সুস্থ্য বিনোদন খুব জরুরী !!!

ডঃ আকতার বানু আলপনা

একজন ক্রোধান্ধ মানুষ বা লালসায় উন্মত্ত মানুষ যেকোন ভয়াবহ কাজ করে ফেলতে পারে। কিন্তু আনন্দিত বা হাসিতে উদ্বেলিত কোন মানুষ সহজে কোন অন্যায় বা খারাপ কাজ করতে পারেনা। কারণ বিনোদন মানুষকে হিংসা, ক্রোধ, আক্রমণাত্মক ভাবনা ও কাজ, অমানবিক আচরণ ইত্যাদি থেকে দূরে রাখে। মানুষের মনকে সতেজ রাখে, আনন্দে রাখে। এজন্যই মানুষের জীবনে সুস্থ্য বিনোদন ভীষণ জরুরী। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সুস্থ বিনোদনের কোন বিকল্প নেই।

আমাদের চারপাশে রোজ যত ঘটনা ঘটে, তার বেশীরভাগই নেতিবাচক। ফলে আপনি চান বা না চান, রোজ কিছু ঘটনা আপনাকে বিমর্ষ করবেই। আমাদের মনের এই বিমর্ষ ভাব কাটানো বা আনন্দ উপভোগের অনেক মাধ্যমের মধ্যে একটি হলো আনন্দদায়ক কিছু পড়া।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এখন রোজ অনেকেই অনেককিছু লেখেন। সমস্যা, সমাধান, সমালোচনা, গল্প, কবিতা ইত্যাদি। কিন্তু এত এত লেখার ভীড়ে রম্য লেখার বড়ই আকাল। আমরা সবাই সিরিয়াস বিষয় নিয়ে লিখতে পছন্দ করি। কিন্তু নিজেকে বা অন্যকে একটু নির্মল আনন্দ দেবার জন্য খুব বেশীকিছু লিখিনা। অবশ্য রম্য লেখা সহজও না। সবাই লিখতে পারেনও না। তবে আমি মনে করি, যাঁরা পারেন তাঁদের উচিত, সিরিয়াস লেখার পাশাপাশি মাঝে মাঝে কিছু হালকা লেখাও লেখা। এজন্যই আমি মাঝে মাঝে ফানি কিছু পোস্ট দেই। আজকের পোস্টটাও তাই। কিছু মজার ঘটনা পড়ুন।

১। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ফার্নিচার বানাবেন বলে এক ফার্নিচারের দোকানে গেলেন। গিয়ে দেখলেন, আরেক শিক্ষকের জন্য দোকানদার খুব সুন্দর একটা বুকশেলফ বানিয়ে রেখেছে। শিক্ষক অল্পশিক্ষিত সেই দোকানদারকে প্রশ্ন করলেন, “বুকশেলফটা কোন্ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক বানাতে দিয়েছেন?” দোকানদার বলল, “ফাঁক-ফোকর ডিপার্টমেন্টের।” মানে ফোকলোর ডিপার্টমেন্টের।

২। এক লোক কিছু টাকা রাখতে ব্যাংকে গেছেন। ব্যাংকের অফিসার টাকা দেখে বলল, “স্যার, আপনার টাকাগুলো জাল। এগুলো ব্যাংকে রাখা যাবেনা।” অফিসারের কথা শুনে বিরক্ত হয়ে লোকটা বললেন, “জাল হোক মাল হোক। আমার টাকা আমি আমার একাউন্টে রাখব। তাতে তোমার সমস্যা কী?”

৩। মেয়ে ফোন করে মাকে বলল, “মা, তরকারিতে লবণ বেশী দিয়েছি বলে তোমার জামাই আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। তাই আমি আর এখানে থাকবনা। আমি আজই তোমার কাছে চলে আসছি।” শুনে মা বললেন, “একদম আসবি না। যে দোষ করেছে, শাস্তি তার পাওয়া উচিত। তাই আমিই তোর বাসায় আসছি ছ’মাসের জন্য!”

৪। হ্যাপী হ্যালোউইন উৎসব শেষে এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বলল, “জানিস্ দোস্ত, আজ টমকে (কুচকুচে কালো ইয়া মোটা-লম্বা এক নিগ্রো ছেলে) দেখে আমি রীতিমত ভয় পেয়ে গেছিলাম। ও এমন ভয়ঙ্কর ভূতের মেকাপ করেছিল যে…”। অপর বন্ধু বলল, “ওর মেকাপ করে ভূত সাজার দরকার কী? অন্ধকারে আচমকা সামনে এলেই তো যথেষ্ট !!!”

হাসুন। হাসলে হার্ট ভালো থাকে। তাই হার্টকে ভালো রাখার জন্য হলেও একটু হাসুন। আপনি নিজে হাসলে দেখবেন, আপনার হার্টের বাসিন্দারাও হাসছে !!!

লেখকঃ অধ্যাপক, আইইআর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.