিত্ত শব্দটা শুনলে মাঝে মাঝে হাসি পায়। এর আওয়াজটা অনেকটাই সুমধুর কিন্তু বাস্তবতাটা পুরাই ভিন্ন। এই ক্ষণস্হায়ী জীবনে রকমারি পরিস্থিতির সম্মুক্ষীণ হতে হয় সমাজের অবহেলিত অভিজাত শ্রেণি কিছূ মানুষদের। এই অদ্ভুদ খেলতামাশা দুনিয়ার নিয়মে সামাজিক অধিকার পর্যন্ত পায়না এরা। দিন এনে দিন খাওয়া আর মাসের শেষে সামান্য কিছু অংকের মায়না দিয়ে সংসার চালাতে হয় তাদের। ইচ্ছা করলেও পারিবারিক মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারে না তারা। যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে হয়ত কোনরকম সংসার চলে কিন্তু ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ বহন করা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পরে। দুর্ভাগ্যবশত হাজার হাজার মেধাবী ছাত্র ছাত্রীরা জীবনের লক্ষ্যে পৌছার আগেই ঝড়ে পরে। পরিশেষে, খাতা কলমের পরিবর্তে হাতে তুলে নিতে হয় কর্মবৃদ্ধির উপকরণ। এই সব ছেলে মেয়েরা উচ্চবিত্তদের মতো হয়ত অনেক টাকার মায়না পায়না।

তবে ২-৪ মুঠো মুড়ি হলেও সবাই একসাথে খায়। পিতামাতার কাজে সহযোগিতার জন্য সদা তৎপর থাকে এই সব সন্তানগুলি। এত করুণ অবস্হা দেখেও যেন এগিয়ে আসে না ব্যাংকে জমানো কোটি টাকার মানুষগুলি। তাই আমাদের দেশে বর্ণবৈষম্য দুরিকরণের জন্য এগিয়ে আসতে হবে সচেতন শ্রেণির কিছু মেধাবিদের।

দুনিয়াটার স্বাদ কেমন একমাত্র তারাই পুরোপুরিভাবে বুঝতে পারে। পরিবারের কোন সন্তান যদি কোন কাজে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে প্রতিনিয়তই “কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিতে থাকে” সমাজের ভন্ড শ্রেণির কিছু মানুষ। আর যদি ঐ একই ছেলে কোন কাজে সফলতা লাভ করে তাহলে সমাজের মানুষ বলবে অমুকের ছেলেটা এত কষ্ট করার পরেও কি ভাল কাজটাইনা করল। অথচ ঐ একই ব্যক্তি একটু আগেইতো কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিয়েছিলো। এই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, জি আপনাকে বলছি কে কি বলল ওগুলোর প্রতি কান না দিয়ে সামনের প্রতি এগিয়ে চলুন। একটু লক্ষ্য করুন আপনার চেয়েও করুণ খারাপ অবস্হা ছিল এই সব ব্যক্তিদের ১.কাজী নজরুল ইসলাম ২.আব্রাহাম লিংকন ৩.আলবার্ট আইনস্টাইন ৪.স্টিভ জবস ৫.আব্দুল হামিদ খান ভাষানী ৬.সাবেক ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান সহ আরও অনেকে। নিম্মধ্যেবিত্তরাই স্মার্ট। কারণ, তারা সব পরিবেশেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। তাই মাঝে খারাপ লাগলেও ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। কারণ, পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না।

শিক্ষার্থীঃ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

আরও পড়ুন