স্মৃতি কথাঃ আমার বিয়ের প্রথম দিন

সুস্মিতা মিলি

আমার যখন বিয়ে হলো তখন মে মাস ছিলো।প্রচন্ড গরম। পারিবারিক পছন্দের বিয়ে বলে মনের ভেতর একটু ভয়ও ছিলো। না জানি কেমন মানুষ। ভালো না দুষ্ট প্রকৃতির।
যে মোটা গোঁফ!কেমন ট্রাক ড্রাইভারের মতো লাগে।
আল্লাহই জানে এই লোক হাসলে কেমন দেখাবে। পারিবারিক মিটিংয়ে মাত্র কিছুক্ষণ দেখেছি।বিয়ে ঠিক হওয়ার পর এই টেনশনেই দিনগুলো যাচ্ছিলো। বিয়ে ঠিক হওয়ার দুমাস পর আমাদের বিয়ে হয়েছে। লম্বা সময়টা সে চিঠি লিখতো। আর বড় বড় ভালোবাসার কবিতা লিখে কুরিয়ার করে পাঠাতো।যে কবিতার সারমর্ম আমি কোনদিন বুঝিনি।

দেখতে দেখতে বিয়ের দিনটা এসে গেলো।আমি বাসার সবাইকে বলে রাখলাম যখন আমাকে গাড়ীতে তুলে দেবে তার আগে আমাকে যেন ওরা ওয়াশরুমে নিয়ে যায়।আমিতো নতুন বৌ আমাকে ওরা বিয়ের পর ব্রাহ্মণ বাড়ীয়ার এক কমিউনিটি সেন্টার থেকে সরাসরি ঢাকা নিয়ে যাবে।এতবড় রাস্তায় যদি পাছে সমস্যা হয়!
যখন আমার বিদায় হবে তার আগেই মামাত বোন আমাকে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো।কিন্তু দেখা গেলো বিদায় হওয়ার আগে সবাই আলাদা ভাবে আমাকে কানে কানে ওয়াশরুমে নিতে চাইলো।আমার বর বিষয়টা বুঝে ফেললো। মৃদু হেসে আমার ছোট বোনকে বললো, চিন্তা নাই আমি আছিনা!!

প্রচন্ড গরমে আমার মাইগ্রেনের মাথা ব্যাথা শুরু হলো।আর ভারি কাতান শাড়ীতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো শাড়ী নয় যেন বস্তা গায়ে চড়িয়েছি।
আমি জীবনেও কখনো গাড়ীতে বমি করিনি। কিন্তু এই গরমে সামনের সিটে একজন গেস্ট বমি শুরু করে দিলো।আর আমার তখন ওনার অবস্থা দেখে পেটে মুচড় দিতে শুরু করলো।যে কোন সময় সব কিছু চলে আসবে। আমি প্রাণপনে নিজেকে কন্ট্রোল করছি কিন্তু হায়! হঠাৎ দুনিয়া উল্টে সবকিছু চলে এলো একেবারে নতুন বরের শেরওয়ানিতে।

আমি ভাবলাম এখন মনে হয় আমাকে একটা ধমক দিবে।আমার বিবাহিত জীবনটা মনে হয় ধমক খেয়েই শুরু হবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখি সে আমার হাতটা ধরে আছে পরম মমতায়।মৃদু চাপ দিয়ে বুঝিয়ে দিলো ভয় নেই।তারপর শেরওয়ানি খুলে শুধু পাঞ্জাবী পরে পুরোটা রাস্তা সে আমার হাতটা ধরে রাখলো।বার বার আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমি ঠিক আছিতো!

তার প্রথম হাতধরার অনুভুতিটা এখনো আছে।আমি যখনই কোন বিষয়ে হিমসিম খাই সে আমার হাতটা ধরে সাহস দেয়।সবাই বলে সব কিছুতে নর ও নারী সমান,ওকে দেখেই আমি বুঝি এটা।অফিসের পরে সকল কাজেই আমাকে সাহায্য করে।

লেখকঃ সাহিত্যিক 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.