নারী তুমি অগ্নী হয়ে জ্বলো

ফারহানা শরমীন জেনী

কালো পর্দা টেনে দিয়ে আঁধারে লুকিয়ে ঢাকি লজ্জা নাকি সন্তান মানুষ করতে না পারার অক্ষমতা?

প্রথমবার মা হয়েছিলাম এক কন্যা সন্তানের, ছিলো নাকি সেদিন কন্যা দিবস,দুর থেকে হেঁকে শশুর মশাই বলেছিলেন -“বলে দিস তোর বউকে সোনার আংটি বাঁকা হলেও দামি”!

সত্যি তাই নতুবা তার হাবাগোবা ছেলেটাকে আমার ব্যক্তিত্বশীল বাবা এত সমাদরই বা করবে কেন আর আমাকে যে ঠেলে গুজে পাত্রস্থ করে দায়মুক্ত হলো যেন!

তিনবছর পরে আবার আঁতুড় ঘর কাপিয়ে চিৎকার সাথে দায়বুড়িটাও বকসিসের লোভে চিৎকার “শব্দ করে আজান দাওগো সগলাই ব্যাটা আলছে ঘরে ব্যাটা!”

শশুরমশাই এবার অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে, বিজয়ীর বেশে পাইক বরকন্দাজ সাথে ছুটলেন গন্জের হাটে, সাথে মাথা নুইয়ে শশুরের বোকাছেলেটা ছুটছে দর্প নিয়ে যেন এ জীবনে তার একটাই সাফল্য পুত্রের গর্বিত পিতা যে সে।

পুত্র বাড়ে প্রশ্রয় আশ্রয় আর মাছের মুড়োটা চিবিয়ে চিবিয়ে। পড়ালেখায় নেই মন, প্রাণেতে বয়সের উন্মাদনা সারাক্ষণ, বড়বোন তার কাছে হাসির খোরাক, মা যেন দাসিরও অধম,কারণ পুত্র যে বংশের আরাধ্য ধণ।

অদম্য সাহসে ভর করে পুত্রের মা গেল অবাধ্য পুত্রকে শায়েস্তা করতে,আহারে মায়ের ওপর নেমে এলো খড়গ হরেক বাহারে; শশুর মশাই আর স্বামী মহাশয় বললো রেগে “পুরুষ হতে গেলে এক আধটু অমন হতে হয়,তাতেই তুমি বংশ প্রদীপের গায়ে হাত তুলবে তেড়েফুঁড়ে।”

অসহায় মা কেঁদে ভাসায় বুক,নীরবে চোখের জলে ভাসে বন্যা, হায় একি পরীক্ষায় পড়লাম আমি এক অসহায় নগন্যা।

অবশেষে পুত্র আশ্রয় প্রশ্রয়ে লালিত হয়ে করলো যৌবনে পদার্পণ, দৃষ্টিতে তার খুঁজছিল রিপুর তাড়নার আহার “নারী শরীর সারাক্ষণ “।

সৃষ্টিকর্তার সহ্যের সিমা করেছিলো অতিক্রম,পড়েছিলো পুত্র কৃপাণের মুখে অগ্নি বেশে
নারী হেনেছিল আঘাত বাঁচাতে সম্ভ্রম!

ঘরে ঘরে জাগো কন্যা, সারাক্ষণ সাথে রাখো বর্ম তোমার সাহসের মন্ত্র বেঁধে, ধর্ষকের শাস্তি শুধু নয় সাথে শাস্তি যেন হয় লালিত পালিত করেছে যারা তাকে।

আজকের এই কালো পর্দার আড়াল ছেড়ে নারী তুমি সূর্য হয়ে জ্বলো, সকল শ্রেণির নারীর জন্য এ পৃথিবী হোক অভয়ারণ্য, মায়েরা যেন ঘরে ঘরে গড়ে সুপুত্র, সকলের কাছে যেন এই হয় আরাধ্য!

লেখকঃ সাহিত্যিক, কলামিস্ট এবং সহ-সম্পাদক, মহীয়সী

আরও পড়ুন