এ লজ্জার শেষ কোথায়…?

আবদুল্লাহ আরমান

লোকটি হাতজোড় করে বললো “….আমি খুব গরীব মানুষ,কোনমতে কাজ করে খাই। আরও ১৫০০০ টাকা বাকী,এত টাকা কই পাই বলেন! জীবনে কখনও হাত পাতিনি,এখন বাধ্য হয়ে আপনাদের কাছে এসেছি….. ”
কথাগুলো বলতে গিয়ে লজ্জায় লোকটা কুঁকড়ে যাচ্ছিলো। চোখ ও মুখের ভাষায় মিথ্যার কোনো লেশমাত্র নেই। হাসি-কান্না মিশ্রিত চাহনীর মাঝে ছলছলে চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছিল!
পরিচয় হলো,কন্যা দায়গ্রস্ত এ পিতা আমার পাশের গ্রামের! বৃষ্টির মধ্যেই তিনি সম্পদশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সাহায্যের আশায়।

বিশ্বাস করুন,‘পুরুষ জাতি’ হিসেবে,একজন নারীর ‘স্বামী’ হিসেবে সেদিনের মতো কোনদিন আমাকে এতোটা লজ্জায় পড়তে হয়নি! আমার মতোই একজন পুরুষ(?) যে কিনা তার শশুরকে বাধ্য করছে ভিক্ষা করতে! এ লজ্জা কোথায় রাখি!

যারা এখনও বিয়ে করেননি,যৌতুক নেয়ার আগে তাদের নিচের কয়েকটি কথা ভেবে দেখার অনুরোধ রইলো…

★আপনার স্ত্রীর মা ৯ টি মাস বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে কন্যাটিকে পেটে ধারণ করেছেন পরোক্ষভাবে আপনার হাতেই তুলে দিতে!
★সেই মায়ের আতুড়ঘর রক্তাক্ত হয়েছে,কখনোবা মারাও গিয়েছেন আপনার হবু স্ত্রীকে জন্ম দিতে!
★ছোট্ট শিশুটির অসুখ হলে মা-বাবা রাত জেগে যত্ন নিয়েছেন,নিজের সর্বস্ব দিয়ে চিকিৎসা করেছেন শুধুমাত্র আপনার হবু স্ত্রীকে সুস্থ রাখতে!
★আদর দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে,সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে ছোট্ট পুতুলটাকে একজন সত্যিকারের ‘নারী’ বানিয়েছেন শুধু আপনার জন্যই!
★ ভুল পথে গেলে আপনার হয়ে শাসনও করেছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন কেবলমাত্র আপনার আমানতকে রক্ষা করতে!!
★সবশেষে তাদের আদরে লালিত পুতুলটাকে অশ্রুসজল চোখে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন বুকভরা বিশ্বাস নিয়ে! যে একাধারে আপনার প্রেমিকা, সহধর্মিণী,অর্ধাঙ্গিনী,ঘরের রাণী, দুই জীবনের সঙ্গী, শয্যাসঙ্গী, আপনার সন্তানের মা,আপনার শেষ জীবনের নিঃস্বার্থ সেবিকা…..

এতোকিছুর পরেও যদি আপনার যৌতুক প্রয়োজন হয় তবে বিশ্বাস করুন আপনি মানবাকৃতির বিবেক ও মনুষ্যত্ব বিহীন একটি প্রাণী মাত্র!

তাই হে যুবক ভাইয়েরা জেগে উঠুন! এখনই তো সময় এ নষ্ট প্রথা ভাঙার! সত্যিকারের পুরুষতো তারাই যারা নারীকে ভালোবাসতে জানে, সম্মান করতে জানে!

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন