মাতৃত্বকালীন বিষন্নতা (পর্ব-১)

ডাঃ শারমিন সুলতানা 

ইরা ও রানা ২ ভাই-বোন মিলে হিন্দি সিনেমা দেখছিল।দেখতে দেখতে রাত কটা বেজেছে সেই খেয়াল নেই। এমন সময় হঠাৎ করেই খুব জোরে শব্দ শোনা গেল, “ব্যাপারটা কি?”
রানার বৌ তমা খুব রাগী চেহারায় এসে দাঁড়ালো কিছু না বলে দরজায় একটা ধাক্কা দিয়ে শব্দ করল। তমার প্রেগনেন্সির সাত মাস হলো।
রাত তখন ২.৩০টা বাজে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তমা উঠে দেখে সে একা, পাশে কেউ নেই। গানের আওয়াজ ভেসে আসল কানে।

উঠে গিয়ে পানি খেল তমা। ড্রয়িং রুমে গিয়ে দেখে রানা ও ইরা সিনেমা দেখছে।
তমার রাগী চেহারা দেখে উঠে ঘুমাতে চলে গেল ইরা।
তমা মুখে কিছু না বলে দরজায় জোরে ধাক্কা দিয়ে শব্দ করছে। আর রানা খুব রাগ করে অন্যরুমে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল। তমা আরও বেশি চটে গেল। তখন T.V এর তার কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলল।
প্রায়ই রানা pregnant তমাকে রেখে সিনেমা দেখতো।তমা হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখতো কেউ নেই পাশে। নিজেকে খুব অসহায় লাগতো।

ইরা মাঝে-মাঝে বেড়াতে আসতো স্বামীকে সাথে নিয়ে। বিভিন্নভাবে তমা ভাবীকে আলাদা করে রাখতো ভাইয়ের কাছ থেকে।
তমা ভাবীর সুখটা ইরা মেনে নিতে পারতো না। ইরা ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছিল তাতেও সুখী হতে পারেনি। অপরদিকে ভাবী তমা ও রানা পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে। কোন চেনা পরিচয় ছিল না -বিয়ের ১ম মাসেই pregnant আর ইরা ১বছর আগে বিয়ে করে কোন baby হচ্ছে না।পরিবারও তাদের মেনে নিচ্ছে না সহজভাবে।

তমা দ্বীনদার ছিল আর রানা সেজন্য তমাকে খুব শ্রদ্ধা করতো।

তমা খুব হাসি-খুশি ও উচ্ছ্বল মনের মানুষ ছিল।হঠাৎ করেই তমা নিজেই নিজেকে চিনতে পারছে না।শুধু কান্না পায়,কোথায় গেলে একটুকু শান্তি পাবে, বুঝতে পারে না।
বার বার মনে হয় মরেই যাবে। তাহলে বাচ্চার কি হবে? এইসব চিন্তা করতে করতে কিছুই ভালো লাগে না।খুব খিদে পায়,এতো খায়  বলে ও শ্বাশুড়ি বেড়াতে এসে অনেক কথা শুনালো। শ্বাশুড়ি অনেকদিন থাকবেন। রাজশাহী থেকে ঢাকায় ছেলের বাসায় বেড়াতে আসেন, কম করে হলেও ৩-৪ মাস থাকেন। তমা ও রানার সাথে একটা প্যাঁচ না লাগালে তার মনটা শান্তি পায় না।একসময় তমার খিদে কমে গেল-শ্বাশুড়ি বল্লেন, “কাজ-কাম তো করো না খিদে লাগবে কীভাবে?”
তমার শুধুই কান্না পায়।
প্রেগনেন্সির সাত মাস থেকে তমার বেশি বেশি কান্না পায়, শুধু শুধু রেগে যায়, সারাক্ষণ ফোনে কথা বলার মানুষ খুঁজে কিন্তু মনের মতো কাউকেই পায় না। হতাশ হয়ে যায়। কে,কী বলল সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে।

(চলবে)

লেখকঃ  Dr. Sarmin Sultana,
CBT practitioner, Mental Health Counselor
Reg no3409.

আরও পড়ুন