অহংকারের দুরারোগ্য ব্যাধিতে মনুষ্যত্বের পচন

মোঃরুহুল আমিন

আমরা মানুষ সামাজিক ভাবে আমাদের বসবাস।আমাদের জীবন চলার চলতি পথে অনেকের সাথে পরিচয় বন্ধুত্ব হয়। হয়তো প্রয়োজনে না হয় ভালো লাগা ভালোবাসা থেকে।আবার অনেকের সাথেই বন্ধুত্ব হয় না,শুধু হায় হ্যালোর সৌজন্যবোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

অনেক বন্ধুর মাঝে, চলতে চলতে কারো সাথে আত্মার টান জন্ম নেয় নিঃস্বার্থ ভাবে। কিন্তু সেই সম্পর্ক গুলো ও একটা সময় মাঝ পথে থমকে যায়,ভেঙে যায় সেই আত্মার অস্তিত্বের বন্ধন। দুইজন দুই মেরুতে।

কি সেই কারণ?
কেন ভেঙে যায় ভালোবাসা বন্ধুত্ব শ্রদ্ধাবোধের সেই জায়গাটা?

আমি মনে করি এমন সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার একটাই কারণ আত্ম অহমিকা, নিজেকে সবার চাইতে আলাদা কিছু ভাবা। সম্মানবোধের অভাব। ভিন্নমতকে সম্মান করতে না শেখা।ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডে বাস করলেই শিক্ষিত মার্জিত হওয়া যায় না। মার্জিত হতে হলে বিনয়ী শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হয়।উন্নত দেশে বাস করলেই চরিত্রের উন্নয়ন হয় না। আপনার চরিত্র কেমন তার প্রমাণ মিলবে আমার কর্মযজ্ঞে। পৃথিবীর যে প্রান্তে বাস করেন না কেন।

কাজ কর্মের মাধ্যমে আপনি যখন বুঝাতে চাইবেন, আমি বড় সেলিব্রিটি, অাপনার ফ্রেন্ড সার্কেল অনেক বড়, কেউ একজনের সাথে সম্পর্ক থাকলেই কি, আবার না থাকলেই কি? আপনার কথা সবাইকে মানতে হবে!! এটা কেমন মানসিকতা আপনার??
যা ইচ্ছে তাই ব্যবহার করা, আপনার মুখের কলুষিত ভাষায় অাঘাত করে। কিন্তু এ রকম আচরণ করার অধিকার আপনার ছিলো না,অনধিকার চর্চা করেই যাচ্ছেন,আপনার মর্জি মাফিক। কোন অনুশোচনার বিন্দু মাত্র লেশ নেই।
আপনি আপনার শ্রদ্ধা ভালোবাসা সম্মানের দরজাটা আটকে দিয়েছেন, সম্মান আপনার প্রাপ্য নয়। তাই আপনাকে পরিত্যাগ করে চলে যায়।

কিন্তু আপনি সঠিক বন্ধু নির্বাচনে ব্যর্থ। যে আপনাকে আপনার ভুল গুলো না ধরিয়ে দিয়ে তেলবাজি করে,একটা সময় সেই আপনার বিরুদ্ধে ফেইসবুকে পোস্ট করে।
অকথ্য ভাষায় কমেন্ট করে। একটা সময় আপনি তার তৈল মর্দনে মহাখুশি ছিলেন। যে আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু ছিলো সত্য বলার কারণে সে আজ শত্রুর হিট লিস্ট।

এর জন্যে দায়ী মিথ্যে অহংকার, মিথ্যে উপর দাঁড়িয়ে সাময়িক দাম্ভিকতা করা যায়,বেশিদিন টিকে থাকা যায় না।
কারন আপনার পায়ের নীচে চোরাবালি,যেকোন সময় তলিয়ে যাবেন।
মানুষের অহংকার আসে দুটো কারণে রূপ আর সম্পদের কারণে। কিন্তু দুটোই ক্ষণস্হায়ী।
ইতিহাসের পাতায় উদাহরণ বুড়ি বুড়ি।তবু আমরা শিক্ষা নেই না।

রূপে মানুষের মন ভরে না মনে রাখবেন,শুধু চোখের কু-তৃষ্ণা মেটায়। আপনার সান্নিধ্য পাওয়ার কৌশল করে ভীড়ে থাকে কাছে। হয়তো আপনি বুঝতে পেরেছেন বিষয়টা উপভোগ করছেন। না হয় আপনি বুঝতেই পারছেন না।
কিন্তু আপনার প্রয়োজন ছিল বিশ্লেষণ করার। কেন সে কাছে ভিড়েছে,সেখানে সততা কতটুকু, চাটুকারিতা কতটুকু আপনাকেই নির্ণয় করতে হবে।

যদি আপনি রূপ যৌবনের অহংকারের দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন,তাহলে আপনি এগুলো উপভোগ করতে পারেন।
উপভোগ আর ভালোবাসা শ্রদ্ধাবোধ ভিন্ন বিষয়। যার অবস্থান দুই মেরুতে।

আপনি যখন অন্যকে সন্মান দিতে জানেন না।আপনাকেও কেউ সম্মান দিবে না। একটার পর একটা ঘাট পরিবর্তন করতেই থাকবেন, হাসির খোরাকে পরিনত হবেন।
আত্মসম্মান বলে কিছু আর বাকি থাকবে না।
সম্মান আর সৌন্দর্যের বড়াই দুটো ভিন্ন জিনিস। সম্মান অর্জন করতে হয়, একদিনে হয় না।সম্মান ব্যক্তিত্ব অর্জন করতে অনেক কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। সম্মান চিরস্থায়ী মৃত্যু পরেও স্মরণ করবে।
সৌন্দর্য চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছর পর আর থাকে না।চামড়ায় ভাজ পড়তে শুরু করে,যৌবনের উদ্দীপনায় ভাটা পড়তে থাকে,অথচ কিছু কাল আগেও সৌন্দর্য প্রকাশকে মনে করতেন অনেক কিছু,অহংকারে মাটিতে পা পড়ত না।কতো শত বন্ধু খোঁজ খবর নিতো দিবানিশি।অাজ যখন সৌন্দর্যে ভাটার টান সবাই উড়াল দিয়েছে, কেউ আর খোঁজ রাখে না।
রূপ যৌবন সৌন্দর্যের অহংকার করার কিছু নেই, এগুলো আজকাল টাকায় বিক্রি হয়, কথাগুলো অপ্রিয় সত্য।

যেগুলো বিক্রি হয় না, সম্মান ভালোবাসা বন্ধুত্ব শ্রদ্ধাবোধ। এগুলো টাকা দিয়ে অর্জন করা যায় না।সৌন্দর্য বিকিয়ে পাওয়া যায় না। অর্জন করতে হয়ে হয়,মনের সাথে লড়াই করে।
সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে নিজেকে শুধু সাময়িক সময়ের জন্যে ভোগ বিলাসের সামগ্রী করা যায়।
কিছু দিন পর হারিয়ে যায় অতল গহ্বরে। এটাই সত্য।
অহংকারীর পতন অনিবার্য। আমরা সবাই জানি তবুও অহংকার ত্যাগ করতে আমরা পারিনি।

রূপ যৌবন সৌন্দর্য সাথে যদি আপনার ব্যক্তিত্ব অর্জন করতে পারেন অহংকারের দুরারোগ্য রোগের উপসর্গ ত্যাগ করে সত্য ন্যায়ের পথে তবেই আপনি সফল।
মাটির তৈরির মানুষের অহংকার করতে নেই। সাদা কালো সবই উপর ওয়ালার সৃষ্টি। ধনসম্পদ তারই দান।
এগুলোর কারণে সকল সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে অহংকারে দুরারোগ্য ব্যাধিতে মনুষ্যত্বের পচন ধরে।

২৩/০৯/২০২০ইং

লেখকঃ কলামিস্ট ও প্রবাসী বাংলাদেশী, সৌদি আরব 

 

আরও পড়ুন