ভারতে দেশান্তরী হওয়া দিদির ভালোবাসা!

তৃপ্তি পোদ্দার

আমার শৈশবে একটি ভালোবাসার নাম হলো বিষ্ণুপ্রিয়া দিদি, তুমি যখন ইন্ডিয়া চলে গেলে আমাদের মন অনেক খারাপ হয়েছিল, অনেক কেঁদেছিলাম কিন্তু আজ তোমার ম্যাসেজ “কেমন আছিস সোনা” মনে হলো ১৯৯৪ সালে ফিরে গেলাম। তোমার কোকড়াঁনো চুলগুলো মনে আছে কিন্তু তোমার মুখটি কেন যেন পরিষ্কার মনে পড়ে না।

তোমার আদর তোমার যত্ন আজও ভালো লাগায়, শিখিয়েছে ছোট ছোট বোনদের কিভাবে ভালোবাসতে হয়।

তোমার লিপস্টিক, তোমার টিপ, তোমার সেই তিব্বত পাউডার সব কিছুর গন্ধ এখনও নাকে যেন লেগে আছে, এগুলো তোমার ছিলো কিন্তু সাজাতে তো আমাদেরকে। আলতা দিয়ে দিতে দু’পা ভর্তি করে, কেমন দেখতে লাগতো ওঠা কিন্তু আমাদের মাথায়ও আসতো না কারণ সুন্দর দেখতে লাগার মত আমাদের কি সময় ছিল বলো? আমরাতো তোমার কাছ থেকে সাজতে পারলেই মহাখুশিতে আন্দোলিত হতাম, কারণ বাবাতো কসকো সাবান আর তিব্বত স্নো ছাড়া আর কিছুই কিনে দিবে না। তিব্বত স্নোও কিনে দিতে রাজি হয়েছিলো মায়ের ঘ্যানঘ্যানানিতে, তা না হলে তো বোরোলিন মেখেই জীবন কাটতো।

দিদি তোমার টেক্স আর তোমার সাথে কথা বলার পর কেন যেন বকুল গাছতলায় বৌঁচি খেলার কথা, পুতুল বিয়ে দেবার কথা সব কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে -সব হারানো স্মৃতি।

আমাদের সকালের গলা সাধা, তোমাদের বাড়ি থেকে আরও প্রতিবেশীরা যখন রেওয়াজ করতে তখনই আমার মায়ের বলা শুরু হত “ওরে তৃপ্তি, সুপ্তি তোরা কি আজও হারমোনিয়াম ধরবি না” । তুমি ভালো রেজাল্ট করতে আর আমরা বকা খেতাম কারণ তোমার অনুসারি হয়ে আমরা কেনো প্রতিটি শ্ৰেণীতে প্রথম হলাম না।

ইশ, আমাদের ছোটবেলা। তোমার আদর না পেলে বোঁধাহয় আজকের এই উপলব্ধি আর ভালোলাগার স্মৃতির গল্প অনেকটা হালকা হতো।

তোমার মতো দিদি যেনো প্রতিটি ছোট বোনেরা পায় আর ছোট বোনগুলো যেন তাদের দিদির দেশান্তরী হবার জন্য অনেক কষ্টে মূর্ছা না যায়, অনেক কেঁদেছি তোমার চলে যাবার পর, রাগ ও অভিমান ছিলো অনেক বেশি কারণ রাতে সুপ্তি আর আমি পরিকল্পনা করতাম দিনে স্কুল থেকে এসে কখন তোমাদের বাসায় যাবো।তুমি চুলে ঝুটি করে সাজিয়ে দেবে আর বলবে আমায় আফছানা মিমির মত দেখায়।

ইশ, সেই দিনগুলি!!!! Love and respect you Didi

লেখকঃ আর্লি ইয়ার্স এক্সপার্ট, ইউকে

আরও পড়ুন