মাতৃত্বকালীন বিষন্নতা (পর্ব-৩)

ডাঃ শারমিন সুলতানা

তমা ৭ মাস ১০ দিনের প্রেগনেন্ট।বাবার বাসায় ১০ দিন কেটে গেল। তারপর ওর কিছুই ভালো লাগছে না । ব্যাপারটা কি বুঝতে পারছে না।শুধুই কান্না পায়। মনে হয় মাঝেমাঝে মরে যাব delivery এর সময়।
তমা যদি মরে যায় baby পালবে কে?
দেবরের বউ মানে ‘জা’ কে ফোন করে তমা বলল, “আমি যদি মরে যাই, আমার baby টার দায়িত্ব তুমি নিও।”
জা বলল- “কি বলেন ভাবী!ভাইয়ার সাথে কোন ঝামেলা যাচ্ছে নাকি?আমার Husband আবার আমাকে অনেক ভালবাসে।আসলে ভাইয়াতো মাকে বেশি ভালবাসে, এজন্যই এত সমস্যা।আমার Husband হলো ভাইয়ার উল্টা।সে বলে, আমি ভাইয়ার মত হবো না ।আমি আমার বউকে বেশি ভালবাসবো। আসলেই আপনার জন্য অনেক কষ্ট হয় ভাবী।খারাপ লাগলেই ফোন দিবেন।”
এসব কথা শুনে তমার আরো কষ্ট বেড়ে গেল।Relax হবার জন্য ফোন করেছিল, এখন তো উল্টোটা হলো।
আসলে কেউ আমার আপন না।সবাই শুধু আমাকে কষ্ট দেয়।কোথায় গেলে শান্তি পাব? তমা ভাবছে আর কাঁদছে।
এদিকে শ্বাশুড়ি,ননদ ও জামাই পিঠা নিয়ে আসছে তমার বাবার বাসায়।
শ্বাশুড়ি বললেন- “মা! তুমি ছেলে চাও, নাকি মেয়ে চাও? দোয়া করি আল্লাহ যেন তোমাকে মেয়ে দিন।”
আবার ছেলের দিকে রাকিয়ে বললেন,
“রানা তুই কি বলিস?”
রানা উত্তর দিল- “ছেলে/মেয়ে যাই হোক,সুস্থ babyচাই রবের কাছে।”
তমার সবাইকে অসহ্য লাগছে।
কেন যে কিছুই ভালো লাগে না বুঝতে পারছে না।
কেউ কি যাদু টোনা করল কিনা? ভাবতে ভাবতেই ৮ মাস প্রেগনেন্সি সময় চলে এলো।
(চলবে)

আগের পর্ব- মাতৃত্বকালীন বিষন্নতা (পর্ব-২)

লেখকঃ ডাক্তার ও মোটিভেশনাল স্পিকারThe Nafs Psychological & Spiritual Wellness Centre

আরও পড়ুন