নারী অনুজীব বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা

নুরুন নাহানা লিলিয়ান

নারী অনুজীব বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহাকে অভিনন্দন।তিনি ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনে পরামর্শক হিসেবে যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন এতো অল্প বয়সে। একজন বাংলাদেশি হয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো উচিত প্রতিটি বাংলাদেশির। শুধু কাজ করলেই হয়না, শুধু আবিষ্কার করলেই হয়না, তা বিশ্ব দরবারে কিভাবে তুলে ধরতে হয়, কিভাবে কোন সময়ে কোন প্রসেসে বিষয়টি আরও জনবান্ধব ও জনসংযোগে আনা যায় সেটাও সে অনেক সুন্দর ও স্মার্টলি করতে পেরেছেন।
তাঁর বাবা অনুজীব বিজ্ঞানী ড. সমীর সাহা ও তাঁর নাম এখন সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানের জগতে সবাই জানে। এখন সেই যুগ না আপনি মহাজ্ঞানী আপনাকে কেউ খুঁজে নিবে। ডায়নামিক হতে হয়। হোক তা বিজ্ঞানের মতো বোরিং বিষয় কিন্তু তাঁরা সেটা নান্দনিক ভাবে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। তবে এটাও ঠিক আবল তাবল কাজ করে অযথা সাংবাদিক ডেকে নিজেদের চেহারা দেখালে তো আর বিজ্ঞানী হওয়া যায় না। কিছু মৌলিক আবিষ্কার লাগে, কিছু পৃথিবীর কল্যানে কাজে লাগে এমন কিছু আবিষ্কার করতে হয়, নিয়মিত রিসার্চে অবদান থাকতে হয়। প্রচারণার সাথে নিজস্ব রিসার্চে যোগ্যতা জরুরি।
বাংলাদেশি বহু বিজ্ঞানী আছে বহু রকম আবিষ্কারে দেশের বাইরে সমৃদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে তাদের কেউ চেনেও না। আবার অনেকে নুডুলস খেয়ে হাত ধুতে হয় কিভাবে এই বিষয় নিয়েও সাংবাদিককে টাকা দিয়ে ডেকে এনে বার বার টিভিতে এসে বিজ্ঞানী পরিচয় দিচ্ছে। খুবই লজ্জাজনক!!! যদিও রূপক অর্থে বললাম। টিভি খুললে ভুয়া ডাক্তার, ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার, ভুয়া পিএইচডি, ভুয়া পুলিশ, ভুয়া নার্স, ভুয়া বিজ্ঞানী ব্লা ব্লা ব্লা। সাধারণ মানুষ সত্যি বিভ্রান্ত হয়ে যায়।অনেক সময় শিক্ষিত মানুষ ও বিভ্রান্ত হয়। কার এতো সময় আসল নকল খুঁজে বের করা। যা মিডিয়া দেয় তা গিলে খায়।

তারপরও ২০২০ সালের জনগন সবাই সব কিছু বুঝে। যোগাযোগের এই পৃথিবীতে ভাল ও মন্দ সবই প্রকাশ হয়ে যায় সহজে। জানতে চাইলে ঘরে বসেও জানা যায়।
প্রতিটি মহৎ কাজেরই প্রশংসা পাওয়া উচিত। সাহা পরিবারের সবাই অনুজীব বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানের জগতে তাদের পুরো পরিবারের অবদান আছে। আমি এই বাবা মেয়ের সম্পর্কে প্রচুর অনলাইন ও ব্লগে আর্টিকেল পড়েছি। প্রায় ৩৫ টা দেশি বিদেশি ইন্টারভিউ শুনেছি ও দেখেছি । অনেক পরিশীলিত ও সত্যিকারের বিজ্ঞানের মানুষ উনারা।হিংসুট বাংলাদেশিদের এক অংশের অনেকেই বলবে তাঁদের থেকে অনেকেরই ভাল কাজ আছে। হ্যাঁ আছে। কিন্তু তাঁরা তাদের মতো তুলে ধরতে পারেনি।
তিনি একজন নারী, তিনি একজন বাংলাদেশি, তিনি একজন গর্বিত কন্যা। একটা সাক্ষাৎকারে ড. সমীর সাহা তাঁর মেয়েকে নিয়ে আবেগীয় ভাবে গর্ব করছিলেন সত্যি আমিও আবেগতাড়িত হয়েছি।
“নারী” শব্দটি কি আর আগের মতো আছে।
ক্ষমতা, জ্ঞান বিজ্ঞান, শিল্প সাহিত্য, এমনকি খারাপ কাজ গুলোতে ও ” নারী ” শব্দটি সমান তালে চলে আসছে। সব জায়গায় যে যার মতো অবস্থান ঘোষণা করছে। এখন জেন্ডার ইস্যু কিছুই না। তারপরও অফিশিয়াল ফরম গুলোর পরিচয় পর্বের একটা জায়গা থাকে তিনি নারী নাকি পুরুষ।
আমি নারী শব্দটা প্রথমে ইচ্ছে করেই যোগ করেছি। কারন নারীরা জ্ঞান চর্চায় ও পিছিয়ে নেই। জগতের সকল খারাপ কাজ শুধু নারীরা করে না। অনেক ভাল কাজও করে। অবহেলিত, অবলা, সুবিধাবঞ্চিত এই সব শব্দ আর নারীর সাথে যায় না।
ক্ষমতা আর যোগ্যতার দুনিয়ায় নারী কিংবা পুরুষ কোন জেন্ডার ইস্যু কাজে আসে না।
অনেক অনেক খারাপ খবরের ভেতরে এই ধরনের খবর মনে ভাল লাগা ছুঁয়ে দেয়।
আমি বিজ্ঞান বিষয়ের বাইরের মানুষ কিন্তু আমি সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধা করি।পৃথিবীর কল্যানে তাঁদের খুব বেশি জরুরি। তাদের সম্পর্কে অনেক বেশি চর্চা জরুরি।
আমি তাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। সর্বোপরি তাঁদের জীবন নিয়ে পড়াশুনা ও করি। নিজের ভাল লাগা। আর কিছুই না।
গুগুলে সার্চ দিলে তাদের নিয়ে বহু ইন্টারভিউ ও তথ্য আছে জেনে নিতে পারেন।

লেখক: সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন