Ads

যেভাবে পাপমোচন হয়

।। আরিফুল ইসলাম ।।

মদীনার বাজারে এক সাহাবী খেজুর বিক্রি করছেন। অসম্ভব রূপবতী এক মহিলা তাঁর কাছে খেজুর কিনতে আসলেন। মহিলা বললেন, “আমাকে ভালো কিছু খেজুর দিন?”

– এখানে যা আছে, সেগুলো ভালো খেজুর। তবে এরচেয়ে ভালো খেজুর আমার ঘরে আছে।

– তাই? ঘরের খেজুরই আমাকে দিন।

– তাহলে তো আপনাকে আমার সাথে ঘরে যেতে হবে।

– আচ্ছা, চলুন।

রূপবতী মহিলা ভালো খেজুর কেনার জন্য সাহাবীর ঘরে গেলেন। কিন্তু, সাহাবীর মনে অন্য চিন্তা ছিলো। মহিলা ঘরে ঢুকলেন। He hugged her and kissed her! কাজটি করার পর সাহাবীর সংবিৎ ফিরলো। ‘এ আমি কী করলাম? একজন মহিলার সাথে আমি এ কী আচরণ করলাম?’ মুহূর্তের মধ্যে তিনি অনুতপ্ত হলেন, কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। এত্তো বড়ো পাপের মাশুল কিভাবে দিবেন?

তিনি গেলেন আল্লাহর বিধানের বেলায় সবচেয়ে কঠোর উমরের (রাদিআল্লাহু আনহু) কাছে। উমর (রা:) তাঁকে শাস্তি না দিয়ে বললেন আবু বকরের (রাদিআল্লাহু আনহু) কাছে যাও। আবু বকরও (রা:) তাঁকে শাস্তি দিলেন না, বললেন নবিজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে যাও।

আরও পড়ুন-

প্রতিদিনের কাজগুলো যেভাবে সাদাকায়ে জারিয়া হবে

 

এতো বড়ো পাপ তিনি করলেন, পাপমোচন কিভাবে করবেন? এই পাপের জন্য তিনি অনুতাপে দগ্ধ। তাঁর মনের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা তাঁর বান্দার মনের অস্থিরতা দূর করলেন। তিনি কুরআনের একটি আয়াত নাযিল করলেন।

“নিশ্চয়ই ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়।” [সূরা হূদ- ১১:১১৪]

সাহবী নবিজীকে জিজ্ঞেস করলেন, “আয়াতটি কি শুধু আমার জন্য?” নবিজী বললেন, “না, আমার সমস্ত উম্মতের জন্য।” [সহীহ বুখারী: ৪৬৮৭, মুসনাদে আহমাদ: ২/২৪৫] সাহাবীরা উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তাঁরা এই কারণে সর্বশ্রেষ্ঠ নন যে, তারা পাপ করেননি, নিষ্পাপ ছিলেন। তাঁরাও পাপ করেছেন, কিন্তু পাপকে আঁকড়ে ধরেননি, অনুতপ্ত হয়েছেন, তাওবা করে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

আমরাও পাপ করি, তাঁরাও পাপ করতেন। আমরা পাপ করে পাপকে আঁকড়ে ধরে থাকি, অনুতপ্ত হই না, প্রত্যাবর্তন করতে লজ্জা পাই। আর তাঁরা কোনো পাপ করলে সাথে সাথে টেনশনে পড়ে যেতেন, কিভাবে পাপমোচন করা যায় সেই চিন্তায় অস্থির থাকতেন। আমরা পাপের সাগরে ডুবে আছি। শয়তান আমাদেরকে বুঝাচ্ছে- ‘ডুব যখন দিয়েছো, আরো ডুব দাও, সাগর থেকে উঠলে তো ভেজা থাকবে।’ অর্থাৎ, ভালো কাজ করে কী করবে? তুমি তো অনেক পাপ করছো।

কিন্তু, আল্লাহ ঐ আয়াতে আমাদেরকে যেনো মোটিভেশন দিচ্ছেন- পাপ করছো? তাওবা করো। পূণ্য করো, পাপ তো আমি মুছেই দেবো।নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “পাপের পরপরই পূণ্য করো, এতে করে পাপমোচন হবে।” [জামে আত-তিরমিজি: ১৯৮৭] বুঝলাম, পাপ করেছি, পাপমোচনের জন্য পূণ্য করবো। কিন্তু কোন আমলটা করবো? নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটাও শিখিয়ে দিয়েছেন।

“যে ব্যক্তি আমার মতো অজু করে দুই রাকআত নামাজ পড়বে (যাতে দুনিয়াবি চিন্তা থাকবে না), তার পূর্বের সমস্ত পাপ ক্ষমা করা হবে।” [সহীহ বুখারী: ১৫৯]

জুমু’আ উপলক্ষে তো আজ শারিরীক গোসল করলাম, শরীরের ময়লামোচন করলাম। আসুন না, একটু অন্তরের ময়লামোচন করি, পাপমোচনের জন্য একটু চেষ্টা করি।

লেখকঃ লেখক ও উদ্যোক্তা 

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

ফেসবুকে লেখক  আরিফুল ইসলাম 

আরও পড়ুন