ইহুদী ও বাঙালি মুসলিম যুব সমাজের তুলনামূলক জীবনাচরণ

রিতু কুণ্ডু

# ইহুদি যুবকরা সিগারেট খায় না।অথচ পৃথিবীর সব বড় বড় সিগারেট কোম্পানীতে তাদের বিপুল শেয়ার রয়েছে ।

# উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত তারা বিজ্ঞানের উপর গুরুত্বারোপ করে সবচেয়ে বেশি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে এসে ব্যবসায় শিক্ষায় গুরুত্ব দেয় বেশি।

# ওদের প্রধান আগ্রহ ধনুর্বিদ্যা, শ্যুটিং আর দৌড় নামক খেলায়।

# ইহুদিদের মাঝে কোন যুবক ব্যবসা শুরু করতে চাইলে তাকে ব্যাংক বিনা সুদে মুলধন দেয় এবং প্রতিষ্ঠিত ইহুদি ব্যবসায়ীরা তাদের নিজেদের ব্যবসা কমিয়ে নতুন উদ্যোক্তার ব্যবসাকে এস্টাব্লিশড করতে চায়।

আমাদের যুবসমাজের জন্য এই কয়েকটা পয়েন্ট বেছে নিয়েছি।বাংলাদেশে যে সমস্ত ছেলে মেয়েরা নিজেকে একটু আলাদা ভাবে, মনে করে সে যথেষ্ট লায়েক টু টেক দেয়ার ওউন ডিসিশান।তারা সবার আগে সিগারেট খাওয়া শুরু করে।মোটামুটি খ্যাত বা অর্থ সংকটে যারা আছে তারা হয়তো সিগারেট থেকে নিজেকে দূরে রাখে।তারমধ্যেও একদল বন্ধুর হাতের থেকে সুখটান দিয়ে খাওয়া শিখে ফেলে।আরেকদল ইনকামের প্রথম টাকায় একবারে দামী ব্র‍্যান্ডে পদার্পণ করে।

সেই ক্লাস নাইন থেকে আলাদা গ্রুপ হওয়ায় একটা বড় অংশ গণিত,মানসিক দক্ষতা বা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে আজীবন দূরে থেকে যায়।বাংলাদেশে সাধারণত কম মেধাবীদের মানবিকে পড়ার প্রবণতা স্কুল কলেজেই রয়েছে।এরপর যাদের অর্থের উপর ও চাকরীর বাজার মূল্যায়নের চিন্তা আছে তারা পড়ে বানিজ্য শাখায়।আর স্কুলে ফার্স্ট সেকেন্ড হয়ে ডাক্তার হতে চাওয়ারা পড়ে বিজ্ঞানে।বাংলাদেশে মোটামুটি এই দৃশ্য শতকরা ৯৮ ভাগ।

এরপর আসি খেলাধুলায়। এদেশে ধনুর্বিদ্যা বলে কিছু আছে কিনা জানা নেই।একদুইজন শখের বশে শ্যুটিং করে।আর দৌড় তো বাচ্চাকাল থেকে নিষিদ্ধ।বাচ্চা হাত পা পেয়ে একটু দৌড়াতে নিলেই মায়েরা রা রা করে তেড়ে যায় পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাবে বলে।

আর ব্যাংক সুদের কথা বাদই দিলাম।বাংলাদেশ উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে কিন্তু একজন উদ্যোক্তার চড়াসুদে লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করার আগেই নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে হয়।আর যেকোন সরকারি লাইসেন্স পেতে হলে যে পরিমাণ ইনভেস্ট করতে হয় তাতে মাঝারী সাইজের একটা ইহুদি কোম্পানী খরিদ করা যেত বলে আমার বিশ্বাস।

আজকের দুনিয়াতে মাত্র ১ কোটি ৪০ লক্ষ ইহুদির প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের শাখায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী বলেই এ জাতির সাথে তুলনা করছি। মুসলিম হিসেবে নাহোক অন্তত দুনিয়ায় চলমান জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান তো সংগ্রহ করে নিজের ভুলত্রুটিগুলোকে শুধরে নেয়া যায়!!!

আমি বলছি না ইহুদিদের বুদ্ধিই সবচেয়ে কংক্রিট,গ্রহণযোগ্য ।।না বলছি, কারণ পৃথিবীর বায়ুমন্ডলতো একটাই।সে আমি বিড়ি খাই আর ইহুদিই খাক ধোয়া কিন্তু বায়ুমন্ডলে জমে থাকবে আর যেদিন বায়ুমন্ডল নষ্ট হয়ে যাবে ইহুদিদের নিঃশ্বাসও বন্ধ হয়ে যাবে।তাই তাদের নিজে না খেয়ে অন্যকে খাওয়ানোর বুদ্ধি স্বল্প সময়ে কাজে লাগলেও দীর্ঘসময়ে নিজের ঘাড়েও পড়বে।কিন্তু তদের জ্ঞান বিজ্ঞানে প্রসার লাভ ও নিজেকে সুস্থ সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য হলেও মুসলিম যুবকদের একবার ভেবে দেখা উচিত বৈকি।

লেখকঃ কলামিস্ট, রিভারটেড মুসলিম এবং সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

আরও পড়ুন