প্রত্যাগত

আবু সাইফা

আনোয়ার সাহেব একজন সুন্দরী স্ত্রীর মালিক । বউ যথেষ্ট সুন্দরী কিন্তু মনে শান্তি নেই।রীতিমতো নরকযন্ত্রণার মধ্যে তাকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। কেননা বিগত আঠারো বছরের দাম্পত্যজীবনে দুজন দুজনার হতে পারেনি। আনোয়ার দাহক স্ত্রী রওশনআরা দাহিকা। উভয়ে উভয়কে দহন করে চলেছে এই দীর্ঘ সময় ধরে।তাতে কি? সংসার তো আর পুতুলখেলা না,যে খেলা ভঙ্গ করে চলে যাওয়া যায়। আর স্ত্রী জিনিসটা তো গবাদিপশুও না যে,  ঝিকরগাছার হাটে বিক্রি করে দিয়ে আসবে। জামা-জুতো, কাপড়চোপড়ও না যে ছুড়ে ফেলে দেওয়া যায়।তাই তাদের দাম্পত্যজীবন মহাসঙ্কটময় হয়ে উঠেছে। কারণ কেউ কাউকে সহ্যই করতে পারেনা। কিন্তু বাচ্চা উৎপাদন তো আর থেমে থাকেনা, ওটা হতেই থাকে।তারা দুইটি সন্তানের জনক-জননী। বউ বাচ্চা সবই আছে কিন্তু আনোয়ারের মন বড় উচাটন। তার ‘উচাটন মন ঘরে রয়না । ‘ মনপাখি তার এ ডালে ও ডালে, নানা ডালে পাতায় পাতায় উড়ে বেড়ায়।

তার বন্ধু শামসুর রহমান সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা । অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা যেমন সমাজের সাধারণ মানুষের সাথে মেশেন না, শামসুর রহমান সাহেব তার সম্পূর্ণ উল্টো । ফকির-দরবেশ থেকে ‘ব্রাহ্মণ চণ্ডাল চামার মুচি’ সবার সাথে ভদ্রলোক দারুণভাবে মিশতে পারেন। বর্তমান যুগে এমন ক্যারেক্টার খুবই দুর্লভ। সপ্তাহে দু একবার দুজনার মোবাইল ফোনে কুশলাদি বিনিময় হয়।আনোয়ার তার ভেতরে চেপে রাখা কষ্টের কথা ফস করে একদিক শামসুর রহমান সাহেবকে বলে ফেললো। জানের দোস্ত শামসুর রহমান আশ্বস্ত করলেন ভালো একটা পাত্রীর সন্ধান দিয়ে। পাত্রীর নাম নাসরিন, উচ্চতা পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি, মাথার চুল বেশ লম্বা,  মুখের আদল ভালো, গায়ের রং দুধেআলতা। বয়েস একুশ- বাইশ। সামান্য একটু সমস্যা আছে। ভদ্রমহিলার দুটি সন্তান আছে। স্বামীও আছে– তবে কোনো কাজের স্বামী না। বিগত তিন বৎসর যাবৎ তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা। মহিলা তার পিত্রালয়ে তার কষ্টের দিনগুজরান করছেন। মহিলার যে ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস তাতে যেকোনো সৌন্দর্যসচেতন পুরুষই ঘায়েল হয়ে যাওয়া অতি স্বাভাবিক।

————–চলবে

আবু সাইফা কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন