মেয়ে থেকে মা

সাদিয়া মাহমুদ তামান্না

মা খুব মধুর একটা শব্দ। একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল।আচ্ছা মেয়ে হয়ে জন্ম নিলেই কি মা হওয়া যায়? নাকি মা হওয়ার জন্য কিছু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে মা হয়ে উঠে, একটা মেয়ে?!

সেই  প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে আমরা কম বেশি সবাই লজ্জাবোধ করি! মানে সমাজের রীতি হচ্ছে এই বিষয় নিয়ে একটি মেয়ে মা আর বোন, স্বামী ব্যতিত আর কারো সাথে কথা বলতে পারবে না! মানে বিষয়টা লজ্জার! অথচ এই বিষয়টি একটি মেয়েকে মা হওয়ার পথকে সুগম করে! মানে একটি মেয়ের পিরিয়ড না হলে সে মা হতে পারবে না? তবে কেন এটা লজ্জার ব্যাপার হবে? এটা একটি মেয়ের গর্বের বিষয় সে মা হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে!

আচ্ছা মা বাবা হওয়ার প্রকৃিয়াটা কি এর চেয়ে বেশি লজ্জার নয়! অথচ আমাদের মা বাবা ভাই বোন সবাই বলে,, কি হে কবে মামা, কাকা হচ্ছি, কবে নানা নানি দাদা,দাদি হবো? আর কি অবলীলায় না মা বাবা রা বলে ফেলেন তিন বা চার বছর হয়ে গেলো নাতি নাতনীর মুখ দেখলাম! সব ঠিকঠাক আছে তো নাকি সমস্যা,, ডাক্তারের কাছে যাও! এগুলো শুনতে আমাদের লজ্জা হয় না বরং স্বাভাবিক মনে হয়! অথচ একটি মেয়ে যে মা হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করলো এটা লুকিয়ে রাখতে হবে, কাউকে বলা যাবে না, কি লজ্জা! কি লজ্জা!

আমার ওয়াস রুমে টিস্যু ব্যবহার করি? হুম সবাই করি এবং কি কারনে, কেন ব্যবহার করি সবাই জানি! এবং একটি টিস্যু কিনে আনাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার! এটা বাড়ির পুরুষই বেশির ভাগ কিনে থাকেন! অথচ একটি মেয়ের জন্য প্যাড তার ভাই বা বাবা কিনে দিতে পারবে না এটা লজ্জার ব্যাপার! আচ্ছা এটা কি কখনো ভেবেছেন আপানর কাছে আপনার বোন, বা বউ, বা মেয়ে একটি প্যাড চাওয়াকে লজ্জাজনক ভাবছেন! অন্যদিকে আপনার সেই মেয়ে, বউ, বোন ই বাহিরের একজন পুরুষের কাছে সেই জিনিসটাই চাচ্ছে! একজন বাহিরের পুরুষের কাছে চাইতে পারবে আর আপনার কাছে চাওয়া যাবে না! বিষয়টা হাস্যকর নয় কি? মানে আপনি তাকে বাহিরে ঠেলে দিচ্ছেন সে জিনিস ক্রয় করার জন্য! এটা কি আপনার জন্য লজ্জাজনক নয়!

আমি এক মেয়েকে চিনি যার মা মারা যান, এবং বাড়িতে বাবা আর ভাই ছাড়া কেউ নেই! সে মেয়ের পিরিয়ড হলো! তার ভাইয়েরা তাকে সকল ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করেন! এক্ষেত্রে মেয়েটি তার বাবা আর ভাই ব্যাতিত কার কাছে সহযোগিতা পেতো! তার বাবা বা ভাই যদি এই বিষয়ে অন্য সবার মতো লজ্জা পেতো তবে কি সে মেয়ে সঠিক নির্দেশনা পেতো!

আপনারা বলতেই পারেন প্যাড কেন ব্যবহার করবে? আগের দিনের মা চাচি রা কি এই প্যাড ব্যবহার করতো? তাদের দিন চলে নি? এখন যতসব ফ্যাশন! এটা আপনি বলতেই পারেন!

পাশাপাশি এটাও মনে হয় আপনারা সকলেই জানেন, কাপর বা অন্য কিছু ব্যবহার করাটা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত!? শুধু মানেন না! শুধু মাত্র এই সামান্য বিষয়ে লজ্জার জন্য কত মেয়ে পিরিয়ড জটিলতায় ভুগছে! তারা লজ্জা পায় তাদের সমস্যার কথা বলতে! যার ফলাফল দিন শেষে করুন পরিস্থিতি!

আমি বলি না বিষয়টি নিয়ে ঢালাও ভাবে আলোচনা সমালোচনার জন্য! আমি বলি সচেতন হতে! পরিবারের একটি মেয়ে কে যেন বাহিরের অপরিচিত একটি পুরুষের কাছ থেকে লজ্জায় সংকীর্ন হয়ে তীর্থের কাকের মতো একটি প্যাড কেনার জন্য অপেক্ষা করতে না হয়! বা আশে পাশে কে কি বলবে, দেখছে কে, কি ভাবছে বা কারো তিরস্কারে হাসি নিয়ে যেন যুদ্ধ জয় না করতে হয়! আমরা চাই ঘরে থাকতে বাহিরে যেন যেতে না হয়! যদি আমার লজ্জার বিষয় আমি বাহিরে মানুষের কাছে বলতে পারি তবে আমি কেন বাহিরে স্বাধীন ভাবে চলতে পারবো না এমন কথা যেন আপনাদের শুনতে না হয়! আমার অনুরোধ বিষয়টি মন ও মস্তিষ্ক দিয়ে ভেবে অনুভব করবেন!

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন