আলো ঝলমলে হোক নারীর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়

।। ড. সাজেদা হোমায়রা ।।
কোনো এক অদ্ভুত কারণে আমাদের সমাজের মানুষ মনে করে একটা মেয়ের বিয়ে হওয়া বা বাচ্চা হওয়া মানে মেয়েটার জীবনের গতি এখানেই শেষ। এখন এভাবেই তার দিন পার হয়ে যাবে। তার পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, ফিগার বা সৌন্দর্য এসব নিয়ে আর ভাবার দরকার নেই।আর মেয়েরাও কেন যেন এ মানসিকতায়ই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যদিও এখন এক্ষেত্রে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই এ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসছে। এখনকার মেয়েরা বিয়ে বা মা হওয়ার পরও যথেস্ট ক্যারিয়ার সচেতন, সৌন্দর্য সচেতন, স্বাস্থ্য সচেতন। তবুও এর সংখ্যা খুবই কম।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা সন্তান জন্মের পরই খুব দ্রুত বদলে যেতে থাকে। মাতৃত্বের আবহে সে নিজেকে গুটিয়ে ফেলে। বয়সের আগেই যেন সে শরীরে ও মনে আরো বয়সী হয়ে উঠে। মনের বার্ধক্যে তার জীবনের গতি থমকে যায়।

 

সন্তান সামলে, সংসার সামলে, পড়াশোনা সামলে, অফিস সামলে সে নিজেকে ভালোবাসতে ভুলে যায়। শরীর ও পোশাকে মনোযোগের অভাব, চুলে রুক্ষতা, বিবর্ণ চেহারা….তার নিজের দিকে তাকানোর একটুও সময় নেই! জমানো না পড়া বইগুলো, নিজের একটা বিকেলের চা, টোস্ট…ফিরে তাকানোর সময় নেই। সময় নেই নিজের স্বপ্নগুলো নিয়ে ভাবার। আর এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে নিজের ভালো লাগার বিষয়গুলো।কিন্তু কেন এমন হবে?

 

এমন করেও তো ভাবা যায়, মা হওয়ার পর একটা মেয়ের জীবন আরো সুন্দর, পরিপূর্ণ ও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। মনোবল আর ইচ্ছাই পারে তার জীবনকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে। ইচ্ছে করলেই কিন্তু একটা মেয়ে প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠতে পারে। নিজেকে বের করে আনতে পারে একঘেয়েমী জীবন থেকে। নিজের হাতেই তো সাজাতে হয় নিজের একান্ত জীবন!
যাদের পড়াশোনার মাঝেই বিয়ে হয় বা বাচ্চা হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের পড়াশোনাটা বন্ধ হয়ে যায়। প্লিজ সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন লেখাপড়াটা যেন শেষ করতে পারেন। বিয়ে হয়ে গেলেই একটা মেয়ের লেখাপড়াটা দায়সারা হয়ে যায় না। এমনভাবে নিজেকে গড়ুন যেন আত্মপরিচয় সংকটে ভুগতে না হয়।
ইচ্ছে ও সুযোগ থাকলে সংসার ও বাচ্চা সামলিয়েও একটা মেয়ে জব করতে পারে, নিজের ক্যারিয়ারকে উজ্জ্বল করতে পারে। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে ভাগ্যবান তারা, যারা পরিবারের সহযোগিতা পান। অনেক সময় পরিবার থেকে সহযোগিতা না পেলে বা পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কারণে অনেক মেয়েরই চাকরী করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই বলে মানসিক স্থবিরতা কখনোই কাম্য নয়।
নিজের গোল সেট করুন। গোল সেট করার জন্য কোন বয়স লাগে না।যে কাজ করতে ভালো লাগে সে কাজটিই করুন। গোল সেট করা মানেই যে অনেক বিশাল কিছু করতে হবে ব্যাপারটা এমন না। সেটা হতে পারে বারান্দায় ছোট একটা বাগান করা, হতে পারে পছন্দের কোন কোর্স করা, হতে পারে পছন্দের কোন টপিকের উপর লেকচার শোনা বা সেই টপিক নিয়ে একটু পড়াশোনা, অথবা হতে পারে অনলাইনে কোন কাজ করা ইত্যাদি। মোটকথা, যে কাজটি করলে আপনি আনন্দ পাবেন সে কাজটিতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আপনার নিজের একটা লাইফ স্টাইল ছিলো সেটা যেন থেমে না যায়!প্লিজ, স্বপ্নগুলোকে মরে যেতে দিবেন না। সেগুলোকে শেইপ দিন। সুঅভ্যাসগুলোকে হারিয়ে যেতে দিবেন না। সেগুলোকে ধরে রাখুন।

 

নিজের শরীর ও সৌন্দর্যের প্রতিও যত্ন নেয়াটা জরুরী। বেশিরভাগ মেয়েই মা হওয়ার পর শারীরিকভাবে নিজেকে ফিট রাখতে পারে না। সৌন্দর্যের প্রতিও হয়ে পড়ে খুব উদাসীন। যা তাকে আরো বিষন্ন করে তোলে। রুচির সাথে মিলিয়ে সাজ ও সুন্দর ড্রেস পরলে নিজের কাছেই ভালো লাগে। পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও পুষ্টিকর ডায়েট ফিগারকে সুন্দর করতে পারে ও শরীরকে সুস্থ রাখতে পারে। নিজের শরীরের যত্ন নিতে কিছুটা সময় আলাদা করে নিন।

 

মাঝে মাঝে আনন্দমুখর পরিবেশে বন্ধুদের সাথে গল্প করুন। মনে প্রফুল্লতা আসবে। চার দেয়ালের মাঝে নিজেকে বন্দি করে না রেখে মাঝে মাঝে ঘুরতে বের হন। মনের ভেতর জমে থাকা চাপ, বিষন্নতা কমে যাবে। শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে।আলো ঝলমলে হোক মেয়েদের জীবনের প্রতিটি ধাপ! প্রাণবন্ত থাকুক প্রতিটি মেয়ে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে!

 

লেখকঃ ইসলামী বিষয়ে কলাম লেখক 

 

 

আলো ঝলমলে হোক নারীর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়আলো ঝলমলে হোক নারীর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়আলো ঝলমলে হোক নারীর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়

আরও পড়ুন