লোভী নারীর গল্প ও ইসলাম

জামান শামস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের মিথ্যা গল্প ভেসে বেড়ায়।গল্পগুলোর রচয়িতা নিঃসন্দেহে কোন না কোন রসিক সুজন।শুধুমাত্র বিনোদন উদ্দেশ্যে রচিত এইসব গল্পে তারা বেশ সুকৌশলে মানুষের চরিত্র হনন করে,বিশেষ করে নারীদের।যারা এগুলো প্রমোট করছেন তারাও জানেন না নিজেদের অজান্তে কতো বড় আকারের গুনাহে তারা যুক্ত হচ্ছেন।এমনই একটি গল্প এইটি-

—“কোট”—

নিউইয়র্ক-এ সম্প্রতি একটা শো-রুম চালু হয়েছে। যেটার নাম হলো “Husband ফর Sale”

এখানে বিভিন্ন ধরনের পুরুষরা রয়েছেন, মেয়েরা এখান থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পতি পছন্দ করতে পারবে।

সেখানের নিয়ম হলো–
১) যে কোন মহিলা সেখানে একবারই মাত্র প্রবেশাধিকার পাবেন।
২) এখানে ৬ টি ফ্লোর আছে এবং মহিলারা যে কোন ফ্লোর থেকে নিজের পতি নির্বাচন করতে পারেন। তবে ২য় ফ্লোর অতিক্রম করে ৩য় ফ্লোরে গিয়ে যদি পতি পছন্দ না হয়, তাহলে ঐ মহিলা তার উপরের ফ্লোরে যেতে পারেন, কিন্তু যে ফ্লোর তিনি ইতিমধ্যে অতিক্রম করে চলে গেছেন সেখান থেকে আর পতি নির্বাচন করতে পারবেন না। অর্থাৎ উপরের ফ্লোরের পতি পছন্দ না হলে পুনরায় নিচের ফ্লোরে এসে পতি পছন্দ করা যাবে না।

এক মহিলা গেছেন নিজের জন্য পতি পছন্দ করতে। গিয়ে দেখলেন….

১ম ফ্লোরে লেখা আছে– এখানের পুরুষরা চাকুরীজীবী ও তারা সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসী।

মহিলাটি তারপর দ্বিতীয় ফ্লোরে গেলেন। ২য় ফ্লোরে লেখা আছে– এখানের পুরুষরা চাকুরিজীবি, সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসী ও স্ত্রী প্রেমিক।

মহিলাটি ধীরে ধীরে ৩নং ফ্লোরের দিকে অগ্রসর হলেন…
৩নং ফ্লোরে লেখা আছে- এখানের পুরুষরা চাকুরিজীবি, সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসী, স্ত্রী প্রেমিক ও খুব সুদর্শন।

মহিলাটি আরেকটু ভালো পতি নির্বাচনের আশায় ৪র্থ ফ্লোরে গেলেন…

সেখানে লেখা রয়েছে– এখানের পুরুষরা চাকুরিজীবি, সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসী, স্ত্রী প্রেমিক, সুদর্শন এবং তারা স্ত্রীকে গৃহ কর্মে সাহায্য করতেও আগ্রহী।

যতই উপরের দিকে যাচ্ছেন গুণধর পতিদের সন্ধান মিলছে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে মহিলা ৫ম ফ্লোরের দিকে পা বাড়ালেন …

সেখানে লেখা রয়ছে —
এখানের পুরুষরা চাকুরিজীবি, সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসী, স্ত্রী প্রেমিক, সুদর্শন এবং তারা স্ত্রীকে গৃহ কর্মে সাহায্য করতেও আগ্রহী আর তারা খুব রোমান্টিক ভাবনার পুরুষ।

এখানেই মহিলাটির শেষ গন্তব্য হওয়া উচিত ছিল,
কিন্তু তবু তিনি ৬ নং ফ্লোরে গেলেন আরো গুণধর পতির সন্ধানের আশায়।

সেখানে লেখা রয়েছে–দু:খিত এখানে যারা নিজের জন্য পতি নির্বাচনের বাসনা নিয়ে এখানে এসেছিলেন, কিন্তু নির্বাচন করার মত কোন পুরুষ নেই। এই ফ্লোরটা আমাদের শো-রুমের কোন অঙ্গ নয়। এই ফ্লোরটা রাখা হয়েছে শুধু এটা প্রমাণ করার জন্য যে মেয়েদের সন্তুষ্ট করাটা কতবড় একটা অসম্ভব ব্যাপার !!!

—“আনকোট”—

আপত্তির বিষয় হলো

১.বলাবাহুল্য যে গল্পটিতে নারী জাতিকে “লোভী” , “অতৃপ্ত” ও “কোনভাবেই সন্তোষ যোগ্য নয়” বলা হয়েছে।যেখানে ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সন্মান নিশ্চিত করেছে।

২.“বিবাহ” নামক পবিত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে পণ্য “বেচা-কেনা” এর মতো বাজারী বিষয়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।

৩.বিবাহের জন্য পাত্র পাত্রী উভয়ে উভয়কে পসন্দ করে।একপক্ষীয় নির্বাচনের কোন সুযোগ ইসলামী বিয়েতেও নেই।

৪.আমাদের মধ্যে যারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সুন্দর সংসার জীবন যাপন করে চলেছি তাদের কারো ঘরের বধু,আমি নিশ্চিত,এমন লোভাতুর ও অতৃপ্ত নয়।

৫.যেসব গুণাবলী এখানে পাত্রের বিবৃত হয়েছে সেটা হাসিলের জন্য অগ্রসর হওয়া কি কোন পাত্রীর জন্য দোষণীয় ? বেটার অপশান কি ইসলামেও নিষিদ্ধ ?পাত্রীকে কেনো দোষ দিচ্ছেন আপনার মেয়ে হলে আপনিও তো লাফিয়ে পড়তেন।

ফেসবুকের গল্পে খানিক সময়ের জন্য আমোদিত হওয়া এবং সেটাকে সত্য বলে পুনরায় প্রমোট করার পূর্বে অন্ততঃ একবার চিন্তা করুন দুই কাঁধের ফেরেশতা “কিরামান কাতেবীন” এটা লিখা থেকে কি বিরত থাকবেন ? নাকি ফেসবুকে যা কিছু লিখি,মন্তব্য দিই তারও হিসাব আল্লাহ নিবেন।

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।

লেখকঃ বিশিষ্ট ব্যাংকার এবং কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন