বড় ছেলে

-আবদুল্লাহ আরমান

দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় ছেলে একজন “অঘোষিত কর্তা”। সংসার যুদ্ধের ত্যাগী ও সাহসী যোদ্ধা পিতার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য বড় ছেলেকে বারংবার বার্তা দেয় নেতৃত্ব বুঝে নেয়ার! টগবগে যৌবনের মধু বসন্ত না পেরোতেই  অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতা সত্বেও বাধ্য হয়ে তাকে নামতে হয় সংসারের রণক্ষেত্রে! মৃত্যু অবধি এ যুদ্ধ থেকে পশ্চাৎগমন কিংবা  ফেরার পথ তার চিরতরে বন্ধ! তাইতো জীবন যুদ্ধের হাজারো তীরে বিদ্ধ আহত শরীর নিয়েও প্রিয় মুখগুলোর জন্য সে আমরণ হাসিমুখে লড়ে যায়!

ধনী পিতার উত্তরাধিকারী হওয়ার অর্থ যুদ্ধের ময়দানে বন্দুক-বুলেট ও অন্যান্য যুদ্ধ সরঞ্জাম সবই আছে শুধু ট্রিগার চেপে নিজের জন্য জায়গা করে নেয়া। কিন্তু মধ্যবিত্ত পিতার বড় সন্তান একজন নিরস্ত্র সৈনিকের মতো। দুর্দান্ত সাহস, নিজ দক্ষতা,অদম্য মনোবল এবং প্রিয়জনদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধই তার শক্তি,তাই পরাজয় শব্দটি তার অভিধানে থাকতে নেই! শতবার হোঁচট খেলেও নব উদ্যমে তাকে উঠে দাঁড়াতেই হয় !

মা-বাবা তার মাথার তাজ, হৃদয় জুড়ে সহধর্মিণীর প্রেম, ছোট ভাইবোন ও সন্তান তার ভালোবাসার বাগানের  এক একটি ফুল! কারও উপর কাউকে প্রাধান্য দেয়া যেমন তার পক্ষে অসম্ভব তেমনি তাদের ভালোবাসার এ মধুর বোঝা দিনের পর দিন বয়ে বেড়ানোও তার জন্য দুঃসাধ্য বৈকি! উপরন্তু সে যদি শিক্ষিত বেকার হয় তাহলে এ বোঝা তার জীবন যন্ত্রণায় পরিণত হয়!

মা-বাবার সেবা, সন্তান ও ছোট ভাইবোনদের অধ্যয়নের খরচের পাশাপাশি হাজারো আবদার পূরণ ও জীবন যুদ্ধের সঙ্গিনীকে উপযুক্ত মূল্যায়ন ও সংসার জীবনের নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে যেতে নিজের দিকে তাকানোর ফুরসত তার নেই। কিন্তু তাতে কি! কষ্ট ও ঘামের সাগরে হাবুডুবু খেলেও প্রিয়জনদের একটুখানি কৃতজ্ঞতাবোধ ও হাসিমুখই যেন তার পার্থিব হাওজে কাওসার, যা হাজারো কষ্টের তৃষ্ণা নিমিষেই মিটিয়ে দেয়!

ছোট ভাই-বোনরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যখন তারা ফিরেও তাকায় না, অভাবে জর্জরিত স্ত্রী যখন বিরক্ত হয়ে বলে “তোমার কাছে এসে সুখ পেলাম না”, তার রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে কেনা ক্যারিয়ার পেয়ে সন্তানও যখন অচেনা যায়,তখন ছলছল নয়নে আকাশের দিকে তাকিয়ে সে জীবনের অংক মেলানোর চেষ্টা করে কিন্তু ততক্ষণে যে অনেক দেরী হয়ে গেছে…..!!

★★ (দায়িত্বজ্ঞানহীন কুলাঙ্গার ছেলেরা এক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়)

আবদুল্লাহ আরমান – সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন