একটা নারী নির্যাতন মামলার আড়ালের গল্প

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ

ছেলেটা জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে।খুব শীত লাগছে তার।হাড় কাঁপুনি শীতে সে কাবু হয়ে যাচ্ছে।জেলে যেই কম্বলটা সে পেয়েছে তা দিয়ে এই শীতকে পোষ মানানো অসম্ভব।।ছেলেটার চোখের কোনে এক বিন্দু জল।সেই জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো বালিশে।এই জীর্ণ বালিশটা সাক্ষী তার বিনিদ্র রজনীতে বারবার অশ্রুসিক্ত হবার।এই বালিশটা তার হাহাকার ও তীব্র বেদনায় কুকড়ে উঠে প্রতিরাতে।।

ছেলেটার চোখে ভেসে উঠে তার একমাত্র দুঃখিনী মায়ের চেহারা।।এত বড় ফ্ল্যাটে মা একা।মায়ের চোখের নীচে কালি পড়ে গেছে।কাঁদতে কাঁদতে মায়ের অশ্রু শুকিয়ে গেছে।মা একা বাসায় চিৎকার করে কাঁদতে চাইলেও গলা দিয়ে আওয়াজ বের হয় না আর।।কত আর কান্না করা যায়।।মা এখন নিশ্চয়ই কান্না গিলে যাচ্ছে।।

ছেলেটা জেলে।মা বাসায়।।দুইজন একা।কারো চোখে ঘুম নেই।চোখ গুলো ক্লান্ত হয়ে গেছে।।অশ্রুগ্রন্থি গুলো চুপসে গেছে।।

শায়লা আজ অনেক খোশ মেজাজে আছে।বাসার ছাদে বার বি কিউ পার্টি হচ্ছে।হিন্দি আইটেম গান বাজছে উচ্চ স্বরে।
শায়লার মাও অনেক খুশি।।
শায়লা তার স্বামী কে জেলে ভরে তার মা থেকে আলাদা করতে পেরে অনেক খুশি।আনন্দে সে আত্মহারা।।তার মা পান চিবাতে চিবাতে বলছে,উচিত শিক্ষা দিলাম মা ছেলেকে তাই না শায়লা?

শায়লা তার মা কে বললো,মা তোমার শয়তানি বুদ্ধির কাছে স্বয়ং শয়তান ও শিশু।।আই এম প্রাউড অব ইউ মাম্মা।।

ছেলেটার নাম সাঈদ।লেখাপড়া করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।চাকুরী করে বহুজাতিক কোম্পানিতে উচ্চ পদে।মাসে লাখ টাকা বেতন।কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট ও গাড়ি পেয়েছে।নিজ যোগ্যতায় সাঈদ আজ নিজ কর্মে উজ্জ্বল ও আলোকিত।

সাঈদের মনে পড়ে তার পেছনের দিনগুলির কথা।ছোট বেলায় যখন ক্লাস ফাইভে পড়তো তখন বাবা মারা যান হঠাৎ করে।
তারপর তার দুঃখিনী মা তার জন্য নিজের জীবনটা তিলে তিলে বিলিয়ে দিয়েছেন।মামারা মা কে বিয়ে দিতে চেয়েছেন।মা রাজি হন নি।মায়ের নিঃসঙ্গতা, তার একাকী সংগ্রাম তাকে মানুষ করার জন্য ভাবলেই সাঈদের কান্না পায়।
মা কে সে অনেক ভালবাসে।মায়ের বাকি জীবনটা সে সুখে ভরিয়ে দিতে চায়।মা কে ইতিমধ্যে হজ্জ করিয়ে আনসে সে।

রাতে খাবার টেবিলে মা ছেলের সারাদিনের আলাপ জমে উঠে।খাবার খেয়ে মায়ের কোলে শুয়ে শুয়ে সাঈদ মায়ের গল্প শুনে।
তখন সাঈদকে দেখলে একটা বাচ্চা মনে হয়।মা ছেলের চুলে বিলি কাটেন।সাঈদ ঘুমিয়ে পড়ে।মা ছেলে মিলে দুজনের অনিন্দ্য সুন্দর সুখ কাব্য চলছিলো ভালোই।

সাঈদের মা আঞ্জুমান আরা ছেলের জন্য পাত্রী দেখছেন অনেকদিন ধরেই।তার ছেলে মাশাল্লাহ দেখতে শুনতে শিক্ষায় কর্মে সব দিকেই ভালো।আশেপাশের বাসার ভাবীরা নানা প্রস্তাব আনে।কিন্ত আঞ্জুমান আরার আক্ষেপ দুই বছর ধরে ঘ্যানঘ্যান করেও ছেলেকে বিয়েতে রাজি করানো যাচ্ছে না।বয়স তো তার কম হলো না।৩৩ এ পড়লো ছেলেটা।এখন একটা টুকটুকে লক্ষী বউ ঘরে আসবে, নাতী নাতনী আসবে, ছেলের দায়িত্ব বউ কে বুঝিয়ে দিয়ে আঞ্জুমান আরা নাতী নাতনী নিয়ে জীবনের বাকি কয়টা দিন আরামেই কাটিয়ে দিবেন এমন স্বপ্ন চোখেমুখে।।

একদিন হঠাৎ বিকেল বেলা সাঈদ বাসায় আসলো।এসে বললো,মা ভেবে দেখলাম তোমার ইচ্ছা পূরণ করবো।সাথে একটা মেয়ে।
সাঈদ মায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো শায়লা কে।শায়লা একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে এম বি এ করছে।মেয়েটাকে দেখে আঞ্জুমান আরার মনটা চুপসে গেলো।আঞ্জুমান আরা নিজেকে সামলে ওদের আপ্যায়ন করলেন।
হাসিমুখে কথা বললেন শায়লার সাথে।শায়লা চলে গেলো।

রাতে সাঈদ বললো,

-মা আমি মেয়েটাকে ভালবাসি।

-আমরা বিয়ে করতে চাই।
-ওর পরিবার রাজি।এখন তুমি কি বলো?

শায়লাকে দেখে আঞ্জুমান আরার মোটেও পছন্দ হয়নি।
কিন্ত ছেলের মন রক্ষায় উনি হ্যাঁ বললেন।
শায়লাকে কেন পছন্দ হলো না তার কারণ খুঁজতে চাইলেন আঞ্জুমান আরা।কিন্ত কারণ তো তিনি খুঁজে পাননি।।

শায়লা সাঈদের বিয়ে হয়ে গেলো মহা ধুমধাম আয়োজনে।১৫ লাখ টাকা কাবিনে ৫ লাখ উসুল গয়না দিয়ে।বউ আসলো বাসায়।
আঞ্জুমান আরা খুশি অনেক।

এক বছর হয়ে গেলো বউ বাসায় আসছে।দুইদিন আঞ্জুমান আরার বাসায়,চারদিন বাবার বাসায় থাকছে শায়লা।উনার বাসায় থাকলেও প্রতিদিন বাইরে যায়।রাতে সাঈদ শায়লা বাইরে রেস্টুরেন্টে খেয়ে আসে প্রায় দিন ই।আঞ্জুমান আরা খাবার নিয়ে বসে থাকেন।
সাঈদ অফিস ও বউ নিয়ে এত ব্যস্ত হলো তার মা আবার একাকী হয়ে পড়লেন।বউ এর সাথে তিনি গল্প করতে চান, কিন্ত বউ এর উনার সাথে কথা বলায় আগ্রহ নেই।সারাদিন ফেসবুক, মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত।বউ এর বিভিন্ন বন্ধু বান্ধব বাসায় আসে।
আঞ্জুমান আরা চা নাস্তা দেন ভদ্রতা করে।এক বছরে শায়লা একদিন এক কাপ চা বানিয়েও খায়নি, আঞ্জুমান আরাকে খাওয়ায় নি।

আঞ্জুমান আরা একা হয়ে পড়ছেন।ছেলেটাকে কতদিন আদর করতে পারেন না।বউ এসেও সংসার এর কোন কাজে তার মনযোগ নেই।তার মনযোগ বন্ধু, আড্ডা, পার্টি, গেট টুগেদার, সিনেমা, শপিং এ।।আধুনিক মেয়ে শাশুড়ীকে বুয়া ভেবে বিন্দাস দিন কাটাচ্ছিলো।এটা যে তারও সংসার, শাশুড়ীযে মায়ের মতই, উনারো যে একটু বিশ্রাম দরকার,একটু মায়া, ভালবাসা দরকার তা এই অতি শিক্ষিত আধুনিক মেয়ে বুঝতেই চাইলো না।

দিন গড়িয়ে সাঈদ শায়লার বিয়ের দুই বছর আজ।বাসায় এনিভার্সারী পার্টি।সাঈদ শায়লার বন্ধু বান্ধবে ঘর ভরে গেলো।
অনেক খাবারের আয়োজন।বাবুর্চি এনে রান্না বান্না হলো।এত আয়োজন এত কিছু এত মানুষের মাঝে একা আঞ্জুমান আরা।

একদিন রাতে সাঈদ শায়লার রুমে চিৎকার চেচামেচিতে আঞ্জুমান আরার ঘুম ভাঙে।উনি সাঈদের দরজার সামনে গিয়ে শুনলেন,শায়লা বলছে তাকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিতে।উনার সাথে শায়লা থাকতে পারবে না।শাশুড়ির কারণে তার বন্ধু বান্ধব বাসায় আসতে পারে না।যদিও শাশুড়ী কিছু বলেন না কিন্ত তার বন্ধুদের সংকোচ হয়।তাছাড়া উনি ক্ষেত মহিলা।
শহুরে আধুনিক জীবনে অভ্যস্ত নন।সারাদিন পান খান,ঠোট লাল হয়ে থাকে, দেখতে বিশ্রী লাগে।শায়লার বান্ধবীরা হাসাহাসি করে।

পরদিন শায়লা বাবার বাসায় চলে গেলো।গিয়ে সাঈদকে টেক্সট দিলো যদি তোমার মা এই বাসায় থাকে আমি আর আসবো না।
আর আমার কথা না শুনলে তোমাকে কিভাবে শুনাতে হয় তাও আমার জানা।

সন্ধ্যা ৭ টা বাজে।অফিসের কলিগরা অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।সাঈদ আনমনে তার রুমে বসে আছে।মনে পড়লো তার বাবার কথা।বাবা প্রাইমারি শিক্ষক ছিলেন।সৌখিন মানুষ ছিলেন।মা বাবা থাকতে কত হাসিখুশি ছিলো।মায়ের সংগ্রাম টা মনে করে সাঈদ কান্না করে দিলো।যেই মায়ের ত্যাগে আজকের সাঈদ হলো সেই মাকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিতে চায় শায়লা।।

মেয়েটা কি পাগল হয়ে গেলো।বিয়ের দুই বছরে এক কাপ চা নিজে বানিয়ে খেলো না।কোন দিন রান্না ঘরে ঢুকলো না। মা তো তার কোন ব্যাপারেই কথা বলে না।মা তার নামাজ ইবাদত রান্নাবান্না ঘর গুছানো এসব নিয়েই পড়ে থাকেন।
আমিও আজকাল মা কে সময় দেইনি।সারাদিন মা একা পড়ে থাকেন বাসায়।সেই মা কে কিনা বাসায় রাখলে সে থাকবে না।।

সাঈদ তিন বার না না না বললো।আমি ছাড়া তো মায়ের কেউ নাই আর।।শায়লা অন্যায় কথা বলছে।

অফিস থেকে বাসায় ফিরে সাঈদ মায়ের রুমে গেলো।মায়ের রুমে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলো।মায়ের পায়ের উপর পড়ে অঝোরে কান্না করলো।মা এর কাছে ক্ষমা চাইলো।বিয়ের পর সে যে মায়ের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে গিয়েছিলো তার জন্য লজ্জিত হলো। আঞ্জুমান আরা ছেলের কপালে চুমু খেলেন।শাড়ির আঁচলে ছেলের অশ্রু মুছে দিলেন।

সাঈদ পরদিন শায়লাকে আনতে তার বাসায় গেলো।শায়লাকে বুঝাতে চাইলোকিন্ত শায়লার মায়ের ও একি কথা।
সাঈদের মা বাসায় থাকলে উনি মেয়ে দিবেন না।সাঈদ অপমানিত হয়ে ফিরে আসলো।

দিন গেলো তিন মাস।সাঈদ সিদ্ধান্ত নিলো শায়লা তার মাকে মেনে না নিলে এই সংসার সে করবে না।তবু মা কে সে আর কষ্ট দিবে না।

শায়লা যখন দেখলো, সাঈদ শক্ত অবস্থানে চলে গেছে তখন সে তার মাকে ফোন দিয়ে বাজে বিহেভ করলো।সাঈদ কে ডিভোর্স এর হুমকি দিলো।শায়লার দু একজন বন্ধু শায়লা কে বুঝালো তুই যা করছিস তা ঠিক নয়।তাছাড়া উনার এক ছেলে ছাড়া আর কে আছে?শায়লা ও শায়লার মায়ের জিদ বেড়ে গেলো।

সাঈদ উদাসীন হয়ে গেলো।সে অফিস যায়, ফিরে এসে বাসায় বই পড়ে।খায় ঘুমায়।শায়লার ব্যপারে সে আর কিছুই ভাবলো না।

শায়লা সাঈদের উদাসীনতা মেনে নিলো না।পারিবারিক ভাবে বসার চেষ্টা হইছে দুইবার কিন্ত শায়লার একি কথা।।সে তার মা কে সহ্য করবে না।

সাঈদ শায়লাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠালো।এই অত্যাচার সে আর নিতে পারছিলো না।ডিভোর্স নোটিশ পেয়ে শায়লা ও তার পরিবার ক্ষেপে গেলো।

শায়লা ডিভোর্স নোটিশ পেয়ে বুঝে গেলো এখানে আর তার সংসার হবে না।এইবার সে ফেসবুকে সাঈদের নামে পোস্ট দিলো।
সাঈদ পরকীয়া করছে।অনেক বান্ধবী তার।অফিস টাইমের পর অফিসের কোন সুন্দরী কলিগকে কফি খাওয়াতে নিয়ে গেছে এসব।সাঈদ যৌতুক লোভী।সে শায়লা কে যৌতুকের জন্য মারছে তিন দিন আগে।সে একটা হাসপাতালের ছুটির কাগজ ফেসবুকের পোস্টে জুড়ে দিলো।।
সাঈদ তাকে মেরে কি হাল করেছে তা বুঝানোর জন্য।ইতিমধ্যে শায়লা নারী নির্যাতন ও যৌতুক এর মামলা ঠুকে দিলো সাঈদ ও তার মায়ের নামে।পুলিশ সাঈদকে আরেস্ট করে জেলে ভরে দিয়েছে এটাই সে দম্ভ ভরে বললো।সবার কাছে শায়লা সহযোগিতা চাইলো।
শায়লা সাঈদের মত ভদ্রলোকের মুখোশ খুলে দিয়ে তার চেহারা সবাইকে দেখে নিতে বললো।।শায়লা দেশের বড় একটা নারীবাদী পেইজে পোস্ট দিলো।

হাজার হাজার লাইক কমেন্টে সেই পোস্ট সাঈদের তীব্র সমালোচনায় ভেসে গেলো।সেই ছুটির কাগজ দেখে আমাকে একজন মেনশন দিলো।
আমি ছুটির কাগজ দেখে বুঝলাম এটা ফেউক।কোন চিকিৎসক এর লেখা ছুটির কাগজ এটা হতেই পারে না।বিপি লেখা ৮০/১০০. ভদ্রমহিলার অভিযোগ ছিলো পেইন।
উনার সারা শরীরে পেইন।যেই মেডিসিনগুলো লিখা তা দেখলে একটা সাধারণ মানুষ ও বুঝবে এটা কতটা হাস্যকর চিকিৎসা লেখা যা হাতুড়ে ডাক্তার ও লিখবে না।

আমি প্রতিবাদ করলাম এই মিথ্যা ছাড়পত্র নিয়ে।আমার প্রতিবাদী কমেন্টে লাইক বাড়তে থাকলো।আরো চিকিৎসক এসে যোগ দিলেন।

তখন সেই শায়লা এসে আমাকেও থ্রেট করলো।তখন আগে যারা কমেন্ট করছে অনেকে হুজুগে কমেন্ট করেছিলো তাদের টনক নড়ছে।।

এক সময় এডমিন সেই পোস্টে কমেন্ট অফ করে দিলো।

আজকের বাংলাদেশে ঘরে ঘরে পুরুষ নির্যাতন হচ্ছে।অনেক মেয়েরাই স্বামীর মা বাবা ভাই বোন কে সহ্য করতে চায় না।তারা সবাই কে নিয়ে সুখী হতে চায় না।তারা একা সুখী হতে চায়। তাদের জগতে মেয়েটির মা বা ভাই বোন ছাড়া আর কেউ এলাউ না।কিছু ভেড়া প্রকৃতির পুরুষরা তা মেনে নিয়ে বউয়ের আঁচলে মুখ ঢাকে। কিন্ত কোন ছেলে যদি বউ এর অন্যায় আবদারে সায় না দেয় তবে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজতবাস খাটানো হয়।

গুণীরা বলেছিলেন, বউ কে চেনা যায় অভাবে। আপনার অনেক টাকা, তখন বউ আপনাকে ভালবেসে অস্থির করে ফেলবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্ত আপনার দুর্দিনে তার আচরণ বলে দিবে সে আপনাকে কতটুকু ভালবাসে।

নারী নির্যাতন হয়। এটা সত্য। কিন্ত পুরুষ নির্যাতন ও যে হয় তাও আজকের বাংলাদেশে বাস্তবতা।

একজন মেয়ের মা তার মেয়েকে স্বামীর সংসার উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারেন আবার সেই মা ই মেয়েকে উস্কানি দিয়ে ডিভোর্সি করে বসিয়ে রাখতে পারেন।মেয়েদের সংসারে মায়ের অযাচিত হস্তক্ষেপ হিতে বিপরীত হয়।।

৭ দিন পর সাঈদ জামিনে মুক্ত হলো।বিচারক মামলার নথি দেখেই বুঝলেন এটা মিথ্যা মামলা।

বাইরে আজ রৌদ উঠেছে।সাঈদ মা কে দেখলো জেল গেইটের বাইরে দাঁড়ানো।মা কে জড়িয়ে সাঈদ বললো,

-মা গো মা,আমি দুনিয়ার সবাই কে ছেড়ে দিতে পারি কিন্ত তোমায় কখনো ছাড়বো না মা।।তোমায় একা রেখে কোথাও যাবো না আমি।চলো বাসায় চলো।

-আজ থেকে আবার আমরা মা ছেলে অনেক সুখী হবো।

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

লেখকঃ সাহিত্যিক ও ডাক্তার 

আরও পড়ুন