পুরুষদের মায়ের মতো নার্সিং করা সম্ভব কী?

শেখ সাফওয়ানা জেরিন

একজন পরিপূর্ণ পুরুষকে মায়ের মতো নার্সিং করা মোটামুটি অসম্ভব একটা কাজ।মায়ের পক্ষে রুটিন ধরিয়ে দেওয়া সহজ হলেও এই ছেলেটাই বিবাহিত জীবনে রুটিনের তোয়াক্কা করেনা। রুটিনের পাট চুকিয়ে সে হয় ঘরের কর্তা, যার কোন নিয়ম মানতে হয়না।

ছেলেরা বাসায় আসবে জগতের সমস্ত আড্ডাবাজী কাজকর্ম সমাজকর্ম শেষ করে।
এদের সংসারের চাকা মূলত স্ত্রীদের কারনেই ঘুরে, সংসার সংসার খেলাটা এদের বউরা সারাদিন একা একা খেলে। এরপর এরা বাসায় এসে জুতা খুলেই বিছানায় শুয়ে ফেইসবুক ঘাটা শুরু করে দেয়, জীবনে দেশের খবরে আগ্রহ না থাকা মানুষটাও ফেইসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা খবর দেখে।
এছাড়াও কে কী করলো, কোথায় গেলো, কে কে হ্যাং আউট করলো এগুলো খবর না নিলে তাদের পেটের ভাত হজম হয়না, রাতে ঘুম হয়না, গলা দিয়ে খাবার নামেনা অবস্থা।
ওদিকে রান্নাঘরে বউ হয়তো চুলার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, হয়তো গরম খাবার পরিবেশনে ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেশায় পরিবারব্যবস্থাগুলো এভাবেই ভেঙ্গে যাচ্ছে।
আগের দিনে পরিবারের কর্তাদের ফেইসবুক ছিলনা, টিভিতেও হয়তো পারিবারিকভাবে কিছু দেখা হতো, খবর পড়ার কাজটা কর্তারা সকালেই সেরে ফেলতেন।
অফিস থেকে আসার পথে বিকেলে বাজার করতেন, ভালো মাছ মুরগী খুঁজে আনতেন, সেসব কাঁটায় স্ত্রীকে হয়তো সাহায্য করতেন। হয়তো স্ত্রী রুটি ছ্যাকার সময় পাকের ঘরের পাশে ঘুরঘুর করতেন, হয়তো বা কখনো ২/৪টা ছেকেও দিতেন।
যদি এসব ইলেকট্রনিক ডিভাইস না থাকতো মানুষ ঘরে ফিরে পরিবারের সাথে সময় কাটানোটাই সারাদিন কাজের স্ট্রেস রিলিভার হিসেবে দেখতো। কিন্তু ফেইসবুক টুইটার ইন্সট্রগ্রাম পরিবারের চেয়ে মানুষের বড় বন্ধু হয়ে গেছে। উল্টা ফেইসবুকিং করার সময় বউয়ের কথা কানে বিষের চেয়েও তিতা মনে হয়।

এরপর খেয়ে নামায পড়ে শুতে শুতে দেখা যায় একটা যে কোন আধুনিক পরিবারের রাত ১টা থেকে দেড়টা বেজেই যায়। আর যাদের আরেকটু বাজে অভ্যাস আছে বা কোন নেশা আছে যেমন ভিডিও গেমস খেলার নেশা আছে তাদের ঘুমাতে আরও সময় লাগে।

রাতে দেরি করে ইনফ্যাক্ট ১২টার ৩০ মিনিট পরেও ঘুমালে ঘুমটা পরিপূর্ণ হয়না। ঘুম কম হলেও সকালে ঠিক টাইমে অফিসে যেতে হয়, যেতে না হলেও রাতের ঘুমের যে স্বাস্থ্যগত উপকারীতা তা থেকে মানুষ বঞ্চিত হয় । মেজাজের সীমা সবসময় বিপদসীমা অতিক্রম করে করে অবস্থা। এই ধরণের মানুষদের আর যাই হোক নার্সিং করা যায় না, নীতি কথা শোনানো যায়না, জীবনের মূল উদ্দেশ্য ভুলে যেয়ে পাগলা ঘোরার মতো ছোটায় শান্তি নেই এটা বলা যায়না।
বিজ্ঞান বলে ছেলেরা ৪০ এর পর ম্যাচিউর হয়, অনেকেই বলে জামাই পালন করা একটা বাচ্চা লালন পালনের মতোই, কেউ কেউ বলে তারচেয়েও কঠিন। কঠিন হোক আর যাইহোক, এই সময়ে স্বামীদের প্রতিপালন বা নার্সিং করা মেয়েদের হাতে নেই এটাই সত্য। নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ফেইসবুক ইন্সট্রগ্রামের হাতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হাতে ।

লেখকঃ সহযোগী সম্পাদক, মহীয়সী ও পিএচডি গবেষক, তুরস্ক

ই-মেইলঃ [email protected]

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.