করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাস
আতংকিত না হয়ে সচেতন হউনঃ

আমি এই মুহুর্তে বেশি আতংকিত দেশের চিকিৎসক, নার্স ও হেলথ প্রফেশনালদের নিয়ে।
তাদের সেইফটির জন্য কোন ব্যবস্থা এখনো তেমন দৃশ্যমান নয়।
PPE ( Personal protective equipment) তাদের দেওয়া হয়নি এখনো।
সরকার টনে টনে আতশবাজি আমদানি করছেন ভারত থেকে কিন্ত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্যোগ হতাশাজনক।
চীনে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে তিন মাস হলো।
আমাদের দেশ অনেক সময় পেয়েছে কিন্ত পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

করোনা ভাইরাসটি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সহজ নয়।
দেশের দুই তিনটা ল্যাব ছাড়া এটি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নাই।
উচিত ছিলো সকল জেলা পর্যায়ে আলাদা করোনা ইউনিট প্রস্তুত করা।
চিকিৎসা সরঞ্জাম,পরীক্ষাগার স্থাপন, কোয়ারেন্টাইনের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া।

সবাই খুব বিন্দাস ভাবে ছিলেন এতদিন।
আবোলতাবোল প্রলাপ বকে গেছেন কর্তারা।

বাংলাদেশ ঘনবসতি পূর্ণ দেশ।
মানুষ সচেতন কম, আবেগী বেশি।
ইতালি ফেরত লোকজনকে বাড়িতে যেতে দেওয়া কতবড় বোকামি হয়েছে তা টের পাবেন কিছুদিনের মধ্যেই।
আর উনারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা,উনাদের জন্য কোয়ারেন্টাইনের একটা সুন্দর ব্যবস্থা করা যেতো।

অনেক অসংগতি চোখে পড়ার মত।

একজন ডাক্তার আক্রান্ত হলে তিনি যত রুগী দেখবেন, সবাই কে ছড়িয়ে দেবেন এই ভাইরাস।
নার্সদের বেলায় তাই হবে।
ইতিমধ্যে দুইজন ডাক্তারকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ডাক্তাররাও আতংকিত।
জীবনের মায়া কার নেই।

আর আপনারা যারা কথায় কথায় বিদেশী চিকিৎসার ভূয়সী প্রশংসায় এতকাল পঞ্চমুখ ছিলেন, তারাও বিদেশ যেতে পারবেন না।
দেশের চিকিৎসকদের উপর ই আস্থা রাখতে হবে।
তাই আপনাদের আওয়াজ তুলা বেশি দরকার চিকিৎসকদের সেইফটি নিয়ে।

একটা অদ্ভুত দেশ আমাদের।
একজন করোনা আক্রান্ত রুগী হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে গেলো।
সেই লোক কতজন কে ছড়িয়ে দিবেন ভাইরাসটি ভাবা যায়?
সেই লোককে এখনো কেন ট্রেস করা হয়নি??

এদিকে মুফতি কাজী ইব্রাহিম সাহেব আবোলতাবোল
বকেই যাচ্ছেন।
উনি হেইট স্পীচ দিচ্ছেন।
কাফেরদের এই ভাইরাস আক্রমণ করবে।
আর মুসলমানদের মধ্যে যারা মুনাফিক তাদের এই ভাইরাস আক্রমণ করবে।
এখন কোন ধর্মভীরু মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা নিতে কাচুমাচু করবেন।
উনি ভাববেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে করোনায় মারা গেলে মানুষ বুঝবে আমি মুনাফিক ছিলাম।
তারচেয়ে চিকিৎসা না নিয়ে মরে যাওয়া ভালো।
আমাদের দেশের মানুষের কতটা প্রকৃত ধর্মের জ্ঞান আছে, তা আপনাদের দেখা।
এই মুফতি সাহেব এর মুখটাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা উচিত।

সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
ধন্যবাদ পাবার মত সিদ্ধান্ত।
আগামী এক মাসের জন্য সব কিছুই বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে
জনসমাবেশ, বিয়ে,জন্মদিনের প্রোগ্রাম, সোশ্যাল গ্যাদারিং সব বন্ধ করে দিন।
বাড়িতেই থাকুন।
সর্দি কাশি গলাব্যাথা ও জ্বরে চিকিৎসক এর চেম্বারে না ভীড় করে বাড়িতে অবস্থান করুন।
প্রয়োজনে ফোনে ট্রিটমেন্ট নিন।
মোবাইল কোম্পানি গুলো এই ক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।

কারো সাথে হ্যান্ডশেক করবেন না।
কোলাকুলি করবেন না
হাঁচি কাশি হলে রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন তারপর সেটি ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন।
বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
হ্যান্ড স্যান্সিটাইজার ইউজ করুন।
হাত না ধুতে চোখে ও নাকে হাত দিবেন না।

বিদেশ ফেরত লোকদের সঙ্গ এড়িয়ে চলুন।
যারা বিদেশে আছেন, তাদের দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করুন।

বিদেশ ফেরত কেউ এবং তাদের পরিবার অসুস্থ হলে হটলাইনগুলোতে যোগাযোগ করুন।

আপনি নিজে সচেতন হউন।
আপনার পাশের মানুষটি কেও সচেতন করে তুলুন।

একটা দূর্যোগময় পরিস্থিতির আভাস পাচ্ছি আমরা।
প্যানিক না হয়ে সচেতন হউন।

আল্লাহ এই দেশ ও জাতিকে নিরাপদ রাখুন।
আল্লাহ এর কাছে আশ্র‍য় খুঁজুন।

 

ডাঃ জোবায়ের আহম্মেদ – চিকিৎসক ও সাহিত্যিক 

আরও পড়ুন