একজন নারীর অর্থায়নে বিশ্বের প্রথম মেডিকেল কমপ্লেক্স

শারিকা হাসান

নারীরা যদি তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তির পাওনা অংশটুকু যথাসময়ে বুঝে পায় তবে তার সদ্ব্যবহার করে যে শুধু নিজের প্রয়োজনে খরচ করতে পারে তা নয় বরং বৃহত্তর মানবতার কল্যাণেও অবদান রাখতে পারে তাঁর উজ্জল দৃষ্টান্ত হলেন জেভহার নাসিব সুলতান। তাঁর আথিক অনুদানেই তৈরি হয়েছিল বিশ্বের প্রথম মেডিকেল কমপ্লেক্স ; যেখানে রয়েছে একটি হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল ফ্যাকাল্টি।

তেরোতম শতাব্দীর গোড়ার দিকে রোম সালতানাতের রাজকন্যা ছিলেন জেভহার নাসিব। তিনি দ্বিতীয় কিলিজ আর্সলান এর কন্যা ও প্রথম ক্যায়খুসরো এর বোন ছিলেন।

রাজকন্যা হিসেবে জেভহার একবার যুদ্ধের ময়দানে সশরীরে উপস্থিত থেকে যুদ্ধের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইলেন। কিন্তু তার সেই অভিজ্ঞতা সুখকর হলো না। তিনি দেখলেন যুদ্ধ করতে গিয়ে অনেক সৈন্য মারাত্মকভাবে আহত হচ্ছে কিন্তু দক্ষ ডাক্তার ও মানসম্মত চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় আহত সৈন্যদের অনেকেই ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করলেন। ক্ষমতাসীনদের একজন হয়েও আহত সৈনিকদের জন্যে কিছু করতে না পারার ব্যর্থতা নাসিবকে প্রচন্ড মানসিক কষ্ট দিল।

কিছুদিন পর নাসিব নিজেও এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেন। সেই রোগের চিকিৎসাও তখন সহজলভ্য ছিল না। মৃত্যুশয্যায় তাই তিনি তাঁর ভাইকে অনুরোধ করলেন তাঁর প্রাপ্য সম্পত্তি ব্যবহার করে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে। হাসপাতালটিতে যেন আহত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয়। সেই সাথে দুরারোগ্য রোগের নিরাময় পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা হয় এবং দক্ষ ডাক্তার ও সার্জন তৈরি করা হয়।

জেভহারের ভাই তার বোনের শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১২০৪ সালে হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং দুই বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। জেভহার নাসিবের মৃত্যুর পর ১২০৬ সালে মেডিকেল ফ্যাকাল্টি নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ১২১০ সালে শেষ হয়। এভাবেই একজন বোনের সদিচ্ছা ও সম্পত্তি প্রদান এবং একজন ভাইয়ের সেই অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যেমে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রথম মেডিকেল কমপ্লেক্স।

মেডিকেল কমপ্লেক্সটির বামদিকে হাসপাতাল এবং ডানদিকে মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অবস্থিত। দুটি ভবন একে অন্যের সাথে একটি প্যাসাজের মাধ্যমে যুক্ত রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালটির রোগীদের ঘরের পেছনে একটি পৃথক বিভাগ রয়েছে যেখানে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। তৎকালীন সময়ে এটিই ছিল বিশ্বের একমাত্র হাসপাতাল যেখানে মিউজিক্যাল থেরাপির সাহায্যে ও পানির সুমধুর শব্দকে কাজে লাগিয়ে মানসিক রোগীদের নিরাময় করা হতো।

গাযানফেরি, আলি সিনাসি, ইবু সালিন, ইবনি কুব্রা, ইউকুবি, সুকায়েদ্দিন আলি, সায়েত সামেত এর মতো বিখ্যাত অনেক তুর্কী ডাক্তার এই হাসপাতাল থেকেই পড়াশুনা করে বেরিয়েছেন। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

লেখকঃ অনুবাদক

তথ্যসূত্র:
https://www.biyografya.com/biyografi/15082
https://www.geni.com/…/Gevher-Nesibe-Ha…/6000000032327352948
https://www.dailysabah.com/…/13th-century-complex-offers-a-…

 

আরও পড়ুন