Ads

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা যেভাবে হয়েছিল

।। ইফতেখারুল আলম মাসুদ ।।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১তম প্রতিষ্ঠা দিবস ছিল গতকাল। এই মুহুর্তে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি প্রাণের এ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য বিভিন্ন ভাবে যারা অবদান রেখেছেন তাঁদের সকলকে। এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে যাদের নাম উল্লেখ করা দরকার তারা হলেন: পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ, আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ এমএলএ, ইদ্রিস আহমেদ এমএলএ, অধ্যাপক ইতরাত হোসেন জুবেরী, এডভোকেট আয়েন উদ্দীন, খোরশেদ আলম, আনসার আলী, আব্দুল জব্বার প্রমূখ ব্যক্তিবর্গকে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই। হাজারো স্মৃতিকে বুকে নিয়ে ১৯৫৩ সাল থেকে দেশের উচ্চ শিক্ষায় অবদান রেখে আসছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। নানা আন্দোলন সংগ্রামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান গৌরবোজ্জ্বল হয়ে আছে।

রাজশাহী এলাকার শিক্ষাদিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৩ সালে রাজশাহী কলেজ প্রতিষ্ঠা করা । সে সময় কলেজে কিছু কাল আইন বিভাগ সহ পোষ্ট গ্রাজুয়েট চালু ছিল, অল্প সময় পরেই এ সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উচ্চ শিক্ষার জন্যে ঐ সময়ই রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন-

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ কেমন?

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর রাজশাহীতে স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রথম দাবি অবশ্য ওঠে রাজশাহী কলেজেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ। ১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গনে সমবেত হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাস করার দাবি তোলেন। রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য সর্বপ্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী শহরের ভুবন মোহন পার্কে ।

ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তীব্র হতে থাকে। ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারি ৬ ভুবন মোহন পার্কে আরও একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদার বখশ সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, যদি রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না হয় তবে উত্তরবঙ্গকে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ দাবি করতে আমরা বাধ্য হব । মাদার বখশের এই জ্বালাময়ী বক্তব্যে সাড়া পড়ে দেশের সুধী মহলে।সাথে সাথে টনক নড়ে সরকারেরও। এভাবে ধারাবাহিক আন্দালনের মুখে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় রাবি প্রতিষ্ঠা আইন পাস হয়। একই বছরের ৬ জুলাই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীকে উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাবির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫৪ সালে পদ্মাতীরের বড় কুঠি নামে পরিচিত ঐতিহাসিক রেশম কুঠির উপর তলায়। সাতটি বিভাগে ১৫৬ জন ছাত্র এবং পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাস শুরু হয় রাজশাহী কলেজে। উপাচার্যের দফতরও প্রতিষ্ঠা করা হয় পদ্মার তীরের বড়কুঠি নামে পরিচিত ঐতিহাসিক রেশম কুঠির উপর তলায়। ১৯৫৮ সালে বিদ্যমান বর্তমান ক্যাম্পাসের দালান-কোঠা ও রাস্তাঘাট নির্মাণ শুরু হয়।এরপর ১৯৬১ সালে রাবির শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় মতিহারের সবুজ চত্বরে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস ও বিভাগ এখানে স্থানান্তরিত করতে করতে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয় একটি ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা। উল্লেখ্য যে, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনায় এই ক্যাম্পাসটি গড়ে ওঠে এবং অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ড. সোয়ানি টমাস এর স্থাপত্য পরিকল্পনা করেন। ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর জেনারেল আইয়ূব খান এটি পরিদর্শনে আসেন এবং ভিজটরস বুকে এ ক্যাম্পাসের সার্বিক ব্যাপারে অত্যন্ত ভূয়সী প্রশংসা করে মন্তব্য লিখেন।

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

আরও পড়ুন