বউ শাশুড়ির সম্পর্ক যেভাবে বন্ধুত্ব পূর্ণ হয়ে উঠবে

লুলু আক্তার বানু সুগন্ধি

 

কিভাবে শাশুড়ির মনের মতো বউ হয়ে উঠতে পারবেন , কিছু কথা বলি
বলুন নিশ্চয়ই বলবেন। তার আগে বলুন অপরিচিত পরিবেশে অজানা অচেনা লোকজন নিজের আপন কেউ যেখানে নেই সেখানে পুরো পরিবারের কি কোনো দায়িত্ব নেই বৌকে আশ্বস্ত করার? তাকে স্বাভাবিক করার? এটা না করা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ।
শাশুড়ী তাকে এনেছেন সমাদরে গ্রহণ করা শাশুড়ীরই প্রধান দায়িত্ব।
👉 যখন ছেলেকে বিয়ে করিয়ে বাড়িতে বউ আনেন যখন ছেলের মা,একটু অন্য রকম হয়ে যায় কারণ?
সে মনে করে যে তার ছেলে তাকে ছেড়ে অন্য একজন নতুন মানুষ কে আপন করে নিয়েছে তাই সে
একটু অন্য রকম হয়ে যায় আর রাগ গুলো ছেলের বউয়ের উপর দেখায়!
মেয়েও চারিদিকে যা দেখে জেনে আসে তাতে তার অনভিজ্ঞ মানসিকতার নেতিবাচক প্রভাব দুর করা শাশুড়ী ও স্বামীর পরিবারেরই দায়িত্ব।
শাশুড়ী শশুর বুড়া হবেন দুর্বল হবেন বউয়ের মনের নেতিবাচক ধারণা দৃঢ় হলে দুর্ভোগ তাদেরই। এমনকি যদি বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটে তো তাদের ছেলে পৌত্ররাই ক্ষতি গ্রস্ত হবে।
👉 আর সে মায়ের ভুল টা ভাঙ্গিয়ে দেয়া হবে আপনার কাজ, যেমনঃ-
👉 শাশুড়িকে,মা, বলে ডাকতে হবে কারণ,,মা,,ডাক হলো , পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ডাকমা, মা বলে ডাকাও সহজ নয়। যাকে তাকে মা ডাকা যায় না। মা ডাক শোনার মতো স্নেহময়ী হতে হয়।
👉 যখন শাশুড়ি গোসল করবেন, আপনি বলবেন” মা” আপনি যান ,আমি , আপনার কাপড় ধুয়ে দিচ্ছি!
আমি নিজের কাপড় ধুতে অভ্যস্ত নই, এটা বলা আমার জন্য এতো সহজ নয়, যত সহজে উপদেশ দিলেন। এটা তো আমার উপর অত্যাচার।
👉 যখন নামাজের সময় হবে, আপনি ওজুর পানি এগিয়ে দেবেন,আর বলবেন যে নিন ওজু করে নামাজ আদায় করে নিন ,,আর আপনি ও নামাজ আদায় করে নিবেন ।
শাশুড়ী যদি নামাজ না পড়েন। এক বউ ছোট বাচ্চা সামলে তার এবাদত গুজার শাশুড়ীর খুব যত্ন করতো। আমি ইম্প্রেসড হয়ে শাশুড়ীর সাথে আলাপ করে জানলাম মহিলা কোনো দোয়া কালাম কিচ্ছু জানেনা। বউ যেন তার সেবা যত্ন করে তাই সে জায়নামাজ থেকে নামেই না।
👉 শাশুড়ি যদি রাগারাগী করেন তাহলে, আপনি চুপচাপ থাকবেন তাহলে কোনো ঝগড়া হবে না
তার পর যখন শাশুড়ি বকে চুপ,হয়ে যাবেন, তখন আপনি একটু হাসি দিয়ে বলবেন- জ্বি “মা” আপনি যদি
শাসন না করেন তাহলে কে করবে?,আমি তো আপনার মেয়ের মতোই  ।
অকারণ বকা আপনি উপদেষ্টা কতটা সহ্য করবেন?
👉 আর যখন খাবারের সময় হবে আগে শাশুড়ির খাবার দেবেন তাহলে সে আরো , আপনার উপর খুশি হবেন ইনশাআল্লাহএটাতে মন্তব্য করব না।
👉কখনো শাশুড়ির বদনাম স্বামীকে বলবেন না,শাশুড়ীর সাথে সমঝোতায় চলে যাবেন!
প্রতিশোধ স্পৃহা না জাগা পর্যন্ত ছেলের কাছে মায়ের বদনাম দুরে থাক সত্য অভিযোগ করার ও সাহস পায় না। কুমিরের চোয়ালে আটকে থেকে নড়াচড়া সাবধানে করতে হয়।
👉 কখনো শাশুড়ির বদনাম গাইবেন না, সবসময় শাশুড়ির পক্ষ বাদী হয়ে কথা বলবেন!
👉 সংসার মানেই টুটকি নাটকি লাগতেই পারে, কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে সব কিছু জয় করে নেয়া সম্ভব!
ভালোবাসা এক পক্ষে হয়না।
👉 মাঝেমধ্যে আপনি শাশুড়িকে বলেন,”মা” আমার ব্যবহার দ্বারা কি আপনি কষ্ট পাচ্ছেন? পেয়ে থাকলে আমাকে বলবেন আমি সংশোধন হয়ে যাব!
👉 আশা করি আমার কথা গুলো আপনাদের একটুও হলেও কাজে লাগবে ,, ইনশাআল্লাহ

👉 একটি মেয়ে চাইলে সবকিছু করতে পারে
শাশুড়িকে সবসময় নিজের মায়ের মতো দেখুন তার সেবা যত্ন করুন আর শাশুড়ির মনের মতো
বউ হয়ে উঠুন
বৌ শাশুড়ীর সম্পর্ক আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ি হওয়াটা কাম্য। বউ কে সম্মান করতে হবে। বউকে মেয়ের নজরে দেখলে বূউ আপন হবে।
স্বামী পরিবারের খেদমত বৌএর দায়িত্ব নয়। সে যদি করে তো সেটা তার সৌজন্য। সেজন্য তার ধন্যবাদ প্রাপ্য।
অন্যের অনভিজ্ঞ আদরের সন্তানকে সেভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এটা বৌয়ের মা বাবার প্রতি শশুর পক্ষের গুরু দায়িত্ব। কারণ তারা তাদের কন্যাকে বিশ্বাস করে আপনার ছেলে কে দিয়েছেন।
আমানতের খেয়ানত ঈমানহীনতা।

 

লেখকঃ কলামিস্ট 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.