প্রতিটি দিনই হোক নারীদিবস

শাহীন আক্তার

আমি নারী দিবস পালন করি না। করার প্রয়োজনও বোধ করি না। আর কেনইবা করবো? কথায় আছে, নিজের ভালো পাগলেও বোঝে! মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে মানুষ হিসাবে এই পৃথিবীর জীবন ও আখেরাতে মানুষ হিসাবেই বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাহলে কেন নিজের অধিকারকে নির্দিষ্ট ছকে বেঁধে ফেলতে যাব? নির্দিষ্ট একটি দিনেই কেন আমাকে বিশেষভাবে মনে করতে হবে আমি নারী এবং মানুষ? মহান আল্লাহ্ আমাকে যেদিন সৃষ্টি করেছেন সেদিনইতো আমাকে মানুষ হিসাবে সম্মনীত করেই সৃষ্টি করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন:
۞وَلَقَدۡ كَرَّمۡنَا بَنِيٓ ءَادَمَ [الاسراء★

“আর নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানদেরকে সম্মানিত করেছি।” [সূরা আল-ইসরা/বনী ইসরাইল: ৭০]

আল্লাহর রাসুল(সা.)ঘোষণা করেছেন:
«إِنَّمَا النِّسَاءُ شَقَائِقُ الرِّجَال»

“নারীরা পুরুষদের সহোদরা’’। [সুনান আবি দাউদ ১/২৯৯, হাদীস নং ২৩৬]

বস্তুত মানুষ সম্পর্কে ইসলামের এ ঘোষণা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে শাশ্বত ও চিরন্তন। আল্লাহ তো বলেননি যে, “আমি শুধু পুরুষ আদম সন্তানদের মর্যাদাবান করেছি।” বরং আল্লাহর নিকট মানবিক সম্মান ও মর্যাদার বিচারে নারী ও পুরুষের মাঝে কোনই পার্থক্য নেই। নারীকে শুধু নারী হয়ে জন্মাবার কারণে পুরুষের তুলনায় হীন ও নীচ মনে করা সম্পূর্ণ জাহেলী ধ্যান-ধারণা, এরূপ চিন্তাভাবনা ইসলাম স্বীকার করে না। অতএব ইসলামের দৃষ্টিতে নারী হচ্ছে মহান স্রষ্টা আল্লাহর সম্মানিত সৃষ্টি।

আল্লাহর নিকট ঈমান ও আমলই নারী-পুরুষের মর্যাদা নির্ণয়ের সঠিক মাপকাঠি। অর্থাৎ ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের সফলতা ও ব্যর্থতা সুস্থ চিন্তা ও সঠিক কর্মের সাথে সম্পৃক্ত। যে আদর্শ ও মতবাদ নারীকে শুধু নারী হওয়ার কারণে নীচু ও লাঞ্ছনার যোগ্য মনে করে, মানবতার উচ্চ আসন থেকে দূরে নিক্ষেপ করে এবং পুরুষকে শুধু পুরুষ হওয়ার কারণে উচ্চতর আসনের উপযুক্ত মনে করে, ইসলাম তাকে জাহেলিয়াত বলে আখ্যায়িত করেছে। ইসলাম পরিস্কার ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, মর্যাদা লাঞ্ছনা এবং মহত্ত্ব ও নীচতার মাপকাঠি হলো তাকওয়া-পরহেযগারী এবং চরিত্র ও নৈতিকতা। এ মাপকাঠিতে যে যতটা খাঁটি প্রমাণিত হবে মহান আল্লাহর কাছে সে ততটাই সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে।

আল্লাহ বলেন:
مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَنُحۡيِيَنَّهُۥ حَيَوٰةٗ طَيِّبَةٗۖ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ [النحل: ٩٧]

“পুরুষ বা নারীর মধ্য থেকে যে-ই ভালো কাজ করলো সে ঈমানদার হলে আমি তাকে একটি পবিত্র জীবন যাপন করার সুযোগ দেব এবং তারা যে কাজ করছিল আমি তাদেরকে তার উত্তর পারিশ্রমিক দান করব।’’
[ সূরা আন-নাহল: ৯৭]

আল্লাহ আরো বলেন:
فَٱسۡتَجَابَ لَهُمۡ رَبُّهُمۡ أَنِّي لَآ أُضِيعُ عَمَلَ عَٰمِلٖ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰۖ ال [عمران: ١٩٥]

“তাদের রব তাদের দোআ কবুল করলেন এ মর্মে যে, পুরুষ হোক বা নারী হোক তোমাদের কোনো আমলকারীর আমল আমি নষ্ট করব না।’’
[সূরা আলে-ইমরান: ১৯৫]

অর্থাৎ মানব জাতির দু’টো শাখার মধ্য হতে যে-ই কর্মের পবিত্রতার দ্বারা তার আমলনামা উজ্জ্বল করবে, আল্লাহর কাছে মর্যাদা ও সফলতার প্রাপ্তি ঘটবে তারই। সে দৃষ্টিকোণ থেকে বহু নারী ঈমান ও আমলে বহু পুরুষকে ছাড়িয়ে গেলে নিঃসন্দেহে তারা সে সব পুরুষের চেয়ে মর্যাদাবান বিবেচিত হবেন।
সুবহানাল্লাহ্!আলহামদুলিল্লাহ্!!আল্লাহ আকবর!!! মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত ও হেফাজত করুন। এবং আমাদের সবাইকে, অর্থাৎ নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলকে প্রকৃত মানুষ হওয়ার তৌফিক দান করুন।

লেখকঃ ইসলামী বিষয়ে কলাম লেখক

আরও পড়ুন