করোনা মহামারীতে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ নয়

রাশনা ইসলাম

বর্তমানে সমগ্র বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে যে বিযয়টি বহুল আলোচিত সেটা হলো “কোভিড-১৯”। বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর মধ্যে চলছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যুর এক ভয়াবহ প্রতিযোগিতা। বিশ্বে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে প্রায় অর্ধকোটি মানুষ, মৃত্যু হয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষের। বর্তমান বিশ্বে করোনাভাইরাস এক ভয়াবহ মহামারী রুপ ধারন করেছে। করোনাভাইরাসের সচেতনতা (লক্ষণ, প্রতিরোধ, প্রতিকার) সম্পর্কে অনেকেই লিখছেন এবং তাঁদের মূল্যবান মতামত, তথ্যসমূহ প্রতিনিয়তই প্রচার হচ্ছে। বিশ্বের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞগণ, অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ তাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনা মোকাবেলায় প্রতিষেধক/প্রতিরোধক তৈরিতে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও চলছে করোনাকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা।

অপরপক্ষে, আমাদের তরুণসমাজের একটা অংশ করোনাভাইরাসকে হাস্যকর করে তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। করোনা ভাইরাস নিয়ে তৈরি করছে হাসির ভিডিও, জোকস, ব্যাঙ্গাত্বক স্টিকার ,হাস্যকর কথপোকথন ইত্যাদি। আমাদের সমাজেরই কিছু মানুষ এতে লাইক, কমেন্টস, শেয়ার করে ছড়িয়ে দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এমনকি সংক্রমিত ব্যাক্তিদের নিয়েও অনেকে হাসি-তামাশা করছে, যা মোটেও সমীচীন নয়। প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে নিয়ে যারা হাসি-ঠাট্টা করছে, তাঁদের জানা উচিৎ যে তাঁদের জীবনও এখন সংকটে রয়েছে, তারাও করোনা ঝুকির বাইরে নয়। করোনা ভাইরাস নিয়ে আর উপহাস নয়, বরং জনসচেতনতায় এমন ভালকিছু করুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন/প্রচার করুন, এসময় সমাজের অসহায় মানুষগুলোর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন, যেটা আপনার, আমার, সকলের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে। মিথ্যা কোনো তথ্য প্রচার করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবেন না। আসুন আমরা সবাই সমাজের নেতিবাচক কাজগুলোকে নিরুৎসাহিত করি, ভাল কাজে একে অপরকে উৎসাহিত করি। করোনা যোদ্ধাদের সম্মান করি এবং আক্রান্ত ব্যাক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হই। এই করোনাকালীন সময়ে নিজে ভাল থাকি, অন্যকেও ভাল থাকতে সহায়তা করি।

লেখকঃ রাশনা ইসলাম, শিক্ষার্থী (৩য় বর্ষ), মাক্রোবায়োলজি বিভাগ, হেনরী ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, সিরাজগঞ্জ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত)

 

আরও পড়ুন