উপলব্ধির জায়গা থেকে

ছেলেটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মেয়েদের উত্যক্ত করতে ভীষন পছন্দ করে। কারন তার মা বলেছে ছেলেরা একটু আধটু এমনটা করেই। কিন্তু এই একটু আধটু দুষ্টমির জন্য যে মেয়েদের মায়েদের রাতের ঘুম হারাম হয় তা ছেলের মা একদম বোঝে না। কারন সে ছেলের মা। এই সমাজে একটি ছেলে সবকিছু করতে পারবে। কারন ছেলের ঘরে মেয়ে আসবে বউ হয়ে। মেয়ের ঘরে তো ছেলে যাবে না। এই প্রক্রিয়াটি আটকানো মুশকিল।

তাই মেয়েকে প্রস্তুত করছি ছেলের ঘরে গিয়ে সাপের মত আচরণ করার জন্য। ইগোটাকে যদি সাপের লেজ ধরি তাহলে লেজে পারা দিলে কি করে সাপের মত ফোঁস করে উঠতে হয় তাই শেখাচ্ছি। ছোটবেলা থেকে নারীদের সহনশীলতা শেখানো হয়। ছেলেরা হাজারটা অন্যায় করলেও নাকি মেয়েদের উচিৎ চুপ করে সেটা সহ্য করা। কেন! ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের কি একটা অঙ্গ কম আছে! নাকি ছেলেরা লাফিয়ে হাটে আর মেয়েরা হামাগুড়ি দিয়ে?

আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় বেশিরভাগ পরিবারে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের হামাগুড়ি দিয়েই হাঁটতে শেখানো হয়। সোজা মেরুদন্ডটাকে বাঁকা করে দেয়া হয় জন্মের পর থেকেই। অথচ এভাবে শেখানোর কোনো যুক্তি নেই। এভাবে পরিচালিত করে বলেই মেয়েরা ধর্ষণের পর আরো ঝিমিয়ে পরে। অথবা আত্মহত্যা করে। অথবা ট্রমায় চলে যায়। পরিবার এটা বোঝে না মেয়েদের যে অঙ্গগুলো নিয়ে পুরুষ উৎসব করে সেই অঙ্গগুলো একটা পুরো সমাজকে পরিচালিত করার পেছনে কত বড় ভূমিকা রাখে। যে কোনো পরিবারে ছেলেকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে মানুষ করা হয় মেয়েদের ঠিক ততোটাই অবহেলায় বড় হতে দেয়া হয়।

অথচ পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একজন নারী অধিষ্ঠিত আছেন। তিনি নারী হয়েও তার ঘরে পালিত নারীকে অবহেলা করেন। তাহলে একজন পুরুষ, সমাজ কেন অবহেলা করবে না। আমাদের সমাজে ছেলেরা (দুষ্টুমি করে হোক অথবা সুস্থ মস্তিষ্কে ইচ্ছে করে হোক) এখনো বলে, বউ গেলে বউ পাওয়া যায়, গাড়ি গেলে গাড়ি পাওয়া যায় না। অথবা তোর বউ এর সন্তান হয় না তো কি হয়েছে আরেকটা বিয়ে কর। মেয়ের অভাব পরেছে নাকি দেশে! অথবা ধর্ষিত নারীকে অবলীলায় বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে আরেকটা বিয়ে করতে একজন ধর্ষকের স্বগোত্রীয় পুরুষের এতটুকু দ্বিধা হয় না। কারন নারী যে সমাজে অনেক সস্তা পন্য।

সময় এসেছে অপমানের জবাবে সাপের মত ফোঁস করে ওঠার। নিজেকে মানুষ হিসেবে প্রমান করার। ধর্ষনের পরও নতুন করে বাঁচার পথে হাঁটার। অর্থাৎ যে কোনো প্রতিকূলতায় আবার নিজেকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার। মুক্ত আকাশ কেবল ছেলেদের জন্য নয়। মেয়েরাও মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ার অধিকার রাখে।

লেখকঃ সালমা তালুকদার, কবি ও সাহিত্যিক।

০৩ অক্টোবর ২০২০ইং

আরও পড়ুন