পরিবার এবং সমাজে মানসিক নির্যাতন

মিনা

আমাদের প্রথম পরিচয় হলো আমরা মানুষ আর মানুষ হিসেবে আমাদের বিবেক আছে। আছে একটি মন এই মন কখনো খারাপ কখনো ভালো থাকার পেছনে অনেক সময়েই মানুষের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দায়ী থাকে। সেই পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকেই চলে আসছে মানুষের সাথে মানুষের বসবাস। একটি সমাজে একটি পরিবারে আমরা থাকি এই সমাজে ভিন্নরূপী মানুষদের সাথে আমাদের চলতে হয় কথা বলতে হয়।

শারীরিক অসুস্থতা সবাই দেখতে পেলেও মানসিকভাবে একটা মানুষ কতটুকু ভালো আছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। অনেকসময় ভাঙ্গা মন নিয়েও হেঁটে বেড়ায় মানুষগুলো। কারো বাহ্যিক রূপ দেখে বিবেচনা করাটাই আমাদের স্বভাব। আমরা কখনো একজন মানুষের মানসিক পরিস্থিতি কেমন তা বুঝার চেষ্টা করি না যখন যা ইচ্ছা তা বলে দেই ভাবি না এই কথায় তার মানসিক চাপ তৈরি হবে কিনা। আবার অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা একে অন্যকে মৌখিক আঘাত করি । এই সেই সমাজ যেখানে কাউকে সুন্দরভাবে বাঁচতে সহায়তা করা হয় না বরং জীবনটাকে এলোমেলো করে দেয়।

কথার আঘাত অনেক সময় আমাদের মনকে বিপর্যস্ত করে । পরিবারে এই জিনিসটি অনেক বেশী হয় । একজন ব্যাক্তিরদুর্বলতা আমরা জানি এর মানে এই নয় আমরা তার সুযোগ নিবো এই ধরণের আচরণে পরিবারের শান্তি বিনষ্ট হয়। সৃষ্টির সেরাজীব হিসেবে আমাদের সেরা আচরণ করা উচিত। সবাই সব গুনে গুণান্বিত হবে না আর এটাই স্বাভাবিক। আর কাউকে ছোটকরার মধ্যে কোন গৌরব নেই। সবচাইতে বড় সমস্যা হলো আমরা অন্যদের বুঝতে চেষ্টা করিনা।

কারো ব্যাক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা, কাউকে অবজ্ঞা ,অবহেলা , অপমান করা ,ভয় দেখানো, এমন কোন মন্তব্য করাযেটাতে সে সংকোচ বোধ করে কষ্ট পায়, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা যা একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় হতাশাগ্রস্ত করেতোলে।

এক জরিপে দেখা গেছে মানসিক নির্যাতন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলেদের থেকে মেয়েদেরকে বেশী করা হয় । নিজের পরিবার থেকে শুরু করে স্বামীর বাড়িতেও তারা এর স্বীকার হোন। একজনের একটা দিক অন্যের কাছে ভালো নাও লাগতে পারে এর জন্য বারবার তাকে সেই বিষয়ে বলার কারণে ঐ ব্যক্তির মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এই মেন্টাল প্রেশার থেকে মানুষ সুইসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে । আমরা খুন করছি প্রতিনিয়ত মানসিকতাকে খুন করে মেরে ফেলছি ভেতরের মানুষটাকে।

অন্যের সমালোচনা করতে মজাই যেন আলাদা কখনো ভাবিনা আমরা আমাদের একটি কথায় অন্যের মনে কি প্রভাব ফেলতে পারে। একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষকে বুঝতে পারা সবচাইতে দুর্বোধ্য কাজ।হাতে পায়ে অনেক বড় হয়ে যায় মানুষ কিন্তুমন মানসিকতা ছোটই থেকে যায়।

সময়ের সাথে সাথে কেন আমাদের মানসিকতা উন্নতি হয় না এর জন্য কি আমরা নিজেরাই দায়ী নই ?

সত্যিই কি আমরা ভালো আছি ? অন্যদেরকেও ভালো রাখার চেষ্টা করছি ? আর যদি তা না করি তবে কেন অন্যের মনে কষ্টদিয়ে তাকে মানসিক নির্যাতন করছি অন্যের কাছে নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করে কখনোই সম্মান পাওয়া যায়না । সম্মান অর্জন করেনিতে হয়।

প্রত্যেক মানুষ চায় সুন্দরভাবে বাঁচতে আর এটা তার মৌলিক অধিকার। বেঁচে থাকুন নিজের মতো করে অন্যের প্রতি অসদাচরণকরে নিজের বেঁচে থাকা কৃতিত্বহীন । মানসিক অত্যাচার নয় অন্যের মনে মানসিক প্রশান্তি আসবে সেই কাজগুলো করুন। নিজেবাঁচুন অন্যকেও বাঁচতে সাহায্য করুন নিজের পরিবার এবং সমাজকে উপহার দিন ভালো আচার ব্যবহার কথা বলার আগেভাবুন কি বলা উচিত আর কি বলা অনুচিত। দিন দিন আমাদের এই ব্যবহারের অধঃপতন মনে করিয়ে দেয় যে আমরা কতটানীচে নেমে যাচ্ছি।

Neha VB বলেছেন; Physical injury can be heald, not the mental torture ! It’s like a slow poison that kills you each day.

সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় পরিস্থিতি শুধু বদলায়না এই মানুষগুলো একই আচরণ হয়তোবা প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দৈহিক মৃত্যুতেশোকের ছায়া নেমে আসলেও অদৃশ্য মানবিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত নয় । তবে মানবিক এই মৃত্যু ধ্বংস করে দিচ্ছে একটিসুন্দর পরিবার একটি মূল্যবান জীবন মেরে ফেলছে মানুষের ভেতরে থাকা আমিটাকে ।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন