পিতা-মাতাকে অবহেলা সামাজিক নয় নৈতিক অবক্ষয়!

মোসা: নাছরিন সুলতান

দিন বদল এর সাথে সাথে আমাদের নৈতিকতার এতোটাই অবক্ষয় শুরু হয়েছে যে, এখনকার যুগে বাবা, মারা সন্তানদেরকে না পারছে বলতে না পারছে সইতে!!!!

আমি আজ সে সকল বাবা মার কথা বলব যাদের গল্প শুধু শুনে আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেলি আর নিরবে একটু দুঃখ করি! প্রতিদিন এমন হাজার ঘটনা আমাদের চোখে পরে যে বাবা মা তার শেষ সম্বলটুকু দিয়ে ছেলে মেয়েদের বড় করছেন অথচ এক পর্যায়ে গিয়ে তারা তাদের বাবা মাকে চিনেই না!!! কেউ বৌউয়ের কারণে, কেউ মেয়ের কারনে, কেউ ছেলের কারনে এমন বিভিন্ন কারনে বৃদ্ধ বয়সে এসেও কাউকে রিকশা চালাতে হয়, কাউকে অন্যজনের বাড়িতে কাজ করতে বা ভিক্ষা করতে হয়, আবার কারো জায়গা হয় বৃদ্ধাশ্রমে!!!!

যেমন কয়দিন আগেও একজনের কাছে শুনেছি বাবা মা দুজনই চাকরি করতেন! মেয়ে বাবা মার কাছে থাকত বলে ছেলে ও ছেলেদের বৌউদের কোন দিন নিজের কাছে রাখার চিন্তাও করেননি!!! মেয়ে মেয়ের জামাই ও তাদের সন্তানদের দেখা শুনা করতেন সবসময়। শেষ পর্যন্ত তাদের পেনশনের টাকা দিয়ে মেয়েকে আলিশান ফ্লাট কিনে দিয়েছেন! এখন আর তাদের টাকা পয়সা নেই মেয়ের ও প্রয়োজন শেষ! মেয়ে এখন নতুন ফ্লাটে উঠবে সেখানে তো বুড়োবুড়িকে নেওয়া যাবে না! এখন বলে মা বাবারা তো ছেলের বাসায় থাকবে এটাই নিয়ম তোমরা তোমাদের ছেলেদের কাছে যাও!!!!!

অন্য দিকে দেখা যায় বাবা মারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ছেলেদের বড় করে কিন্তু বিয়ের পর হয়ে যায় বউই সব!! বাবা, মা ছেলের বউদের অত্যাচারে বাসায় কথা বলাতো দূরে থাক অনেক সময় বাসায়ই থাকতে পারে না! এটা হয়ে যায় তার স্বামী, তার সংসার, তার সব, ছেলেটা কোথা থেকে এলো, কে তাকে মানুষ করল সেটা বৌউদের মাথায় থাকে না! রেডিমেট সব পেয়ে দিশাহারা হয়ে যায় বউরা, আর আত্মসম্মানের ভয়ে ছেলেরা কিছু বলতে পারে না যার জন্য বলির পাঠা হতে হয় বাবা মাকে!!! কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আর্মি অফিসার, কেউ শিক্ষক, এমন হাজার উদাহরন আছে আমাদের সমাজে যার কিছু হয়ত আমরা শুনি, বেশির ভাগই অজানা থেকে যায়!!!!

আজ আমি সেসকল বাবা, মা, ও ভবিষ্যৎ বাবা মাদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই আবেগের দিন শেষ বাস্তবে আসেন! আপনি মারা গেলে আপনার সম্পদ এমনিতেই আপনার সন্তান পাবে। তাই দয়াশীল হয়ে নিজের সবকিছু সন্তানকে দিয়ে ভিখারী হয়ে রাস্তা বসবেন না! অনেকেই আছেন চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর যে টাকা পায় তা দিয়ে ছেলেমেয়েদের নামে জমি কিনে, ফ্লাট কিনে, কিন্তু সেই সোনার ছেলেমেয়েরা পরে এই বুড়োবুড়িকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতেও দ্বিতীয়বার চিন্তা করেন না! তাই দয়া করে জীবনে যা কিছুই করেন নিজের নামে করেন নিজের ভবিষ্যৎতের কথা চিন্তা করেন! আপনি বৃদ্ধ বয়সে যেন সম্মানের সাথে মরতে পারেন সে চিন্তাটা আগে থেকেই করেন সব হারিয়ে দিশাহারা হয়ে লাভ নেই!!! কারণ এই নষ্ট সমাজে আপনার সন্তানেরা সামাজিক না হয়ে যে, নৈতিক অবক্ষয় হবে না এর নিশ্চয়তা নেই! তাই বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের পাশাপাশি সম্পদ ও যেন আপনাকে নিরাপত্তা দিতে পারে সেই নিশ্চয়তা নিজেই করুন!!!!

লেখকঃ কলামিস্ট এবং থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

আরও পড়ুন