যেভাবে বেঁচে থাকি

জসিম মল্লিক


পৃথিবীতে কেউ নিরবচ্ছিন্ন সুখী না। কেউ নিরবচ্ছিন্ন দুঃখীও না। কারো হয়ত সবই আছে, সুখের সব উপকরন ছাড়ানো আছে চারিদিকে- গাড়ি, বাড়ি, সম্পদ, ব্যাকব্যালেন্স সব। কিন্তু এমন একটা কিছু নাই যা তাকে অসুখী করেছে, যেখানে তার কোনো হাত নাই। অনেক মানুষ খুব নিঃসঙ্গ, একাকী, দুঃখী। আপনজন হারানোর বেদনায় জৰ্জরিত অনেক মানুষ। তাৱ সেই শূন্যতা কেউ পূরন করতে পারবে না, কোনো কিছু দিয়েই ভরে উঠবে তার একাকীত্ব। আপনজন হারানোর বেদনা অনেক তীব্র। সন্তান হারানো, স্বামী বা স্ত্রী হারিয়ে একাকী হয়ে যাওয়া অনেক কষ্টের। কেউ কারো একাকীত্ব ঘোচাতে পারে না। পারে না মনের কষ্ট দূর করে দিতে, শরীরের কষ্ট দূর করে দিতে পারে না কেউ। মানুষের এমন কিছু শারীরিক কষ্ট আছে যা তাকে একা একা বহন করে বেড়াতে হয়। একমাত্র মৃত্যুই মানুষকে সব কিছু থেকে মুক্তি দেয়। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, চাওয়া-পাওয়া সবকিছু থেকে। তাই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত সবার।


আমি অল্পে সন্তুষ্ট একজন মানুষ। যা পাই তাই নিয়েই খুশী থাকতে চেষ্টা করি। ভাবি এর চেয়ে বেশি পাওয়ার কথা ছিল না। এটাও ভাবি, জীবনে যে পেয়েছি তাওতো কম না, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। কেউ এককাপ চা খাওয়ালেও আমি আনন্দিত হই। কেউ এক গুচ্ছ ফুল দিলেও আনন্দিত হই। কেউ সুন্দর করে কথা বললেও আনন্দিত হই। ভালবাসলে আনন্দিত হই। ছোট ছোট পাওয়াতেই আমার আনন্দ। চাওয়া পাওয়া নিয়ে আমার কোনো আদিখ্যেতা নাই। এই আমি যেমন দীৰ্ঘদিন ধরে ব্যাকপেইন নিয়ে বেঁচে আছি। এটাকে নিয়তি হিসাবে মেনে নিয়েছি। আমার মতো অনেকেই কত ধরণের কষ্ট সয়ে বেঁচে আছে। আমরা সবার কষ্টের কথা জানিনা। সবার কষ্টই আলাদা, সবার কষ্টই স্পেশাল। কোনোটাই কারোটার চেয়ে কম না। এবার যখন হজ্জে গেলাম তখন কোনো কষ্টই অনুভব করিনি। সেটাও এক বিস্ময়!


প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মনে করি সবকিছু আমাদের হাতে নাই। আমরা অনেক অসহায়। এই যেমন এখন আমি টেবিলে বসে দীৰ্ঘক্ষন লিখতে পারি না। ব্যাকপেইনটা আমাকে খুবলে খায়। তিরিশ বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে চলছে। জীবনের অৰ্ধেকের বেশি সময়। কিন্তু জীবনতো থেমে নেই। স্বপ্ন দেখি একদিন ভাল হয়ে যাব। আবার এটাও ভাবি নিজের কষ্টের কথা এতো ফলাও করে প্রচার করারই বা কি আছে। কষ্ট কার নাই! সবারই আছে। বন্ধুদের দোয়া আর ভালবাসাই আমাকে বেঁচে থাকতে প্রেরনা দেয়, সাহস যোগায়।


একটা উপন্যাস লিখছি। আগামী একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হবে। কিশোর উপন্যাস। কিন্তু কিছুতেই শেষ করতে পারছিনা। শেষ পৰ্যায়ে এসে কিছুতেই সম্পৰ্কের জট খুলছে না। উপন্যাস লেখা যে কত কষ্টের, কত যে রক্তক্ষরণ সেটা টের পাচ্ছি! ব্যাকপেইনের মতোই যন্ত্রণার..!!

টরন্টো ২২ নভেম্বর ২০১৯

লেখকঃ সাহিত্যিক এবং কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.