ইমাম গাযালি, দর্শন ও মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের পতন

আরমান ফিরমান

সমসময়ই গুতাগুতি করার একটা অভ্যাস ছিল। তো অনেক আগে একবার Wikisource গুতাচ্ছিলাম। ইমাম গাযালিকে নিয়ে অনেক পুরাতন একটা বই পেলাম। ভিতরে এক জায়গায় এমন কিছু লিখা ছিলঃ He wrote a book named Destruction of Science।[1]

তখন অবশ্য বেশি কিছু জানতাম না তবে তাহাফুত আল-ফালাসিফা এর অর্থ Destruction of Science কিভাবে হয় – সেই ভাবনা জাগার জন্য বেশি কিছু জানা লাগে না। আরবিতে ফালসাফা কখনও বিজ্ঞান বোঝানোর জন্য ব্যবহার হয়েছে বলে জানা নেই। আর ফালাসিফা মানে দার্শনিকগণ, দর্শনও না। তাই বাজেভাবে ভুল অনুবাদ হলেও হয় Destruction of Scientists – Science কোথা থেকে আসে? কি মনে হয়?
তাহাফুত আল-ফালাসিফা এর স্ট্যান্ডার্ড ইংরেজি অনুবাদ Incoherence of the Philosophers।[2] আর এই সেই বই যার কথা তুলে যেন এক ইটার্নিটির জন্য বলা হচ্ছে যে ইমাম গাযালির কারণে মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের পতন হয়, আর আরও ব্রডলি বললে ইসলামী স্বর্ণযুগের পতন হয়।

আচ্ছা, বিস্তারিত বিবরণে যাওয়ার আগে, এটা কি আপনার কমনসেন্সে খাটে যে শত শত মানুষের পরিশ্রমে তৈরি হওয়া গোল্ডেন এজ একটা বইয়ের কারণে শেষ হয়ে যাবে? খাটে?

যদিও ওয়েস্টে আবু হামিদ আল-গাযালির দার্শনিক শ্রেষ্ঠত্ব ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠিত, এমনকি অ্যাকাডিমিয়া (ওয়েবসাইট) এ তার ফলোওয়ার তের হাজার যা দর্শনের শায়খুল রা’ইস ইবনু সিনা থেকে তিন হাজার বেশি, তবু ‘ইমাম গাযালির কারণে ইসলামী স্বর্ণযুগ শেষ হয়ে যায়’ ইসলামিক গোল্ডেন এজের সবচেয়ে ওয়াইডস্প্রেড মিথ। এই কথা আপনি বিখ্যাত ‘বিজ্ঞানমানব’ Neil DeGrasse Tyson, ফিজিক্সে নোবেল বিজয়ী Steven Weinbergর মুখেও শুনতে পাবেন। ২০০৭ সালে এ্যাওয়ার্ড উইনিং বিজ্ঞানের ঐতিহাসিক জর্জ স্যালিবা এই মিথ কে উড়িয়ে দেওয়ার পরও এখনও decline of science in Islam লিখে গুগলে সার্চ দিলে উপরের দিকেই ২০১৫ সালে পাবলিশড ২০ পৃষ্ঠার মত একটা (ছিঁড়াফাটা) আর্টিকেল পাবেন যেটা দাবী করে যে ইমাম গাযালির কারণে মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের পতন হয়, আর শুধু সেখানেই শেষ না আসলে, পুরো ইসলামী ধর্মতত্ত্ব এর জন্য দায়ী।

এমন না অবশ্য যে শুধু অমুসলিমরাই ইমাম গাযালির উপর দোষ চাপায়। অসংখ্য মুসলিম ইসলামিক গোল্ডেন এজের পতনের জন্য ইমাম গাযালির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়। ইসলামের ভিতরে তো ইমাম গাযালির শত্রুর অভাব পড়ে নাই। কেউ ‘দর্শন বিরুদ্ধ’ হওয়ার জন্য তাকে অপছন্দ করে, কেউ ‘অতিরিক্ত দর্শনপ্রিয়’ হওয়ার জন্য তাকে দেখতে পারে না, আবার সাইডের কিছু মানুষ আছে যারা তাকে ‘drunken sufi’ টাইপের কিছু একটা ভাবে। কয়দিন আগে একটা গ্রুপে একজন পোস্ট দিয়েছিল বিখ্যাত ওরিয়েন্টালিস্ট হ্যামিল্টন গিবের কথাঃ Only Islam can unite the world! তলে দিয়ে একজন কমেন্ট করলোঃ Islam cannot even unite Muslims!! ভাবলামঃ He has got a point!!! ইমাম গাযালি অবশ্য নিজেই বলেছিলেনঃ how can humans agree when they were created to disagree?[3]

যখন ইসলামিক গোল্ডেন প্রথম স্টাডি শুরু করি, একের পর এক বিপাকে পড়তে হয়। এত এত প্রবলেম! আর এগুলোর সল্যুশন পাওয়াও মুখের কথা না। গুগলে সার্চ দিলেই চলে আসে না। কথা হচ্ছে, এটা এমন একটা সাবজেক্ট, যাতে মানুষ আছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আবার যারা বড় স্কলার আছে তারা বেশি জটিল লিখে ফেলে যার সাধারণ পাঠক কিছুই বুঝবে না। অন্যদিকে, জেনারাল রিডারদের জন্য লিখা বই ১০ টা পড়লে সেখানে বিজ্ঞানের যে উৎকৃষ্টতার বর্ণনা পাবেন, সবগুলো বইয়ের মধ্যে তথ্য আসলে প্রায় একই। ইসলামী বিজ্ঞানের ইতিহাস স্বল্পই গুরুত্ব পায়।[4] আবার ফিলসফি কানেক্টেড প্রবলেমগুলো ভেদ করা আরেক মারাত্মক কাজ। এই লেখাটার ক্ষেত্রেও, বিজ্ঞানের পতন পর্যন্ত লেখা খুব তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু দর্শনের ক্ষেত্রে আরও সময় লাগে যার কারণে লেখাটা অনেক দিন ফেলে রাখতে হয়। আবু হাইয়ান তাওহিদী (d. 1023) একটা কথা বলেছিলেন: Philosophy and theology breed nothing but confusion।[5] তো পড়তে পড়তে দেখতে পেলাম এত এত মিথ! মানুষের মুখে বিভিন্ন কথা ঘুরে ঘুরে এমন অবস্থা হয়েছে যে কি বলবো। এমনকি অসংখ্য বই-আর্টিকেলের মধ্যেও পাবলিশ হয়ে যায় এসব রূপকথা।

ইমাম গাযালি যে দর্শনবিরুদ্ধ কিছু ছিলেন না আর এমন অভিযোগ যে “totally stupid and not even an analysis”,[6] সেটা বুঝতে অনেক গভির কিছু লাগে না। ইকটু পড়ালেখা করলেই হয়। কিন্তু সেই ‘ইকটু’ করতে হলে কিছু সময় ফেসবুক ছেড়ে দিয়ে তো বই-রিসার্চ পেপারে মাথা গোঁজতে হবে, অনেক ভারি হয়ে যায় সম্ভবত বেশিরভাগ মানুষের জন্য।

কনফ্লিক্ট থিসিস

কনফ্লিক্ট থিসিস[7] প্রমোট করতে সবাই অনেক মজা পায় কোনো কারণে। মুসলিম-অমুসলিম সকলে। এর বেসিস অবশ্য পশ্চিম থেকেই আসে। সেটা আবার আরেক লম্বা কাহিনী। ওরিয়েন্টালিস্টরা[8] ওয়েস্টে খৃষ্টানধর্ম ও বিজ্ঞানের সংঘাত কে মূল ধরে মুসলিম বিশ্বেও এমন খুজতে শুরু করে।[9] ইউরোপেও অবশ্য ওয়েস্টের মানুষরা এমনি করেছে। যুক্তি আর ওয়াহয়ি এর মাঝে একটা বিরোধ ইতিহাসে চিরকালই দেখা যায়।[10] বিভিন্ন মানুষ এর উপর বিল্ড করে বিজ্ঞান আর ধর্মের মাঝেও চিরকালের একটা সংঘাত দেখাতে চেয়েছে।[11] বিজ্ঞানের এক পজিটিভিস্ট[12] ইতিহাস।[13] দুঃখজনক ভাবে বিজ্ঞানের ইতিহাসের জনক জর্জ সার্টনও একজন পজিটিভিস্ট ছিলেন, তিনি কনফ্লিক্ট থিসিস প্রোমোট করতেন। তার প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের ইতিহাসের প্রথম ও সবচেয়ে সেরা রিসার্চ জার্নাল Isis শুরু থেকেই বিজ্ঞানের পজিটিভিস্ট ইতিহাস প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।[14] সার্টন এই পর্যন্ত বলেছিলেন যে, The purpose of teaching history of science is to establish a ‘New Humanism’ (সহজ ভাষায় ধর্মহীনতা)।[15] এখানে ছাঁচ কিন্তু আগে থেকেই ফেলা। পূর্ববিশ্বাস রেখে তারা তথ্য খুজে।

নাস্তিক ফিজিসিস্ট জিম আল-খালিলি অবাক হয়ে ইবনুল হায়সামের ব্যাপারে বলেন, ইবনুল হায়সাম যে ধর্মপ্রাণ মুসলিম ছিলেন না সেটা বলার জন্য আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই

মানে ইবনুল হায়সামের মধ্যে একজন মডার্ন ফিজিসিস্ট এর সকল বৈশিষ্ট্য আছে, তারপরও কিভাবে তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলিম হতে পারেন সেটা গিলতে জিম আল-খালিলির অনেক কষ্ট হচ্ছে।[16] কনফ্লিক্ট থিসিস প্রমোট করবেন কারণ তিনি নিজে আগে থেকে এর দ্বারা প্রভাবিত, যেমন ভাবে অসংখ্য মুসলিম লেখক প্রভাবিত। যার কারণে এখন যে-ই মুসলিম বিজ্ঞানীদের নিয়ে পড়তে যায় সেখানেই ‘ইসলাম ছেড়ে যাওয়া’ ‘ভ্রান্ত আক্বিদা’ দেখতে পায়। আমাকে জিজ্ঞেস করলেঃ কই, আমি তো দেখিনা তেমন! তখন সম্ভবত আমার ব্যাপারে খুবই নেগেটিভ ধারণা জাগে সামনের মানুষেরঃ আমি ইকটু পইড়াই দেখতাসি আর এই আবাল এত কিছু পইড়া এখনও পায় নাই!!

কবি অ্যালেক্স্যান্ডার পোপ যেমন বলেছিলেন – Little learning is a dangerous thing।[17]

শুরু থেকেই ওরিয়েন্টালিস্টরা দেখিয়ে আসছে যে মুসলিম বিশ্বে যারা ধর্ম থেকে দূরে তারা বিজ্ঞান কে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এটা প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে একের পর এক হাস্যকর মিথের অবতারণা করা হয়েছে। যার মধ্যে একটা যে মু’তাযিলিদেরকে উৎখাত এর পর বিজ্ঞানযাত্রা শ্লথ হয়ে যায়। তাদের কারণে আসলে বিজ্ঞান চুড়ায় ছিল। অথচ মু’তাযিলিরা ক্ষমতায় ছিল মাত্র ৩৪ বছর। ৩৪ বছর কি বিজ্ঞান কোপানোর জন্য যথেষ্ট? কিছু করা যায় ৩৪ বছরে? কমন সেন্সে খাটে? আলী কুশজি, ১৫শ শতকের সেরা একজন অ্যাস্ট্রোনোমার, একজন আশ’আরি ধর্মতাত্ত্বিক ও আলিম ছিলেন।[18] কিন্তু ওরিয়েন্টালিস্টরা সারাজীবন এটা আর এই টাইপের শত শত বিজ্ঞানীদের এড়িয়ে গিয়েছে। ইবনু সিনা, আবু বকর রাযী, উমার খাইয়াম – যাদের নিয়ে প্যাঁচ বাধানো যায় তাদেরই প্রমোট করা হয়েছে সর্বকালে।

বিজ্ঞানের পতন

অ্যাকাডিমিয়ায় কনফ্লিক্ট থিসিসের এর ধারণার সূত্রপাত হয় ইগনায গোল্ডযিয়ার (d. 1921) থেকে।[19] তবে মুসলিম বিশ্বে মূল নায়ক বলা যায় পারভেজ হুদভয় কে। পারভেজ হুদভয়ের থিসিস পুরোই ভিত্তিহীন। হিস্টোরিকাল ফ্যাক্ট গুলোর ক্ষেত্রে প্রমাণ বলতে কিছু নেই। দাবীগুলো চেরি পিকিং ফ্যালাসিতে ভরা। পপ্যুলার বিলিফ কে কিছুটা সাহিত্য মেরে লিখে দিয়েছেন, কোন ক্রিটিকাল স্টাডি না। উপরের নিল টাইসন আর স্টিভেন ওয়াইনবার্গের মত তিনিও বিজ্ঞানের মানুষ, বিজ্ঞানের ইতিহাসে কোন ট্রেনিং নাই। আসলে হুদভয়ের অবস্থা এতটাই খারাপ, তার জ্ঞান এতই কম যে তিনি ইমাম গাযালিকে ‘আরব’ বললেন। ইমাম গাযালি পার্সিয়ান ছিলেন, না জানাটা খুবই লজ্জাজনক একটা বিষয়। আসাদুল্লাহ আলী (গাযালির ক্ষেত্রে) তার এই থিসিসকে পুরোপুরি ধুয়ে দিয়েছেন।[20]

ইমাম গাযালি, গ্রীকদের যে বিজ্ঞানের বুঝ ছিল সেটার বিরুদ্ধবাদী ছিলেন। আর গ্রীকদের বিভিন্ন দুর্বল পজিশন থেকে মুসলিমদের তিনি বিমুক্ত করেন, আরও শক্ত পজিশনে ইসলামী বিজ্ঞান ও ইসলামী দর্শনকে দাঁড় করান। রবার্ট উইস্‌নভস্কি বলেন, বেশিরভাগ স্কলার এখন একমত যে গাযালির কারণে মুসলিম বিশ্বে দর্শন (ও বিজ্ঞান) এর পতন হয় বলাটা পুরোই বানানো কাহিনী।[21]

বিখ্যাত গাযালি স্কলার ফ্র্যাংক গ্রিফেল বলেন,আগের ঐতিহাসিকরা বলেছিলেন যে ইসলামের দার্শনিক ট্রেডিশান গাযালি শেষ করে দেয়। তবে আজ আমরা জানি, এটা সত্য না।[22]

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির জন ওয়ালব্রিজ বলেন, ইসলামী দর্শনের সবচেয়ে অরিজিনাল পিরিয়ড শুরু হয় ইমাম গাযালির ঠিক পর পর।[23] বিজ্ঞানের ঐতিহাসিক অরুণ বালা বলেন, ইমাম গাযালির লেখা সমূহ গ্রীকদের অন্ধ অনুসরণের শিকল থেকে মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের বেরিয়ে আসতে সহায়তা করে। তিনি এ পর্যন্ত বলেছেন যে ইমাম গাযালির লেখার কারণে পশ্চিমেও অন্ধবিশ্বাস বন্ধ করে মানুষ চিন্তা করতে শিখে।[24] তার মতে, modern empirical science আসলে গড়ে উঠেছে ইমাম গাযালির আইডিয়াগুলোর উপর ভিত্তি করে।[25] কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর জর্জ স্যালিবা বলেছেন ইমাম গাযালির পর ইসলামী জ্যোতির্বিদ্যার আসল স্বর্ণযুগ শুরু হয়। আসলে ইমাম গাযালির লেখা মুসলিম বিশ্বে the age of fecundity for science আনার জন্য পজিটিভ প্রভাব ফেলে।[26] সুতরাং, মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের পতনের সাথে ইমাম গাযালির কোন সম্পর্কই নাই বরং তার কারণে মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয়। এমনকি তার চিন্তাধারা জেনারালি সমগ্র বিশ্বে বিজ্ঞান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে একটা ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট হচ্ছে, পশ্চিমে আধুনিক দর্শনের অগ্রদূত যাকে ধরা হয়, সে রেনে দেকার্ত অ্যারিস্টটলিয়ান ফিলসফির অনেক কিছুকেই রিজেক্ট করেন। একই কাজ যখন তার ৬০০ বছর আগে ইমাম গাযালি করেন, তখন তাকে বলা হয় বিজ্ঞান ও দর্শনের খুনি।[27]

গাযালি বলেছেন-“A grievous crime indeed against religion has been committed by the man who imagines that Islam is defended by the denial of the mathematical sciences.”[28]

তিনি প্রকৃতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান (যাকে আমরা ফিজিক্স বলি আরকি) এর ক্ষেত্রে দার্শনিকদের পন্থা অনুসরণ করতে বলেন আর শক্ত ভাষায় ধর্মীয় গোঁড়ামির সমালোচনা করেন।[29] তিনি সেসব ‘উলামা’দের তিরস্কার করেছেন, যারা সূর্যগ্রহণ হয় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর একই লাইনে থাকার কারণে – জ্যোতির্বিদদের এই বর্ণনা কে অস্বীকার করে। তিনি বলেন, এমন জিনিস যা বুরহান (demonstrative evidence – অ্যারিস্টটল থেকে আসা) দ্বারা নিশ্চিত, তাকে অস্বীকার করা দ্বীনের জন্য চরম ক্ষতি নিয়ে আসে।[30]

সাধারণভাবে কোন বিজ্ঞানের ঐতিহাসিককে একটা পপ্যুলার বিশ্বাস ব্যাখ্যা করতে বলা হলে এমন উত্তর আসে, যা শুনে সকলে হতবাক হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময়ই উত্তর হয় ওয়াইডস্প্রেড বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরিত।[31] প্রফেসর জন হেডলি ব্রুক যেমন বলেছেন,
Most theories in History of Science tend to be false[32]
প্রফেসর হিবরন একটি লেকচারে গুনে গুনে এমন ৭৫টি মিথের কথা উল্লেখ করেন।[33] বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে কাজ হচ্ছে মাত্র ১০০ বছর। তাও মূল যে জার্নাল সেটা পজিটিভিস্টিক। এখনও অনেক দূর যাওয়া বাকি এখানে।[34]

দর্শন

তাহাফুত আল-ফালাসিফা কি আসলে দর্শন বিরোধী বই? একদম না। আবারও, নাম দ্রষ্টব্য। এটা নির্দিষ্ট দার্শনিক চিন্তা বিরোধী বই, তাও আবার নির্দিষ্ট দার্শনিক বিরোধী বইও না।[35] এটা মুসলিম বিশ্বের দর্শনকে reconstruct ও deconstruct করে। শুরুতেই তিনি স্পষ্টত উল্লেখ করেনঃ
সবচেয়ে সেরা আর বিখ্যাত দার্শনিকরা ধর্মীয় নীতি (শারিয়া) অস্বীকার করার অভিযোগ থেকে মুক্ত। বরং তারা আল্লাহ এবং শেষ নবীর উপর বিশ্বাস রাখে। তবে সেকেন্ডারি কিছু বিষয় বুঝতে না পেরে সেসবে কনফিউশনে পতিত হয় এবং ভুল করে বসে ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়[36]

ইমাম গাযালি তার আগের আশ’আরিদের সমালোচনা করেন এ বলে যে, তারা যুক্তির মাহাত্ম্ বুঝতে পারে নাই। তারা নাকল কে অধিক গুরুত্ব দিয়ে আকল কে কম গুরুত্ব দিয়ে দেয়। যার কারণে অসংখ্য সমস্যার উদ্ভব হয়। তিনি বলেন, অন্যান্য আশ’আরিদের বুদ্ধিবৃত্তিক বুঝ কম ছিল বলে তারা যুক্তি আর ওয়াহয়ি সমানভাবে প্রয়োগ করতে পারে নাই। তারা বুঝে নাই, যে আসলে আকল (মস্তিষ্কপ্রসূত) ও নাকল (ওয়াহয়িপ্রসূত) এর মাঝে বিরোধ বলতে কিছুই নাই।[37] বুরহান (demonstrative evidence) প্রয়োগ করলে, তার মতে, ইসলামে যত মতবিভেদ আছে সব শেষ হয়ে যেত।[38]

গাযালি পুরোপুরি অ্যারিস্টটল বিরোধীও ছিলেন না। তিনি তাহাফুতে ২০টা পয়েন্টের সমালোচনা করেন। তিনি এ বলে সব উড়িয়ে দেননি, যে এসব ‘কুরআন-হাদিস বিরোধী’। বরং তিনি প্রতিটি বিষয় ফিলসফিকালি ভুল প্রমাণ করেছেন।[39] আসলে তার উস্তায ইমাম জুওয়াইনি বিভাজন করে দিয়েছিলেন কোনগুলো কুরআন-হাদিস (নাকল) দিয়ে জানতে হবে আর কোনগুলো পুরোপুরি যুক্তি (আকল) দিয়ে জানতে হবে।[40] যদি দার্শনিকদের কথাবার্তা বুরহান (Demonstrative Evidence) দ্বারা প্রমাণিত হত, তাইলে ইমাম গাযালি সেগুলো মেনে নিতেন।[41] গাযালির মৃত্যুর ৪০ বছর পর রুকনুদ্দ্বিন ইবনু মালাহিমী নামের এক মু’তাজিলি ধর্মতাত্ত্বিক ইবনু সিনার উপর সমালোচনা লেখেন। সেটা দেখলে বোঝা যায় যে ইমাম গাযালি কত কিছু ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি দর্শনের অনেক কিছুই মেনে নেন, যেটা মিকলাতি মানতে পারেননি।[42] ১৩শ শতক যেতে যেতে আশ’আরিরা মু’তাযিলিদের চেয়েও অধিক র‍্যাশনালিস্টিক হয়ে উঠে।[43] গাযালির স্টাইলে বললে, মিকলাতি যুক্তির সঠিক প্রয়োগ বুঝেননি।

ইমাম গাযালি ফায়লাসুফদের বিরুদ্ধে তাকলিদ (blind imitation) এর অভিযোগ এনে বলেন যে, এসবের কোনটির জন্যই বুরহান (Demonstrative Evidence) নেই, ফায়লাসুফগণ এসব ফলো করেন কেবলমাত্র অ্যারিস্টটল বলেছেন সেজন্য। যে, গ্রীক ফিলসফি থেকে প্রাপ্ত জিনিসাদি ক্রিটিকালি রিএক্সামিন করা ছাড়াই তারা মেনে নেয়। চিন্তা করুনঃ ফায়লাসুফ হচ্ছে তারা যারা দাবী করে সবকিছু যুক্তি দিয়ে করার, আর ইমাম গাযালি একজন ধর্মতাত্ত্বিক হয়ে[44] তাদের বিরুদ্ধে অন্ধ অনুসরণের অভিযোগ আনছেন।[45]

গাযালি মারা যাওয়ার কিছুদিন আগেও দর্শন নিয়ে লিখেছিলেন।[46] ইমাম গাযালির পূর্বে মুতাকাল্লিমরা ফালসাফার সাথে বেশি এনগেজ করতো না। তাহাফুত লেখার পর একদম গভিরভাবে দর্শন করা শুরু করে তারা। তাহাফুত, কালাম[47] আর ফালসাফা[48] কে একত্রে নিয়ে আসে।[49] গাযালির পরপর মাদরাসাসমূহ দর্শনচর্চার গরম কারখানা হয়ে উঠে।[50] এ সময়েই প্রথমবারের মত এমন মানুষ সৃষ্টি হয় যে একই সাথে কালাম আর ফালসাফাতে দক্ষ ছিল এবং মাদরাসায় উভয় সাবজেক্ট পড়াতো।[51]

ইমাম গাযালির ম্যাগনাম ওপাস ইহয়া উলুম আল-দ্বীন এর ২২ নং অধ্যায় পড়লে আপনার মনে হবে মাশা আল্লাহ কত সেরা ইসলামী আধ্যাত্মিক লেখা। বাস্তবতা হচ্ছে এটা সরাসরি নিওপ্লাটোনিক[52] দার্শনিক ইবনু মিসকাওয়ায়হ থেকে নেওয়া। যার মূল রিপ্রেজেন্টেটিভ ইবনু সিনা।[53] এটাতো কেবল একটা উদাহরণ, এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যায়।[54] আল-গাযালির দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব অনেকটাই avicennism। তাই স্কলারদের মাঝে আসলে একটা ডিবেট দেখা যায় যে আল-গাযালি কি বেশি আশ’আরি ছিলেন না বেশি avicennian।[55] তবে অন্তত এতোটুকু নিশ্চিত, যে আত্মা, নবুয়ত ও অস্তিত্বের স্বরূপতত্ত্ব (ontology) এর ক্ষেত্রে তিনি ইবনু সিনার অনুসারি ছিলেন।[56] আবার কেউ এমন ধারণা করবেন না যে এসব ওয়েস্টার্ন স্কলারদের বিকৃতকরণ বা কিছু। ইমাম গাযালির জীবদ্দশা থেকেই ব্যাপারটা এমন। উদাহরণস্বরূপ, তার স্টুডেন্ট আবু বকর ইবনুল আরাবি এটা বলেন।[57] পরবর্তীতে ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা, গাযালিকে ইবনু সিনার অনুসারি বলে আখ্যায়িত করেন। অবশ্য ইবনু তাইমিয়্যা মারা যাওয়ার পর অন্যান্য কিছু আলিম তাকেই ইবনু সিনার অনুসারী বলে দেন।[58] ইবনু তাইমিয়্যা অনেক কাজের ক্ষেত্রে গাযালির সহায়তা নিয়েছিলেন, তার বই সমূহের মধ্যে অন্ততপক্ষে গাযালির ২৪ টা বইয়ের নাম সরাসরি পাওয়া যায়। বুগয়াত আল-মুরতাদ বইয়ে তিনি গাযালির অনেক গুলো বই থেকে বড় বড় অংশ নিয়েছেন এবং সেসব আলোচনা করেছেন।[59] কিন্তু তিনি আল-গাযালির ব্যাপারে অত্যন্ত শক্ত ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন। বিশেষ করে গাযালির এই টাইপের স্টেটমেন্ট এর উপরঃ

যে (গ্রীক) লজিক বুঝে না, তার থেকে দ্বীনের কোন জ্ঞান নেওয়া যাবে না[60]

এতকিছুর পর যদি কেউ এসে বলে যে গাযালি দর্শন বিরুদ্ধ ছিলেন, তাইলে থাবড়ায় তার দাত সব ফেলে দেওয়া উচিত না?

ইমাম গাযালির শেষকথা হচ্ছে,

ফায়লাসুফদের যেসব মত কুফর, সেসব কে ঘৃণা করতে হবে। বিদ’আত কে বাতিল ঘোষণা করতে হবে। তবে, তাদের এই ভ্রান্তি থেকে সত্য বের করতে আমাদের উৎসাহী হতে হবে। এটা জানা আছে, যে স্বর্ণের খনিতে অনেক ধুলাবালি আর অকেজো পাথরও থাকে।[61]

তিনি আরও বলেন,

ফায়লাসুফদের অনেক শিক্ষা কাজের হতে পারে, আর তাদের দার্শনিক ভিত্তি, তাদের আক্বিদা যেমনই হোক না কেন, মুসলিম উম্মাহর সেসব গ্রহণ করে নিতে হবে। প্রতিটা শিক্ষাকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, আর যদি দেখা যায় যে ভিত্তি শক্ত এবং কুরআনের বিপরীতে যায় না, তাইলে সেই মতকে ইসলামে অনুপ্রবেশ করাতে হবে।[62]

তো এতটুকু এসে আশা করি ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়েছে যে গাযালিকে বিজ্ঞান বা দর্শন বিরোধী বলা পুরোই একটা মিথিকাল দাবী যা তার চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরিত। এটা কোন অ্যানালাইসিস এর মধ্যে পর্যন্ত পড়ে না, কেবল হাওয়ায় ভাসা কথা।

 

Reference and Notes
[1] Samuel Zwemer, A Moslem Seeker After God: Showing Islam at its best in the life and teaching al-Ghazali, the mystic and theologian of the eleventh century (Kindle, 2014)
[2] Abu Hamid al-Ghazali, The Incoherence of the Philosophers: A parallel English-Arabic text (Tahafut al-Falasifa) (Edited and translated by Michael E. Marmura. 2nd. edition. Provo (Utah): Brigham Young University Press, 2000) অবশ্য অ্যালেক্স্যান্ডার ট্রিগার বলেছেন যে incoherence শব্দটাও সঠিক না। এখানে তাহাফুত যে অর্থে ব্যবহার হয়েছে, তার অর্থ হবেঃ দার্শনিকদের ভুল প্রেমিস এবং ভিত্তিহীন আর্গ্যুমেন্ট থেকে ইচ্ছাকৃত কনক্লুশানে চলে যাওয়া। ফ্র্যাংক গ্রিফেল বলেন Precipitance of the Philosophers আরও ভালো ও সঠিক অনুবাদ হবে।
[3] Abu Hamid al-Ghazali, al-Qistas al-Mustaqım (ed. Mahmud B ıju. Damascus: al-Matba’a al-‘Ilmiyya, 1993) p. 41–44. As cited in Paul L. Heck, Skepticism in Classical Islam: Moments of Confusion (Routledge, 2014)
[4] Sonja Brentjes, “Between Doubts and Certainties: on the place of history of science in Islamic societies within the field of history of science” NTM Zeitschrift für Geschichte der Wissenschaften, Technik und Medizin. 11:2, (2003).
[5] Paul L. Heck op. cit. pp. 75–81.
[6] Shoaib Ahmed Malik and Joseph Lumbard, “al-Ghazali’s Art of Knowing” online video, YouTube.
[7] ধর্ম ও বিজ্ঞানের সংঘাত, সোজা কথায়
[8] ওরিয়েন্টালিস্ট মানে যেসব মানুষ ওরিয়েন্ট আর ওরিয়েন্ট-কানেক্টেড বিষয়াদি কে নেগেটিভ বা পলিটিকাল উদ্দেশ্য নিয়ে স্টাডি করে
[9] George Saliba, Islamic Science and the Making of European Renaissance (The MIT Press, 2007) p. 1–2.
[10] ইসলামে যুক্তি ও ওয়াহয়ি এর মাঝে সম্পর্ক নিয়ে জানতে দেখুনঃ আরমান ফিরমান. “যুক্তি ও ওয়াহয়ি এর মাঝে ইবন তাইমিয়্যা” Medium: https://tinyurl.com/y6xogqww
[11] James C. Ungureanu, Science, Religion, and the Protestant Tradition: Retracing the Origins of Conflict (University of Pittsburgh Press, 2019)
[12] একটি দার্শনিক ব্যাবস্থা যা বলে যে প্রতিটা জিনিস যা যুক্তিগত ভাবে প্রমাণ করা যায় তা বিজ্ঞান দিয়েও প্রয়ান করা যাবে। এটি অধিবিদ্যা ও আস্তিকতা কে রিজেক্ট করে (Oxford Dictionary of English)।
[13] Miguel de Asua, “The “Conflict Thesis” and Positivist History of Science: A View from the Periphery.” Zygon, vol. 53, no. 4 (2018). 1131–48.
[14] James C. Ungureanu , “Relocating the Conflict between Science and Religion at the Foundations of the History of Science.” Zygon, vol. 53, no. 4 (2018). 1106–30.
[15] James C. Ungureanu op. cit.
[16] Jim al-Khalili, Pathfinders: The Golden Age of Arabic Science (Allen Lane, 2010) loc. 3413.
[17] Alexander Pope, An Essay on Criticism (Kessinger Publishing, 2004)
[18] Mustapha Kara-Ali, “Constructivism at the birth of the Scientific Revolution: A Study of the Foundations of Qushjī’s Fifteenth Century Astronomy” (International Islamic University of Malaysia, 2014)
[19] Muzaffar Iqbal, Science and Islam (Greenwood Press, 2007) p. 73.
[20] Asadullah Ali. “The Structure of Scientific Productivity in Islamic Civilization: Orientalist Fables” Yaqeen Institute for Islamic Research, 2017. p. 31–48.
[21] Robert Wisnovsky. “One Aspect of the Avicennian Turn in Sunnī Theology,” Arabic Sciences and Philosophy. 14, (2004). 65–100.
[22] Frank Griffel, al-Ghazali’s Philosophical Theology (Oxford University Press, 2009) p. 101.
[23] John Walbridge, God and Logic in Islam: The Caliphate of Reason (Cambridge University Press, 2011) p. 90.
[24] দুটো ট্র্যান্সমিশন দেখিয়েছিঃ
– আরমান ফিরমান. “আবু হামিদ আল-গাযালি – ব্লেইস প্যাসকেল” বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তি. পর্ব ৮. Medium: tinyurl.com/intellectualtheft8
– আরমান ফিরমান. “আবু হামিদ আল-গাযালি – রেনে দেকার্ত” বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তি. পর্ব ১০. Medium: tinyurl.com/intellectualthef10
[25] Arun Bala. “Did Medieval Islamic Theology Subvert Science?” Muslim Heritage.
[26] George Saliba, ch. 7.
[27] Edward Omar Moad. “Comparing Phases of Skepticism in al-Ghazali and Descartes: some
First Meditations on Deliverance from Error.” Philosophy East and West. 59:1, (2009). 88–101.
[28] W. Montgomery Watt, The Faith and Practice of al-Ghazali (London: George Allen and Unwin Ltd, 1952) p: 34.
[29] Jules Janssens. “al-Ghazzālī’s Tahāfut: Is it Really a Rejection of Ibn Sīnā’s Philosophy?” Journal of Islamic Studies. 12:1, (2001). 1–17.
[30] Frank Griffel. “al-Ghazali’s (d. 1111) Incoherence of the Philosophers” in Khaled el-Rouayheb and Sabine Schmidtke (edt), The Oxford Handbook of Islamic Philosophy (OUP, 2017) p. 196.
[31] John Hedley Brooke, “‘If I Were God’ Einstein and Religion.” Zygon, vol. 41, no. 3 (2006). 941–54.
[32] Shoaib Ahmed Malik and John Hedley Brooke, “History of Science and Religion” online video, YouTube.
[33] John Hedley Brooke. “Darwin and Christianity: Truth and Myth” Zygon, vol. 53, no. 3 (2018). 836–49.
[34] যদিও লেখাটার অনেক কিছু ঠিকঠাক করতে হবে, কিছু ভালো পয়েন্টের জন্য দেখা যায়ঃ Armen Firman. “The Fall of Science in Muslim Lands” The Muslim Vibe: https://themuslimvibe.com/western-muslim-culture/the-fall-of-science-in-muslim-lands
[35] Jules Janssens op. cit.
[36] Al-Ghazali, Incoherence of the Philosophers op. cit. p. 3.
[37] Tariq Jaffer, Razi: Master of Qur’anic Interpretation and Theological Reasoning (Oxford University Press, 2015) p. 75.
[38] Abu Hamid al-Ghazali, Faysal al-tafriqa bayna l-Islam wa-l-zanadaqa (edt. Mahmud Biju. Damascus: Mahmud Biju, 1993) p. 49. As cited in Frank Griffel. “al-Ghazali’s (d. 1111) Incoherence of the Philosophers” op. cit.
[39] Griffel, Frank. “Al-Ghazali.” Stanford Encyclopedia of Philosophy. Retrieved from
http://plato.stanford.edu/entries/al-ghazali/.
[40] Tariq Jaffer op. Cit. p. 100–1.
[41] Frank Griffel. “al-Ghazali’s (d. 1111) Incoherence of the Philosophers” op. cit. p. 206.
[42] Ibid, p. 207.
[43] John Walbridge op. cit. p. 52. মানে ফাখ্রুদ্দিন রাযির পর পর। ধারা শুরু হয় জুয়াইনি থেকে।
[44] তখন অবশ্য মুতাকাল্লিম ও ফায়লাসুফের মাঝে পার্থক্য করা হত না। তবে পার্থক্য ছিল। জেনারালি এমন বলা যায়ঃ সকল মুতাকাল্লিম ফায়লাসুফ তবে সকল ফায়লাসুফ মুতাকাল্লিম না। কেননা মুতাকাল্লিমদের ধর্মের সাথে সংযুক্ত করা হত। আর মুতাকাল্লিমরা দর্শনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই মত দিতো।
[45] Tariq Jaffer op. cit. 22.
[46] Iljam al-‘awamm ‘an ‘ilm al-kalam মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে সমাপ্ত করা বই। Frank Griffel, al-Ghazali’s Philosophical Theology op. cit. p. 13.
[47] ইসলামী সন্দেহবাদী ধর্মতত্ত্ব। দেখুনঃ Richard M. Frank. “The Science of Kalam” Arabic Sciences and Philosophy. 2, (1992). pp. 7–37.
[48] মুসলিম বিশ্বে করা দর্শন।
[49] Frank Griffel. “al-Ghazali’s (d. 1111) Incoherence of the Philosophers” op. cit.
[50] Frank Griffel. “Isma’ilite Critique of ibn Sina: al-Shahrastani’s (d. 1153) Wrestling Match with the Philosophers” in Khaled el-Rouayheb and Sabine Schmidtke (edt), The Oxford Handbook of Islamic Philosophy (OUP, 2017) p. 211.
[51] যেমন আস’আদ মায়হানী। দেখুনঃ Frank Griffel, al-Ghazali’s Philosophical Theology op. cit. pp. 71–77.
[52] Neoplatonism হচ্ছে প্ল্যাটো ও অ্যারিস্টোটোল এর রিকোন্সিলিয়েশন প্রসেস যা প্লটিনাস শুরু করেন।
[53] Joseph E. B. Lumbard. “The Decline of Knowledge and the Rise of Ideology in the Modern Islamic World” in Joseph E. B. Lumbard (edt), Islam, Fundamentalism and the Betrayal of Tradition (World Wisdom, 2009) p. 57.
[54] দেখুনঃ Binyamin Abrahamov. “Ibn Sina’s Influence on al-Ghazali’s non-Philosophical Works” Abr-Nahrain. 29, (1991). 1–17.
[55] Peter Adamson, Philosophy in the Islamic World (A History of Philosophy without any Gaps. Oxford University Press, 2016) loc. 3430.
[56] Frank Griffel, al-Ghazali’s Philosophical Theology op. cit. p. 7.
[57] Frank Griffel, al-Ghazali’s Philosophical Theology op. cit. pp. 62–71. p. 66. ইবনুল আরাবি সরাসরি ইমাম গাযালির কাছে পড়ায় তাকে সম্মান করতেন। কিন্তু যারা ইমাম গাযালিকে চোখের সামনে দেখে নাই তারা তার শ্রেষ্ঠত্ব বুঝতে অক্ষম হয় ও গাযালিকে আক্রমণ করে বসে (যেমন আল-তুরতুশী)।
[58] Rodrigo Adem. “Ibn Taymiyya as Avicennan? Fourteenth-Century Cosmological Controversies in Damascus” The Muslim World. 108, (January 2018). pp. 124–153.
[59] Yahya M. Michot. “An Important Reader of al-Ghazalı: Ibn Taymiyya” The Muslim World. 103, (January 2013). pp. 131–160.
[60] Ibn Taymiyya, Majmu al-fatawa (Ed. ‘A. R. b. M. IBN QASIM, 37 vols (Rabat: Maktabat al-Ma’arif,
1401/1981) vol. IX, p. 184–185.
গাযালি অবশ্য আক্ষরিকভাবে এমন লিখেন নাই, তিনি বরং জ্ঞানের ভিত্তি (ইলম আল-উসুল) নিয়ে কথা বলছিলেন (যা অবশ্য কালাম বোঝাতে ব্যবহার করেছেন) আর লিখেছিলেন যে, এখানে জ্ঞানের এমন ভিত্তি স্থাপিত হবে যা সত্য ডেফিনিশন আর সঠিক ডেমস্ট্রেশন দ্বারা প্রমাণিত। যার এই ভিত্তি নাই তার থেকে কোনোরকম (দ্বীনি) জ্ঞান নেওয়া যাবে না। অবশ্য ইবনু তাইমিয়্যা যা বলেছেন এটা অনেকটা তা-ই। দেখুনঃ Al-Ghazali, Kitab al-mustashfa min ilm al-usul (2 vols. Bulaq: al-Matba’at al-Amiriyyah, 1904) p. vol. 1, p. 10. আমার কাছে মনে হয় তিনি ঠিকই বলেছেন। হেস্টি জেনারালাইজেশনে না গিয়ে কনটেক্সট বুঝতে হবে। তার পূর্বসূরি আবু বকর বাকিল্লানি মানুষের চিন্তা আর জ্ঞানের দুর্দশা দেখে লিখেছিলেন যে কিয়ামতের সময় চলে এসেছে। ইমাম গাযালির সময় অবস্থা আরও খারাপ ছিল। জ্ঞানের এমন এক ভিত্তি স্থাপন দরকার ছিল। আর যেহেতু ফিলসফি মানুষকে চিন্তা করতে শিখায় আর পার্স্পেক্টিভে ফেলে, এটা বুঝতে দেয় যে ‘আমিও ভুল হতে পারি’, তাই সেই সময়ে সত্যি এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরবর্তীতে মানুষ ইমাম গাযালির বাউন্ডারি মেনে চলতে পারেনি দেখে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সময় অবস্থা সেরকমই খারাপ, কিংবা আরও খারাপ। আল্লাহু আলাম।
[61] Joseph E. B. Lumbard op. cit. 59.
[62] Abu Hamid al-Ghazali, al-Munqidh min al-Dalal (edt. Jamıl Salıba and Kamil ‘Ayyad. Beirut: Dar al-Andalus, 1967). p. 25–27. As cited in Frank Griffel, al-Ghazali’s Philosophical Theology op. cit.

লেখকঃ কলাম লেখক 

আরও পড়ুন