মাতৃত্বকালীন বিষন্নতা (পর্ব-৪)

ডাঃ শারমিন সুলতানা

তমা ৮ মাসে পা দিল।আর অল্প কিছুদিনেের মধ্যেই কোল জুড়ে আসবে নতুন অতিথি।রানা তমাকে শেষ সময়টা তমার বাবার বাসায় থাকতে বলল।

রানা খুব দায়িত্বশীল মানুষ। বড় ছেলে হিসেবে বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজন সবকিছুর দায়িত্বের পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রিয়তমা স্ত্রী ও নতুন অতিথির আগমন।হঠাৎ করেই নতুন দায়িত্বগুলো কিভাবে পালন করবে সামলাতে পারছে না।

তমাকে রানা সবসময় ফজর নামাজ আদায় করে ফোন দিত। তমা স্বপ্ন দেখেছে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হওয়া শিশুটির।রানাকে স্বপ্নটা বলার পর রানা বলল, আচছা এখন তুমি ঘুমাও।রানা খুব ভালবাসতো তমাকে । কিন্তু বাহ্যিকভাবে সেটা প্রকাশ করতে পারতো না।রানা খুব লাজুক স্বভাবের ছিল।
ঠিক ২ ঘন্টা পর তমা ডাক্তারের কাছে গেল।ডাক্তার বললেন baby নড়াচড়া কম করছে, হসপিটালে ভর্তি হবার জন্য।
তমা হসপিটালে ভর্তি হবার পর রানাকে ফোনে জানাল।রানা হসপিটালে ছুটে গেল অফিসের জরুরী কাজ ফেলে।তমা এক ডাক্তার থেকে আরেক ডাক্তারের কাছে ছুটোছুটি করছে,যাতে স্বাভাবিক delivery হয়।
অতঃপর এক ডাক্তার বললেন, ফোরসেপ বার্থ করানো যাবে কিন্তু জটিলতা অনেক।এটা শুনে রানা রাজি হলো না।রানা বলল,সিজারিয়ানের ফলে যদি মা ও শিশু সুস্থ থাকে তাহলে সিজার করাই উত্তম।

ডাক্তার একদিন অপেক্ষা করতে বলল, দেখা যাক ২৪ ঘন্টা পর কি অবস্থা হয় ।তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি করলে ভালো হবে।তমা খুব অস্থিরতা অনুভব করছে। কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না যে,সিজারিয়ান ডেলিভারিতে জন্ম নিবে শিশুটি।ভাবছে, আল্লাহর কাছে এত দুআ চাইলাম…. আবার ভাবছে শেষ পর্যন্ত হতেও পারে স্বাভাবিক নিয়মের ডেলিভারি।চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারল না।
এদিকে রানা ও তমার শ্বাশুড়িমা দেখা করে চলে গেল বাসায়।রানা তমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল-best of luck…আল্লাহ ভরসা । আমি সকালে আসব ইনশাআল্লাহ।

এভাবেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে লাগলো….।

(চলবে)

আগের পর্ব-মাতৃত্বকালীন বিষন্নতা (পর্ব-৩)

লেখকঃ ডাক্তার, সাহিত্যিক ও মোটিভেশনাল স্পিকার, The Nafs Psychological & Spiritual Wellness Centre

আরও পড়ুন