ইয়াহুদিরা কীভাবে অদৃশ্য সুপার পাওয়ার হয়ে উঠলো?

ইমরান হোসাইন নাঈম

ইয়াহুদি— এই শব্দের সঙ্গে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। কিন্তু এই শব্দ নিয়ে আলাপ করতে রাজি নই আমরা অনেকেই। ফেইসবুকে ইয়াহুদিদের নিয়ে সত্য কথা লেখা যায় না। লিখলেও তা থাকে না—মুছে দেয়া হয়। বড় কোন পত্রিকাই ইয়াহুদিদের নিয়ে সত্য কথা লিখতে পারবে না। লিখলে সেই পত্রিকা থাকবে না। কোন দেশপ্রধানই ইয়াহু*দিদের সাথে পাঙ্গা নিতে যাবে না। তাদের অনৈতিক কাজের বিরূদ্ধে মুখ খুলতে চাইবে না। মুখ খুললে তার মসনদ টলে যাবে— নিঃসন্দেহে।
ইয়াহুদিদের অন্যায়ের কথা আমরা সকলেই জানি—কম বা বেশি। কিন্তু সেই অন্যায় নিয়ে কফিশপেও আলাপ করা যায় না বহু দেশে। সৌদি আরবের লোকেরাও পরস্পরের মাঝে ইয়াহুদি নিয়ে কোন বিতর্কিত মন্তব্য করতে পারে না।আমার ওস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক নদবীর মুখে শোনা একটা ঘটনা।
তিনি সৌদী গিয়েছেন। এক বিকেলে বসেছেন তার বন্ধুদের সাথে, কফিশপে। তারা চার-পাঁচ জন মিলে কফি খাচ্ছেন। আমার ওস্তাদ সেখানে আমেরিকা ও ইয়াহু*দিদের নিয়ে কথা বলা শুরু করলেন। তিনি কথা শুরু করতেই আস্তে আস্তে কেটে পড়েত লাগল দলের লোকজন। হুজুরের খুব ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু কেবল পাশে বসা ছিলো।

হুজুর তাকে বললেন: এরা সব চলে গেল কেন?
সেই লোক বলল: আমাদের এখানে আমেরিকা ও ইয়াহু*দিদের নিয়ে কিছু বলা নিষেধ। আমরা ইশারায় তাদের নিয়ে কথা বলি৷ চারিদিকে তাকিয়ে দেখো। সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো আছে। এই সব ক্যামেরায় আমাদের সব কথা রেকর্ড হচ্ছে। আমেরিকার ও ইয়াহু*দিদের বিরূদ্ধে কিছু বললেই তোমাকে পাঁকড়াও করবে ওরা।


কিন্তু একটা সময় ছিলো যখন সারা বিশ্বই ইয়াহু*দিদের নিয়ে সরব ছিলো। তাদের সমলোচনা করা হতো। নিন্দা করা হতো। মেরে কচু কাটাও করা হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেই প্রায় ষাট হাজার ইয়াহু*দি মারা হয়েছিল।
এরও পূর্বে তাদেরকে দেশান্তরিত করেছিল বহু দেশ।
ইয়াহু*দিদের শঠতা ও অনৈতিকতার কারণে মানুষ ছিলো বিরক্ত। দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে তারা খুব ওস্তাদ ছিলো—এখনও আছে। দেশের অর্থনীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে পারে তারা। সব সম্পদ ক্ষুক্ষিগত করে নেয় ধীরে ধীরে। দেশের ভেতরে দুর্ভিক্ষ লাগিয়ে দেয়।
এর ফলে এক সময় তাদেরকে ঘাড় ধরে বেরও করে দিয়েছিল বহু দেশ।
ইংল্যান্ড-পর্তুগাল-স্পেন-ফ্রান্স-জার্মানি-হাঙ্গেরি সহ আরও বহু দেশ থেকে তারা নির্বাসিত ও বিতাড়িত হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমানে পাশার দান উল্টে গেছে। তাদেরকে বিতাড়িত করা দেশ বরং তাদেরই কৃপা চায় এখন। তারাই এখন দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে বসে আছে। আমরা চোখে দেখি আমেরিকা সুপার পাওয়ার। কিন্তু আমেরিকার কেন্দ্রে বসে যে ইয়াহু*দিরা কলকাঠি নাড়ে, সে খবর ক’জন রাখি?
সারা বিশ্বে বিতাড়িত, নির্বাসিত, লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হওয়া ইয়াহু*দিরা কীভাবে এতো শক্তি অর্জন করল? কীভাবে তারা আজ “সত্যকার অদৃশ্য” সুপার পাওয়ারে পরিণত হলো?
এমন প্রশ্ন কি কখনও করেছেন নিজেকে!


কোন রাষ্ট্র না থাকলেও ইয়াহু*দিদের মাঝে ঐক্য ছিলো। তারা পৃথিবীর যেখানেই ছড়িয়ে থাকুক না কেন, কেন্দ্র থেকে তাদের জন্য আদেশ-নিষেধ আসত। তাদের ছিলো একটা কাল্পনীক রাষ্ট্র৷ যার নাম ছিলো “আল-জুদান”৷ সেই রাষ্ট্রের ছিলো প্রধানমন্ত্রী, সেই রাষ্ট্রের সংবিধান ছিলো৷ আল জুদানের পার্লামেন্টের নাম ছিলো সেনহাড্রিন৷ এই পার্লামেন্টের সদস্যরা একেক দেশের রাষ্ট্রীয় গুরূত্বপূর্ণ সদস্য ছিলো৷ তাদের মাঝে বছরে এক বার সংসদের মতো করে অধিবেশনও হতো।
তবে কোথায় কবে সেই অধিবেশন হবে, তা স্বয়ং সাধারণ ইয়াহু*দিরাই জানত না— অন্যরা তো দূরের কথা। তাদের মাঝে যারা ধর্মীয় গুরু পর্যায়ের, কেবল তারাই জানত। তাদেরকে বলা হয় রাবাই। এরাই ঠিক করত কে কে আসবে আগামী অধিবেশনে৷
ইয়াহু*দিদের রাষ্ট্র না থাকায় তাদের কল্পীত রাষ্ট্রের অধিবেশন একেক সময় একেক দেশে হতো। তারা ‘কাহল’ নামক এক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করত৷
তারা যে দেশেই থাকুক না কেন, তাদের মাঝে ঐক্য ছিলো পরিপূর্ণ। পরস্পরে তারা যে ঝগড়া করত না বা মারপিট হতো না, তা কিন্তু নয়। কিন্তু “ইয়াহু*দি জাতীর” প্রশ্ন এল তারা সব বিবাদ ভুলে এক হয়ে যেতে পারে—পূর্বেও হয়েছিল এখনও হয়ে থাকে।
মদিনায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হিজরত করেন, তখন সেখানে ইয়াহু*দিদের দুইটা গ্রুপ ছিলো। তাদের মাঝে রক্তারক্তিও হত বেশ।
কিন্তু ইসলামের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সময় তারা এক হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে ইসলামের বিরূদ্ধে এখনও তারা এক ও অভিন্ন।
মদিনা থেকে তাদেরকে বিতাড়ন করার ইতিহাস মুসলমান চর্চা না করলেও, সেই ইতিহাস ইয়াহু*দিদের বুকে এখনও জ্বলে।


ইয়াহু*দিরা জন্মগতভাবেই বেশ বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে থাকে। তাদের চালাকি ও চতুরাতার মাত্রা অন্যদের চে’ বেশি। ব্যবসা বাণিজ্যে তাদের হাত ও মাথা বেশ পাঁকা ও সূক্ষ্ম। তারা কখনওই চাকরি বাকরির প্রতি ঝোঁকে নি। কৃষিকর্মে তাদের অনীহা৷তাদের চোখ সর্বদা থাকত ব্যবসা বাণিজ্যের দিকে নিবিষ্ট।
পৃথিবীর বুকে অজস্র ব্যাবসা তাদের হাতে শুরু হয়েছে। এমন কোন ব্যবসা নেই, যা তারা করেনি। পুরাতন কাপড় বিক্রি করেও অঢেল সম্পদ উপার্জন করেছিল এক সময়। ব্যবসা করার জন্য তারা মাথা খাটাতে পারত– এখনও পারে।
দেশান্তরিত হওয়াটা তাদের ধাঁতে মিশে গিয়েছিল। ফলে কষ্টসহিষ্ণুতা তাদের রক্তে মিশে যায়। ছোটাছুটি কোন বিষয়ই ছিলো না তাদের কাছে৷ নতুন কোন দেশে গিয়েই সেখানে ব্যবসার পসার জমাতে লেগে পড়ত তারা। এবং চিকন বুদ্ধি দিয়ে সম্পদে ফুলেফেঁপে উঠত।
বর্তমানেও সারা বিশ্ব জুড়ে ইয়াহু*দিদের ব্যবসায়িক আধিপত্য বিরাজ করছে। পণ্যের গায়ে American importing company বা American commercial company ইত্যাদি লেখা থাকলেও সেই কম্পানী মূলত ইয়াহুদিরা চালায়। খৃস্টানরা আমেরিকার পণ্য মনে করে তা কেনে। ওদিকে অর্থ জমা হয় ইয়াহু*দির পকেটে।

আধুনিক অর্থনীতির যত মারপ্যাঁচ, তা সবই ইয়াহু*দিদের তৈরী। তারাই আধুনিক অর্থনীতির জনক। অর্থনীতির নানান সূত্র দিয়েই তারা হাতিয়ে নেয় আমাদের কষ্টের টাকা—আমরা মূর্খরা তা বুঝি না, আর বুঝলেও কোন ভাবান্তর হয় না আমাদের মাঝে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে শঠতা ও ধুর্ততা করেই তারা অঢেল সম্পদ কামাই করে। কেবল ধূর্ততা করেই যে সব কিছু করেছে, তা কিন্তু নয়। তারা ব্যবসাটা খুব ভালো বুঝত ও বোঝে। কখন, কীভাবে, কীসের ব্যবসা করা যায়, তা বুঝতে তাদের কোন জুড়ি নেই।
তারা যত সম্পদই কামাই করে না কেন, তার একটা বড় অংশ চলে যায় তাদের রাষ্ট্রের কাছে। বর্তমানে তারা একটা দেশ জবরদখল করে আছে।
এই রাষ্ট্রের অর্থনীতির চাকাও সচল রাখছে প্রত্যেকটা ইয়া*হুদি মিলে।


ইয়াহুদিদের সবচে’ বড় শক্তি হচ্ছে মিডিয়া। অনেক আগে থেকেই তারা প্রচার মাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে। তাদের বিরূদ্ধে কাউকেই মুখ খুলতে দিত না তারা— হোক সেটা সত্য বা মিথ্যা।কেউ যদি তাদের বিরূদ্ধে মুখ খুলত, তবে তারা সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরূদ্ধে এক যোগে অপপ্রচারে লেগে যেত। তাদের সকল মিডিয়া প্রচার করতে যে, অমুখ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এভাবেই মগজ ধোলাই করতে থাকে মানুষের৷ যেমনটা এখনও করে থাকে৷
মিডিয়ার শক্তি এখন তো সম্পূর্ণই ইয়াহু*দিদের হাতে। ইয়াহু*দিরা যা প্রচার করতে বলে, কেবল তা-ই প্রচার করে সারা দুনিয়ার মিডিয়া।
আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোও একেকটা ইয়াহু*দিদের এজেন্ট, এমন বললে অত্যুক্তি হবে না। দেশীয় মিডিয়াগুলো পশ্চিমের ভাষ্যকার, এরচে’ বেশি কিছু নয়। নিজস্বতা বলতে এদের কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না।
আমেরিকা যত দিন আফগা*ন যোদ্ধাদের জঙ্গি বলেছে, আমাদের মিডিয়াও তাদেরকে ততদিন জঙ্গী বলেছে। কিন্তু যখনই আমেরিকা তাদের সাথে সন্ধি করল, তখনই আমাদের মিডিয়া জঙ্গী বলা ছেড়ে দিল। তাদের শিরোণাম তখন এমন হলো যে, আফ*গান যোদ্ধারা….।
তাহলে আমাদের মিডিয়ার কাছে নিজস্বতা বলতে আছেটা কী? বাম্পার ফলনের খবর ছাড়া!
মিডিয়ার মাধ্যমেই ইয়াহুদিরা গোটা দুনিয়া শাসন করে। এই মিডিয়াই এখন আমাদের শিক্ষাগুরু, আমাদের উপদেশদাতা। নয়া সাম্রাজ্যবাদ, যা আমাদের মস্তিষ্ক শাসন করছে; তার বড় হাতিয়ার হলো মিডিয়া। যা এখন সর্বৈব ইয়াহু*দিদেরই হাতে।


দেখা যায়, ব্যবসা বাণিজ্য করে অঢেল সম্পদ কামিয়ে শক্তিশালী হয়েছে ইয়াহু*দিরা। সেই সম্পদ দিয়েই তারা করে গেছে যা ইচ্ছা তা-ই। গড়েছে “প্রচার মাধ্যমের” এক দানব সাম্রাজ্য৷বর্তমানে মিডিয়া শক্তির পেছনেই তাদের আছে বিশাল জোগান৷ আর সেই মিডিয়াই আমাদেরকে বানায় ইয়াহু*দিদের মানস-গোলাম।আমরা এখন আর নিজের মাথায় চিন্তা করি না৷ বরং ঝাল খাই পরের মুখে৷

তথ্যসূত্রঃ দরকার পড়লে “সিক্রেট অব জায়োনিজম” বইটা পড়তে পারেন৷

আরও পড়ুন