নারী কি টবে ভুল ফুল!

সুমী শারমীন

একটা মেয়ে চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে সংসার জীবনের দরজায় দাঁড়িয়ে কান্না, হাসি,সুখ,অভিমান,কষ্ট সব ভূলে শুধু স্বামীর হাত ধরে নতুন জীবন এ প্রবেশ করে,,,কাউকে চেনে না, জানে না,,,বাবার আদর,মায়ের স্নেহের পরশ, ভাই বোনদের ছোখের মনিকে তুলে দেয় স্বামীর ভরসায়। সবার ভালোবাসাকে ছাপিয়ে শুধু একটি মানুষকে কেন্দ্র করে আপন করে নিতে চায়,স্বামীর মা,বাবা,ভাই,বোন,, সব্বাইকে,,
বিনিময়ে প্রতি মূহুর্তে প্রবঞ্চনা, খোঁটা,অপমান নিশ্চয়ই মেয়েটির পাওনা নয়,,বছরের পর বছর চেষ্টা করে যায়,,কিন্তু স্বামী দেখেও না দেখার ভান করে,,নিজেকে বাঁচিয়ে চলে,,বুঝতে কি পারে!!যে তিনি ধিরে ধিরে তারই ভালোবাসার মানুষটির কাছে,তার সন্তানের মায়ের কাছে,,সন্মান হারিয়ে কতোটা নীচে নেমে যায় দিনের পর দিন,,,তার বাবা, মা ভাই বোন সবাই আছে,, অন্তত দেখেও শান্তি পায়,,কিন্তু মেয়েটি তার পরিবার প্রিয়জনদের ছেড়ে শুধু একটা মানুষকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনে যায় দুঃস্বপ্নের ঘোরে,,কিন্তু অসহায় কন্যার দিন ফেরেনা,,,

আমাদের সমাজের একটি বহুল আলোচিত সম্পর্ক হলো বউ- শ্বাশুড়ি সম্পর্ক। কখনো কখনো এ সম্পর্কটা বউ -শ্বাশুড়ির মতো থাকে না,হয়ে যায় মা- মেয়ের সম্পর্কের মতো। আবার কখনো কখনো সম্পর্কটা একটু টক ঝাল মিষ্টির মতো। আমার মতে যে কোন সম্পর্কেই দুই পক্ষের সমান আন্তরিকতা থাকতে হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েটিকে হতে হয় অপদস্ত,,, তা একবছরের সংসার হোক কিংবা দুই যুগের,,,ছেলের উপর ভালোবাসার আঁড়ালে অধিকারের অপব্যাবহারই বেশি হয়,,আর নির্বাক,নির্লিপ্ত স্বামী তা বুঝেও উপভোগ করে,,যা এই যুগেও অসন্মান বয়ে আনে। এক পক্ষ দিয়ে যাবে আর অন্য পক্ষ তার সাথে বিরূপ ব্যবহার করবে, তাহলে সেখানে কি একটা ভালো বন্ডিং আশা করা যায়? আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থায় দেখা যায় অধিকাংশ শ্বাশুড়িরা সহজে ছেলের বউকে আপন করে নিতে পারে না। বরং ছেলের বউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। কোন কোন স্বাশুড়ি আছে উনারা মনে করেন পদে পদে ছেলের বউকে অপমান করে তাদেরকে ছোট করে রাখতে পারলেই বউরা উনাদের কন্ট্রোলে থাকবে। এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারনা। একটা চারা গাছও যদি এক জায়গা থেকে তুলে অন্য জায়গায় লাগানো হয় তাহলেও গাছটিকে বাঁচানোর জন্য অনেক সেবা যত্ন করতে হয়। আর একটা মেয়ে তার নিজের পরিবার ছেড়ে সম্পূর্ণ অন্য পরিবেশে চিরদিন থাকার জন্য যাচ্ছে সেখানে সবার কাছ থেকে একটু আদর, ভালোবাসা,সন্মান একটা মেয়ে আশা করতেই পারে। কিন্তু অধিকাংশ মেয়েরাই তা পায় না। এসব অনাদর, অসন্মানের জন্য মেয়েদের বুকের ভিতর প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একটা মেয়ের বর তার বাবার বাড়িতে যে আদর সন্মান পায়,বেশির ভাগ মেয়ে তার ছিটে ফোঁটা ও কি তার শ্বশুড় বাড়িতে পায়? অথচ জামাই আদর বলে বাংলাতে একটা শব্দই আছে,সেটা পরিপূর্ণ মাত্রায় আদায় করে নিতে স্বামীকে ইন্ধন জোগাতে কেউ পিছ পা হন না,, আসলে একপক্ষের চেষ্টায় সম্পর্ক বেশিদূর আগাতে পারে না।তাই আন্তরিকতাটা দুপক্ষেরই থাকতে হবে। তাহলেই একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারবে। আর এই সম্পর্কে মূল ভুমিকা স্বামীকেই রাখতে হবে দায়িত্ব নিয়ে,,,কারন দুজনেই তার আপন,,তবে ভিন্ন প্রয়োজনে,,,এই আধুনিকতার নামে যে শতাব্দীর বসবাস তার কি আদৌ কোন পরিবর্তন হয়েছে,,সব কিছু ভালো রাখার জন্য, সবাইকে ভালো থাকার জন্য আলাদা হতে চাইলেই দোষ এসে পরে মেয়েটির উপর,, আজও স্বামীর কাছে,শশুড় বাড়ির কাছে, সন্তানের কাছে,মেয়েটি প্রয়োজনই হয়ে রইলো,, প্রিয়জন আর হতে পারলো না,,,তবুও বলি,,ভালো থাকুক পৃথিবীর সব সম্পর্ক গুলো।

লেখকঃ সংগীত শিল্পী,লেখক ও গবেষক

আরও পড়ুন