আমার বড় আপু

আফসানা শারমিন

আমি ঐশী ,একটু আগে ফোনে বড় আপুর সাথে রাগারাগি করেছি,বলতে গেলে তুমুল ঝগড়া ।

এই প্রথম আপুর সাথে আমার ঝগড়া, বরাবরই আমার রাগ বেশি ।
ঝগড়া টা আমিই শুরু করেছিলাম, করবো নাই বা কেন ? এত বড় হয়েছি, ভার্সিটিতে পড়ছি, তবুও একটা কিছু ভালো করে রান্না করতে পারি না, মেসের খালা বলে গেছে কয়েকদিন আসবে না, মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যাবে। সকালে নুডলস রান্না করে খেয়েছি, বাকি কয়েকটা দিন কি করবো ভেবে মাথা গরম হয়ে গেছে তাই আপুর সাথে রাগারাগি করেছি ।
আমার লেখাপড়া ছাড়া অন্য কিছু করতে ইচ্ছে করে না।
আমি কখনো রান্না করতে চাইতাম না, আর আপু ও জোর করে করতে দিতো না।যার খেসারত এখন আমার দিতে হচ্ছে ।আপুর সাথে রাগ করে বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে আছি,পুরনো সব স্মৃতি মনে পরছে ।

আমরা তিন ভাই বোন,বাবা ব্যবসা করতো , আর মা স্কুল শিক্ষিকা ।
আমি ঐশী, বড় আপুর নাম শশী, আর ভাই পরশ ।

পরশ হওয়ার আগে আমারা দু বোন কখনো ঝগড়া করি নাই, এমনকি সামান্য খুনসুটি ও না।বড় আপু আমাকে তার খেলনা হাড়ি পাতিল, পুতুল খেলার জন্য দিতো ,আর আমরা একসাথে খেলতাম।খেলার মধ্যে বড় আপু রান্না করতো ,কত কিছু বানাতো, পুতুলদের গোসল করাতো, নতুন জামাকাপড় পরিয়ে দিতো।
আমরা কখনো ইট বালু দিয়ে রান্না বাটি খেলতাম না, শহরের বাড়িতে এসব পাওয়া যায় না ।
আপা চাল দিয়ে ভাত বানাতো ,আর কাগজের টুকরো দিয়ে মাছ-গোশতো ,কাগজে লিখা থাকতো মাছ-গোশতো ,আর আর মাঝে মাঝে রান্না ঘরে রাখা শাকের আঁটি থেকে পাতা দিয়ে সবজি রান্না করতো।
খেলা শেষে সব কিছু আবার আগের মতো গুছিয়ে রাখতাম।
এক কথায় বলতে গেলে আপু যা করতো আমি তাই করতাম,সন্ধ্যার পর আম্মু আপুকে পড়াতো,আর আমাকে একটা কলম আর খাতা দিতো, আমি খাতাতে গোল গোল করে আঁকিবুকি করে অক্ষর বানাতাম।
আম্মু আমাদের একরকম জামা বানিয়ে পরাতেন।
পরশ হওয়ার পর আমার জায়গাটা পরশ দখল করে ।
হঠাৎ আব্বু স্ট্রোক করে মারা যায় ।আম্মুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে,আম্মু আমাদের তিন ভাইবোনকে বুকে আগলে রেখে মানুষের মত মানুষ করার চেষ্টা করেছেন।কখনো আব্বুর অভাব বুঝতে দেননি,আমাদের এ জীবন সংগ্রামে আম্মু ড্রাইভার আর আপু হেলপার ,বাকি আমরা দুজন অকুতোভয় যাত্রী যেন শত শত কষ্ট, দুঃখ পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে চলছি,এক আলোকিত নতুন ভোরের জন্য যেখানে কোন কষ্ট থাকবে না।

তখন থেকে দুবোন একসাথে আলাদা রুমে ঘুমাই,পড়তে বসলে পরশ সব বই খাতা টেনে ছিড়ে ফেলতো।
আপু পরশকে কোলে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাখি আর মানুষ দেখাতো,এই ফাঁকে আম্মু আমাকে পড়াতো।
পরশ ছিড়ে ফেলার ভয়ে সব বই খাতা টেবিলের ভিতর লুকিয়ে রাখতাম।
পরশ আপুর সব কথা শুনে , ও যখন আধো আধো ভাষায় কি বলতো ,আপু সব বুঝতো।আমি আর আম্মু কখনো তা বুঝি নাই।
আমাদের দুবোন কে আম্মু স্কুলে দিয়ে আসতো ,আমার আগে ছুটি হতো আম্মু আমাকে নিয়ে আসতো আর আপু বান্ধবীদের সাথে বাসায় আসতো।
স্কুলের টিফিন টাইম এক ছিল, আম্মু আপুর কাছে টিফিন বক্স দিয়ে দিতেন ।টিফিনের সময় আপু আমার ক্লাসে চলে আসতো।আমি আপু মিলে টিফিন করতাম।
আপুর রোল সবসময়ই প্লেসের ভিতর থাকতো,আমিও এক দুই হতাম।একবার তিন হওয়াতে খুব কেঁদেছিলাম, সেবার আম্মু ,আপু অনেক কিছু বুঝিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে ছিলো।
আমি আর আপু পরশকে খুব আদর করতাম ।
পরশ রাগ উঠলে আপুর চুল ধরে টেনে ছিড়ে ফেলতো , কখনো রাগে আপুর কানের দুলের ভিতর আঙুল দিয়ে টানতো, আপু ব্যথায় চিৎকার করতো কিন্তু কখনো ওকে মারে নাই ,এমনকি আমার সাথে পরশ মারামারি করলে আমাকে বুঝতো আর আমার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আপু ওকে কোলে নিয়ে অন্য রুমে চলে যেতো ।
আম্মু বাসায় আসলে আমি বিচার দিলে আম্মু পরশকে শাসন করতে গেলে পরশ আপুর পিছনে লুকিয়ে থাকতো। রাতে কারেন্ট চলে গেলে পরশ আম্মুর তসবিহ্ গলায় দিয়ে রাখতো,একে তো সাদা সেন্টু গেঞ্জি পরতো আবার গলায় সাদা তসবিহ্, এতে ওকে অন্ধকারে ছোট্ট ভূতের মতো লাগতো ।কখনো খেলতে গিয়ে পরশ বড় বা ছোট যে কোন ব্যথা পেলেই ওকে ব্যান্ডেজ করে দিতে হতো।একটু আঙুল কেটে গেছে, ঔষধ লাগিয়ে তুলো দিয়ে কাপড় পেঁচিয়ে আপু ব্যান্ডেজ করে দিতো।একবার নাকে ব্যথা পেয়েছিল নাক ব্যান্ডেজ করতে গিয়ে দু চোখ আর ঠোঁট বাদে সমস্ত মুখমণ্ডল আপু ব্যান্ডেজ করে দিছে, ব্যান্ডেজ করার পর পরশ বার বার আয়নায় নিজে কে দেখে আর আপুকে বলে বড় আপু দেখ আমাকে কত সুন্দর লাগছে, এ অবস্থা দেখে আমরা হেসে উঠি।

আপু স্কুলের অনুষ্ঠানে অনেক সুন্দর করে কখনো কবিতা আবৃত্তি, কখনো গান বা অভিনয় করতো।কত পুরস্কার পেতো,কবিতা লিখতো স্কুলের দেয়ালিকাতে তা আসতো।

আম্মুর একার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ দিয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়ে।কারোর বাসায় গিয়ে পড়ানো আম্মু পছন্দ করতো না। তাই
আপুর কাছে আশেপাশের বাসার বাচ্চারা পড়তে আসতো,আপু ওদের যত্ন করে পড়াতো । হৃদয়, শফিক ,সিয়াম, রকিব, সাকিন, তাবাস্সুম, রুপালিরা পড়তো।
সফিকের ছোটবেলায় পোলিও জ্বরে মুখ বাঁকা হয়ে যায়, কতক্ষণ পরে পরে মুখ দিয়ে লালা পরতো,আপু ওকে বলে দিতো রুমাল দিয়ে মুখ মুছার কথা ,ও প্রতিদিন সুন্দর করে গায়ে পাউডার দিয়ে, চুল গুলো আচরিয়ে হাতে রুমাল নিয়ে পড়তে আসতো।
আপু ওকে আদর করে পড়াতো, কবিতা বলতে পারলে আপু যখন বাহ বাহ সুন্দর হয়েছে বলতো শফিকের মা তখন খুশিতে কেঁদে
দিতো।
আপু বাসায় আম্মুর সাথে সব কাছে সহযোগিতা করতো,আমার আর পরশের জন্য খাতা বই মলাট করে সেলাই করে দিতো,আমাদের স্কুল ড্রেস জামা কাপড় ধুয়ে সব গুছিয়ে রাখতো।আপু কাজের ফাঁকে ফাঁকে কখনো গুন গুন করে গান গাইতো …

“আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলাতে চাই,
আমি মেঘে ঢাকা চাঁদের মতো জোসনা ছড়াতে চাই,
আমি গানে গানে প্রাণে প্রাণে বেদনা লুকোতে চাই ….”

আপু নাইনে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়।বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্য তা আর হয় নি।

রোজার মধ্যে স্কুল বন্ধ থাকাতে আপু বাসার সব কাজ করতো, সেহেরি ইফতার আপু ই রান্না করতো।
কতবার রান্না করতে গিয়ে আম্মুর বকা খেয়েছে ,হাত পা পুড়েছে, তারপরও সব করতো ।
ঈদে নকশি পিঠা বানাতে গিয়ে ভুল হয়েছে বলে আম্মু পিঠা ভেঙে দিয়ে বলতো আবার বানাতে, আপু আবার বানাতো আবার ভুল হলে আবার আম্মু ভেঙে দিতো ,আপু মন খারাপ করতো না বরং অনেকটা খুশি হয়ে আবার পিঠা বানাতো। আমার রাগ হতো ,এখনকার ঈদে আপু একাই সুন্দর করে সব পিঠা বানায়।
প্রত্যেকবার ঈদের আগের রাতে আশেপাশের মেয়েরা আপুর কাছে মেহেদী পরতে আসতো,আমি মেহেদী ডিজাইন করে দিতে পারি না, আপু ওদের দিয়ে দিতো আর আমি বসে তা দেখতাম।
অনেক রাত অব্দি দেরি হয়ে যেতো,শেষে আমাকে মেহেদী দিয়ে আপু আমার হাত ধরে রাখতো আর আমি ঘুমিয়ে পরতাম । ঈদের দিন আপু সব কাজ শেষ করে মেহেদী পরতো , আমাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতো ক্লিপ দিয়ে চুল গুলো বেঁধে দিতো , আর নিজে চুলে লম্বা বিনুনী করে চোখে হালকা কাজল পরতো ,এতেই আপুকে অপ্সরীর মতো লাগতো।
আম্মুর কাছ থেকে দেখে শিখে আপু বিভিন্ন রকম সেলাই কাজ, পিঠা, আচার বানাতো।
আপুর গাঁয়ের রং শ্যামলা বলে আম্মু প্রত্যেক বার জামার কাপড় কেনার সময় গাড় রংয়ের কাপড় কিনতে বলতো,কিন্তু আপুর হালকা রং পছন্দ তাই প্রতিবারেই আম্মুর কথা শুনতো আর আম্মুর পছন্দকে প্রাধান্য দিতো। এখন অবশ্য আম্মু ই আপুকে নিজের পছন্দ মত জিনিস কিনতে বলে ।
সব কাজ শেষ করে আপু রাত জেগে পড়তো।

এস এস সি তে গোল্ডেন এ প্লাস পায়। গোল্ডেন এর খবর শুনে আম্মুর মুখ টা কালো হয়ে যায়। না আম্মু খুশিতে আপুকে জড়িয়ে ধরেনা বরং আপুকে বলে শশী মা আমার ,তোমাকে লেখাপড়ার শেষ পর্যন্ত পড়াতে পারবো তো? এতে যে অনেক টাকা লাগবে। আপু সিজদায় পড়ে কাঁদে, আল্লাহ্ তায়ালার কাছে সাহায্য চায়। আত্মীয় স্বজনরা আপু ভালো রেজাল্ট করাতে অনেক খুশি হয়।সবাই উৎসাহ দেয়।

কলেজে ভর্তি হলে আপুর কাজ আরো বেড়ে যায়, আপু কলেজে ক্লাশ করে এসে, বাসায় ছেলেমেয়েদের ব্যাচ করে পড়াতো। আমি একটু সহযোগিতা করতাম মাঝে মাঝে, আপু কাজ করতো আর পড়তো, পাশাপাশি আমাকে আর পরশকে পড়া দিতো ,আর নিতো।
আপুর এইচএসসি পরীক্ষার সময় আম্মু অসুস্থ হয়ে যায়, পদার্থ বিজ্ঞানের ২ টা পরীক্ষা সকালে পড়ে পরীক্ষা দেয়,ফলে এ প্লাস আসে নি।
মেডিকেল কলেজ পড়ার জন্য কোচিং করে ছিল।প্রচুর পড়তো, দিনে দু তিন ঘন্টা ঘুমোতো, মেরিট লিস্ট এর কাছাকাছি পজিসন আসে,কিন্তু চান্স হয় নাই।অনেকে প্রাইভেটে ভর্তি হতে বলে আম্মু রাজি হয় না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়ে ছিলো , হয় নাই ।
আপু বিছানায় গড়াগড়ি করে কেঁদেছে, তিন চার মাস কারোর সাথে ভালো করে কথা বলতে পারেনি।পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সাবজেক্ট এর জন্য স্বপ্ন পূরণ হয় নাই,ঐ সাবজেক্টে ই অনার্সে ভর্তি হয়।তখন আপুর মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হতো আপুর সুখ গুলো কেউ ছিনিয়ে নিয়েছে ,আপু মন খারাপ করে রাখতো,হাসতো না , গান করতো না, যেন সব ভুলে গেছে ।
অনেক দিন লেগেছিল আপুর স্বাভাবিক হতে।

অনার্সে প্রত্যেক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে ।আম্মু আপুকে উৎসাহ দেয়,ডাক্তার হতে পারোনি তাতে কি হয়েছে, তুমি অধ্যাপিকা হবা ,তোমার মনের স্বপ্ন গুলো হাজার ছেলেমেয়েদের বিলিয়ে দিবে, তাদের কে ভালোবাসো ,তারাও তোমার মতো মানুষের সেবা করবে।

আপু মাঝে মাঝে যখন অনেক হতাশাগ্রস্ত হয়,আম্মু আপুকে সাহস দেয়, আবার আম্মু যখন দুশ্চিন্তা করে আপু আম্মুকে সান্ত্বনা দেয়।
আমি আর পরশও আপুর মতো মেধাবী, আমি ও ক্লাশ ফাইভে ,এইটে বৃত্তি পাই, এস এস সিতেও গোল্ডেন এ প্লাস পাই।
আপু ভার্সিটিতে পড়তে পারেনি বলে ,আমাকে ভালো করে পড়তে বলে,আমার ভর্তি পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে আমার সব কিছু করে দিতো, আমাকে কিছু করতে দিতো না। বলতো আমার একটাই কাজ শুধু পড়া।
আল্লাহ্ তায়ালার রহমতে, আম্মু আর সবার দোয়ায় আমার চেষ্টায় ভালো ভার্সিটিতে চান্স পাই,ভালো একটা সাবজেক্ট এ পড়ছি।
পরশের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা , সে ও ভালো করে পড়ছে।
আপু মাস্টার্স শেষ করে কলেজে শিক্ষকতা করছে,পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে কাজ করছে।
পথশিশুদের জন্য একটা স্কুল করছে, বিকেলে তাতে সময় দেয়।
আমি মাঝে মাঝে আপুকে বলি,

তোমার সাথে মানুষ খারাপ ব্যবহার করলে ও তাদের সাথে কেন হেসে ভালো ব্যবহার করো ?

আপু বলে, আমিও যদি তাদের মতো খারাপ আচরণ করি ,তবে তাদের সাথে আমার আর পার্থক্য থাকবে না , একটা সময় তারা বুঝবে আমি সঠিক ছিলাম, আমি তাদের ভালো চেয়েছি,হয়তো তখন আমি থাকবো না।

আপুর সাথের মেয়েরা যখন স্বামী- সংসার, বাচ্চা, শ্বশুর বাড়ি নিয়ে চিন্তা করে ,আপু তখন আমাদের নিয়ে দু’চোখ ভরে স্বপ্ন দেখে ।

সত্যি সুন্দর একটা স্বপ্ন,ভালো করে বাঁচার স্বপ্ন, যেখানে শুধু আনন্দ থাকবে,কষ্ট থাকবে না, হৃদয়ের হাহাকার থাকবে না,শুধু ভালোবাসা থাকবে,আম্মুর চোখের কোণে জমে থাকা দুঃখ গুলো সুখ হয়ে যাবে।

ভাবতে ভাবতে চোখ ভিজে গেছে…

আম্মু ,আপু আছে বলেই হয়তো আমাদের জীবনের গল্প টা অন্যরকম ।আর আমি এই আপুর সাথে রাগারাগি করেছি……

নাহ্ ,আর রাগ করবো না।সামনের পূজার ছুটিতে বাসায় গিয়ে সব রান্না শিখে আসবো।আমার রান্না করা খাবার খেয়ে পরশ ও বলবে, বাহ, বেশ মজা হয়েছে ছোট আপু, তুমি তো দেখি পাকা রাঁধুনি হয়ে গেছো।

মোবাইল এ মেসেজ আসার শব্দ হলো,আপু খিচুড়ি রান্না করার ভিডিও পাঠাইছে,সাথে বলে দিছে মনে করে লবন দিও কিন্তু! চোখে আর পানি ধরে রাখতে পারলাম না!

আলহামদুলিল্লাহ্ , এইটাই আমার বড় আপু।

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.