বৈবাহিক সম্পর্কে মিথ্যাচার বা প্রতারণা নয়

ডাঃ শিরিন সাবিহা তন্বী

ব্যাংকে গেছি।কর্মকর্তা অনেকক্ষণ অন্য এক ভদ্রলোককে সময় দিলেন।খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি,উস্কো খুসকো চুল! ভদ্রলোক যেন একটু উদভ্রান্ত! কর্মকর্তা সরি হলেন অপেক্ষা করাবার জন্য।বললেন ওনাকে সময় দেয়ার কারণ।
ভালোবেসে বিয়ে করেছেন উনি।পাঁচ বছরের সংসার!দোকান করেছে।একটা প্লট কিনেছে।ব্যাংক ব্যালেন্স!সব কিছু স্ত্রীর নামে।সপ্তাহ দুয়েক আগে সব নিয়ে বউ চলে গেছে।বউয়ের ভাইয়েরা সন্ত্রাসী টাইপের।ডিভোর্স দিয়ে দিছে।কেন যে কি হলো উনি কিছুই জানে না।কোন ব্যাখ্যাও দিচ্ছে না।উনাকে নিঃস্ব করে দিছে।

ডাক্তার বলেই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সংস্পর্শে আসি।কষ্টের কথা জানতে হয়।

এক শিক্ষকের স্ত্রী আলট্রাসনো করাতে এসেছেন।প্রেগন্যান্ট।লিভার বিশেষজ্ঞকে দেখাচ্ছেন।কারণ জানতে চাইলাম।হেপাটাইটিস বি পজেটিভ।স্বামীর পজেটিভ ছিল।বিয়ের আগে জানাননি।এখন দুজন ই আক্রান্ত।

অপরুপা সুন্দরী এক মেয়ে।তার গর্ভে কন্যা সন্তানের হুটোপুটি দেখছিলাম আর ওর কান্না দেখে নিজের চোখ মুছতেছিলাম।ওকে দেখে প্রেমে পাগল হয়ে বিয়ে করে ওর স্বামী।বিয়ের দু বছর পর প্রেগনেন্সীর সাত মাসের সময় স্বামীর পূর্বের স্ত্রী দু সন্তানকে সাথে নিয়ে উপস্থিত।মেয়েটি সন্তান সহই আত্মহত্যা করতে গেছিল।অনেক কষ্টে ওর পরিবার ওর জীবন বাঁচিয়েছে।

মফস্বল শহরের উচ্চশিক্ষিত মেয়েকে ছেলের সিজোফ্রেনিয়া লুকিয়ে বিয়ে দিলেন তার পরিবার।কিছুদিন পরেই মেয়ে বুঝল তার স্বামী মানসিক রোগী।অতঃপর অত্যাচার শুরু।বাবা বলেন মা,ফিরে আয়।মা বলেন মেনে নাও।আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টা করে মেয়েটি।

অল্প বয়সে বিয়ে।তিন মাসের মেয়েসহ স্বামী ডিভোর্স দেয়।ভাইয়ের কলিগ উনাকে পছন্দ করলেন।সব জেনে শুনে মেয়ের দায়িত্ব নেবে কথা দিয়ে বিয়ে করলেন।কিন্তু পরিবারকে জানালেন না।এক বছর পর আমেরিকা গেলেন বর।এই ঘরে আর এক কন্যা।এবার স্বামী মত পাল্টালেন।আগের মেয়ের দায়িত্ব নিবেন না তিনি।ততদিনে প্রকাশিত হলো বড় মেয়েটি অটিজমে আক্রান্ত।বর তার বউ আর মেয়েকে আমেরিকা নিয়ে যাবেন।কিন্তু পিতৃ মাতৃহীন অটিজম কন্যাটির কি হবে??

কলেজ থাকতেই প্রেগন্যান্ট হয় মেয়েটি।সন্তানের বাবা তার কলেজের ফ্রেন্ড।বিয়ে করতে অস্বীকার করল ছেলেটি।ততদিনে অনেক দেরী।সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়ে এতিম খানায় ফেলে এসে বছর তিনের পর পুরো ঘটনাটা চেপে গেল মেয়ে পক্ষ।বিয়ের পর বেবী হতে দেরী হবার কারন খুঁজতে গাইনী ডাক্তার সব তথ্য বের করলেন।মেয়েটির স্বামী তো প্রতারনার মামলা ঠুকে দিলেন।

বিয়ে রক্তের সম্পর্কের বাইরে পবিত্রতম বন্ধন।মিথ্যাচার,প্রতারণা কখনোই বিয়ে এবং বিবাহিত জীবনে চর্চিত বিষয় হতেই পারে না।সমস্যা যত বড়ই হোক,যতই জটিল হোক না কেন, মিথ্যাচার,ধোকাবাজি বা প্রতারণা  নয়।

বিবাহিত সম্পর্কগুলো হোক স্বচ্ছ সুন্দর!যেই দেয়ালে ভালোবাসার প্রতিবিম্ব পরবে।ঘৃণার নয়।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও ডাক্তার

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.