কমলা বউ

 

গ্রামের নাম সবুজ বাড়ি। সবুজে মোড়ানো চারিদিক, দুর থেকে মনে হয় অপার সৌন্দর্যের হাতছানি। প্রায় দুই হাজার লোকের বাস এ গ্রামে। গ্রামের বুকচিরে বয়ে গেছে কাঁচা মেঠো পথ। পুকুর দীঘির জলের শান্ত ঢেউ,ছোট বড় সারি সারি বৃক্ষ, লোকালয়, একটি হাট, একটি মাদ্রাসা ও একটি প্রাইমেরী স্কুল। সময় মত ৩ টি মসজিদ মুসল্লিদের আনাগোনা। এ গ্রাম ঘিরেই রয়েছে ধান,আলু,ভুট্রা,পাট,গম, বাদাম সহ নানা ক্ষেত। ক্ষেতগুলো কখনো কচি ডগা, কখনো সবুজ আবার কখনো সোনালী বর্ন হয়ে ওঠে সময়ের আবর্তনে।
সবুজ বাড়ির পূব দিক প্রসারিত ফসলের মাঠ।পশ্চিম দিকে অন্য লোকালয়। উত্তরে হাওড়- বিল।
দক্ষিণ দিকে তুলসী গঙ্গা নদী।
তুলসী গঙ্গা নদীতে এসো দৃষ্টি থেমে যায় বারবার।
১৯৮০ সালের পূর্বে এ নদীতে সারা বছর পানিতে টইটুম্বুর থাকলেও এখন বছরে ৮ মাসের বেশি পানি থাকেনা।
মাছ ধরা আর কৃষি ক্ষেত এ গ্রামের প্রধান আয়ের উৎস।

এ সবুজ বাড়ি গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয় আলিফের।
আলিফ সহজ সরল,বিনয়ী, মার্জিত স্বভাবের ছেলে।বাবা আবুল মিয়াকে বারবার তার স্বপ্নের কথা জানাত আলিফ।
দেখতে দেখতে স্কুল জীবন শেষ করে কলেজ জীবনে পদার্পন করল আলিফ।
পড়াশোনা তার সফল জীবনের সিঁড়ি মনে করত। বাবা আবুল মিয়াকে ১০ কাঠা জমিতে কাজের সাহায্য করত আলিফ।
ছোটবেলা থেকেই বহু মুখী কাজের দারুন পারর্দশীতা মুগ্ধ করত গ্রামের মানুষের।
আলিফ সবার যেন আজ্ঞার পাত্র।
কার আলু লাগাতে হবে,
কার খড় টিলা দিতে হবে, কার পেয়াজ লাগাতে হবে, কার পাট ধুতে হবে সবখানেই আলিফের প্রানবন্ত উপস্থিতি। এ কারনে তাকে গ্রামের কৃষকেরা কিছু মজুরিও দিত।
কিন্তু তার পড়াশোনা থেমে যাইনি কখনো।
দিনে যে কাজ ব্যাস্তাই থাকুক ক্লাস আর রাতের পড়ায় আলিফ খুব সক্রিয়।
হঠাৎ তার মায়ের মৃত্যু হলো, সবাই বলে ক্যান্সার হয়েছি জরিনার। আলিফ সবেমাত্র একাদশ শ্রেনির ছাত্র। মায়ের এ অকাল মৃত্যু ভাবনার ভুবনে ফেলে দেয় আলিফকে।

পড়ন্ত বিকেল মাঠ থেকে কৃষক গরু নিয়ে ঘরে ফিরছে, রবি লাল বর্ন ধারন করেছে, সবুজ বাড়ি কিছু সময় পড় অন্ধকারে ঢেকে যাবে।
আলিফ ফুটবল ম্যাচ শেষে করে বাড়ি ফিরছে। সাধারন জীবন যাপন তার, একটি প্যান্ট, ২ টি শার্ট, ১ টি গেঞ্জি আর ২ টি লুঙ্গি পোশাক বলতে এগুলোই সম্বল। ছোটবেলা এ গ্রামের ট্যালেন্ট শিক্ষক আবুল কালামের হাতেই শিক্ষার হাতেখড়ি।
আবুল কালাম বিএসসি স্যার খুব সুন্দর গনিত পড়াত। বিজ্ঞান পড়ার যথেষ্ট বাসনা ছিল আলিফের, আর্থিক সংকটের কারনে তা হয়ে উঠে নি।

অবশেষে কালাম স্যারের সহযোগিতায় এইচএসসি শেষ করে ইংরেজিতে রাজশাহী কলেজে অনার্সে ভর্তি হল আলিফ।
তার বার বার মনে পড়ত মায়ের কথা, বাবাকে দেয়া পরিকল্পার কথা আর কালাম স্যারের ক্যরিয়ার বিষয়ক নির্দেশনা।
স্বর্নকমল ছাত্রাবাসে নিরিবিলি পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে দিনযাপন করত।
আলিফের স্বপ্ন বিসিএস করে ফাস্ট ক্লাস সার্ভিস করবে।
খালার বাসায় যাওয়া পড়েনা,খালাত বোন লিমা আর নবীন জীবনে ঝড় তোলে। লিমা এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। লিমার বাবা পড়াবেনা তাকে, মেয়ে মানুষ পড়াশোনার কি দরকার, দু এক বছর পড় বিয়ে দিয়ে দেব চুকে যাবে ঝামেলা।
লিমার বাবা শিক্ষার গুরুত্ব তো বুঝেনা বরং নারী শিক্ষার ঘোর বিরোধী।
কালাম স্যার এসেছে শহরে, আর আসতে রাস্তায় লিমার বাবার সাথে কিছু কথা হয়েছে।
আলিফ কালাম স্যারের হাতে ফিজিক্স, ক্যামিস্টি, হাইয়ের ম্যাথ আর কৃষি ব্যবহারিক খাতা তুলে দিল।
স্যার আমার ২ টি টিউশনি থেকে এখন প্রতিমাসে ৩০০০/- টাকা পাই, বাবা তো কিছু দিতে পারেনা।আর গত মাসে আপনার দেয়া এক হাজার থেকে এ খাতাগুলো কিনেছি। মিলিকে কষ্ট করে দেবেন, খালা খালু তাকে সার্পোট দেয় না বললে মিথ্যে হবে না।
কালাম স্যার মুচকি হেসে বলল আরে ঠিক আছে, তোমার মানুষকে তুমি দেবে এতে আমার আর কি!
মনে মনে খুব খুশি হল আলিফ।

অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষা শেষ করে আলিফ বাসায় এসেছে। বসন্তের শেষ লগ্নে, এসএসসি পরীক্ষা কেমন হলো লিমার জানার কৌতুহল খুব। খালার বাড়ি যাচ্ছে অনেক দিন পর, মা বেঁচে থাকলে কারনে অকারণে বহু বার যাওয়া হতো। খালার দিকে তাকালে পকেট থেকে টিস্যু পেপার বের হয় আলিফের।
পারিবারিক খোঁজ নিল খালার,খালা বলল,
– কেমন আছ বেটা?
জ্বি, খালা ভাল। পরীক্ষা শেষ তাই বাড়ি এসেছি।
– ভাল করেছু, আবার যাওয়া কোতদিন বেটা?
খালা আছি এক সপ্তাহ। লিমার পরীক্ষা কেমন দিয়ে কি অবস্থা জানতে এলাম আরকি।
– বেশ করেছু বেটা। আজ যাবিনে কিন্তু, কতোদিন পর আইচু।কাল যাস-
না খালা, রঙধনু পত্রিকার কাজ আছে।

আলিফ রাজশাহী সংস্কৃতি কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত দ্বিমাসিক রঙধনু পত্রিকার সহ সম্পাদক।
যাই হোক, খালার বাড়ি দুপুরে খেয়ে আলিফ লিমা একটু বের হলো।
গ্রামের শেষ প্রান্তে বড় একটা দিঘী। দিঘীর চারপাশে বেশ কয়েকটি দেবদারু গাছ, চৈত্র মাসের শেষে ছোট ছোট গাছের ছায়া উপচে পরছে দুজনের গায়ে।
হালকা দক্ষিনা বাতাস অপূর্ব মানষিক প্রশান্তি দিচ্ছে তাদের।
দু জোড়া কমলা বউ মুখোমুখি পায়চারি করছে, ভারি সুন্দর পাখিগুলো। পাখা লেজ ধূসর বর্নের হলেও গলা থেকে শরীরের মাঝ পর্যন্ত খোলা কমলার মত। এ পাখিকে কমলা বউ বা কমলা দানা বলা হয়।
কখনো পাশ থেকে দু একটি পোকা ধরে মুখে মুখ দিয়ে তারা গভীর ভাব করছে।
লিমার বাঁকা নয়নে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আলিফ।
হেলে পড়া একটি সোনালু গাছের উপড় খুব কাছাকাছি বসেছে দুজন।
লিমার অপ্রকাশ্য কথা তার গাল আর চোখ যেন অনবরত কথা বলছে। হৈমন্তী গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপুর ভাষায় হৈমন্তীর রূপের যে বর্ননা দিয়েছিল, সেই সুরেই আলিফ লিমাকে বলছিল – তোমার রূপ ” শৈল চূড়া বরফের মত, সবেমাত্র সূর্যের কিরন পড়েছে এখনো তা খসিয়া পড়ে নাই।”
তুমি পাহাড়ী ঝর্নার স্বচ্ছ জল।
লিমা, তোমার অসীম দৃষ্টি আমার ভুবনে দারুন ঝড় তোলে।
লিমা বলল, তুমি আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছ।
আমার ভাল লাগার সকল আস্তরণ তুমি।
বলতে বলতে দুজন চুপ হয়ে গেল।
হঠাৎ একটা কমলা বউ এসে আলিফের কাঁধে এসে পড়ল।

বাতাসে সোনালী রঙের ধান দোল খাচ্ছে। দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ। তুলসী গঙ্গা অন্য রূপে আত্ন প্রকাশ করেছে।সবুজ বাড়ি আত্রাই নদী ও ফকিরনী নদীর মাঝখানে,এ দু নদীর শাখা তুলসী গঙ্গা। এর মধ্যে কালিদহ সাগর প্রসিদ্ধ একটি হ্রদ। নদীর তরতাজা চিংড়ি মাছ কালিদহ বাজার থেকে নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরল আবুল মিয়া। ছেলের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য করে স্ত্রী জরিনার মৃত্যুর ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। আবুল মিয়া নিজেই রান্না করে।
আজ চিংড়ি মাছ কচু দিয়ে রান্না করেছে সে।
কালই আলিফ রাজশাহী চলে যাবে।
জীবনের বেদনা বিধুর কিছু কথা বাবা ছেলের মধ্য হয়ে গেল।
কিছু দিন পরই লিমার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট হলো – কালাম স্যার চিঠি লিখে লিমার জিপিএ পাঁচ এর খবর জানাল।
পত্রিকা সম্পাদনা আর লিমার প্রেমে বিভোর থাকত আলিফ। এর মধ্যে আলিফ ভাল লিখতেও শিখে যায়।
পরিবেশ আর ক্ষুদ্র নি-গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে ৪-৫ টি লেখা জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
আলিফের বার বার মনে পড়ে তার বাবার কষ্ট, মায়ের মৃত্যু স্মৃতি, কালাম স্যারের গোছানো সুন্দর পরামর্শ আর লিমার ভারি সাদামাটা একটা মুখ।

বেশ কিছু দিন পর এবার আলিফ লিমাকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লিখছে।
প্রিয় লিমা!

শুভেচ্ছা নিও।
আষাঢ়ের অনবরত বৃষ্টি তোমাকে মনে করিয়ে দিল। ভালবাসার নীল দর্পনে বারবার দেখা তোমার কমল চেহারা আমাকে মুগ্ধ করে। হৃদয়ের মাঝে তোমার কিছু স্মৃতি আজ লোক চুরি খেলছে।
আমার কষ্টের জীবনের প্রতিটি স্তরে তোমার অস্তিত্ব। কলেজ জীবন কেমন লাগছে? তোমার বাবা মানে খালু গোড়ালি প্রকৃতির মানুষ। যা করবে ভেবে চিন্তে করবে।মন দিয়ে পড়াশোনা করবে, খালার বাসায় কাজে সাহায্য করবে, কম কথা বলবে, একান্ত প্রয়োজন বা সমস্যা হলে যেভাবেই হোক আমাকে জানাবে।
শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা রইলো।
ইতি
আলিফ

চিঠি রাজশাহী জিপিও বক্সে ফেলে অনার্স শেষ বর্ষ কলেজের ক্লাসে গেল আলিফ।

তুলসী গঙ্গা নদী পানিতে টইটুম্বুর। বাঁকে বাঁকে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ার মত।
খেয়া চলাচল করছে অবিরাম গতিতে।
বড় বড় নৌকায় পন্য ভরা ব্যবস্যা বানিজ্য করার জন্য বনিকরা বেছে নেয় এধরনের নৌকা।বাংলাদেশে নদী অঞ্চলে বহু প্রকার নৌকা দেখা যায়।
ফেন্সি নৌকা,গৌরশা নৌকা,ডিঙি নৌকা, ময়ূর পঙ্খী নৌকা, ছৈ তোলা নৌকা ইত্যাদি।
সোমবার আর শুক্রবার ভবানী গঞ্জ বড় হাট।
আলিফের মামা, খালু আর কালাম স্যার ছৈ তোলা নৌকায় ভবানী গঞ্জ হাটে এসেছে। সোমবার বড়সড় বাজার দরকার তাদের সন্ধ্যায় এ বাজারগুলো দরকার পরবে।

আলিফ অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিতে বের হয়ে।সকালে মিলে খেয়েছে ঢেরস আলু ভাজি ভাত।
আজকের পরীক্ষা শেষ হলে বুধবার একটা পরীক্ষা অবশিষ্ট থাকবে।
আলিফ রিক্সায় যেতে যেতে পরিকল্পনার জাল বুনছে।বৃহস্পতিবার বাড়ি গিয়েই লিমার সাথে বসে কমলা বউ দেখবে সে।
এবার নিজের কিছু অপ্রকাশিত কথা বলবে খালা খালুজানকে।
যাইহোক, পরিপাটি পরীক্ষা শেষ করল আলিফ।
তিনটা বাজে কালাম স্যারকে ফোন করলো আলিফ।
স্যার কেমন আছেন!
কালাম স্যার জানত আলিফের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে।
– হ্যা ভালোই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
তুমি কি করছ? কেমন আছ?
স্যার আমি আপনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ, কারন আপনার সহযোগিতা আর অনুপ্রেরনায় আমি আজ অনার্স শেষ করছি।আজকের পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে।
– কবে বাড়ি আসবে তুমি?
স্যার একটা পরীক্ষা অবশিষ্ট আছে, বুধ বার শেষ হবে। বৃহস্পতিবার আসব ইনশাআল্লাহ। ৩ মাস বাড়ি যাওয়া পড়েনি আলিফের।
স্যার কোথায় আছেন / কি করছেন?
– ভবানী গঞ্জ হাটে,, আর……!
আর কি স্যার?
লিমার বিয়ের বাজার করছি!
মাথায় যেন স্বর্নকমল ছাত্রাবাসের ছাদ ভেঙে পড়ছে আলিফের।
এ কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল না সে।
ফোন কেটে দিয়ে ভাবনার আর স্মৃতির ভুবনে হারিয়ে গেল আলিফ।
সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো লিমা আর তথাকথিত জামাই রেজু।
আর ঘুনপোকা যেভাবে কাট দুর্বল করে সেভাবেই বিরহ যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে আলিফ।

মধ্য রাত পার হলো! কোথাও কোন সাড়াশব্দ নেই,কিছু ঝি ঝি পোকা একটানা ডেকে চলেছে। দু একটি নেশাচর পাখির আনাগোনা লক্ষ্মী পেঁচা রক্তচক্ষু দৃষ্টিতে শিমুল গাছের এ ডাল ও ডাল পায়চারি করছে। লিমা একা ঘরে নেশাগ্রস্ত স্বামী রেজুর অপেক্ষায় কান খাড়া কখন আসবে ঘরে।
রেজুর কাজ তাস খেলা,জুয়া বাজী, নেশা করা আর কারনে অকারণে অল্পভাষী লিমাকে নির্যাতন করা।
স্বামীর শত অপরাধ সহ্য করে চলেছে লিমা। বাবার প্রচন্ড জিদের ফল আজ কড়াই গুন্ডায় পেয়ে যাচ্ছে ধৈর্যশীল লিমা।কিছু সময় এক বেলায় খাবার জোটেনা লিমার । একদিকে বাল্য বিবাহ অন্য দিকে মেয়েটির ইচ্ছার বাইরে বিয়ে দিয়ে বাবার চিন্তার সময় এসে গেছে। কখনো ২/৪ জন মেহমান লিমাকে দেখতে যাবে সে মুখটাও রাখেনি লিমার বাবা।
কোন কোন রাত কেঁদেই কাটাতে হয় লিমাকে।
জীবনের এ দুর্বিসহ কথা মন খুলে কাউকে বলতে পারেনি সে।

বিয়ের দু বছর পার হতে চলল, একবারও মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি আলিফ – লিমার। মাস্টার্স শেষ করেই বিসিএস পরীক্ষা দিল আলিফ।

অপর দিকে লিমার উপর রেজুর চলছে অমানবিক নির্যাতন।
কখনো বেতের আঘাত, কখনো সিগারেটের আগুন ক্ষত বিক্ষত করে ফেলেছে লিমাকে এভাবেই চলল বেশ কিছু দিন।

আলিফ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চাকুরী পেল এক সরকারি কলেজে।
সফল হলো আলিফ। কলেজে যোগদানের প্রথম দিন কালম স্যার ফোন করল আলিফ কে,
– আজ তোমার জীবনের স্বপ্ন পুরনের দিন। ধন্যবাদ তোমাকে, তবে…..!
তবে কি স্যার কিছু বলবেন কি? আলিফ বলল।
– কালাম স্যার আবেগ আপ্লুত হয়ে বলল, তোমার জীবনের প্রথম স্বপ্ন লিমা সবার কাছ থেকে চির দিনের জন্য গত রাতে হারিয়ে গেছে।।

 

আব্দুল মতিন – কবি,সাহিত্যিক ও সহ সম্পাদক মহীয়সী  

আরও পড়ুন